ভূত দেখা
লেখক : সঞ্জিত রায়
ছোট বেলায় গিয়েছিলাম আমার মামার বাড়ি,
সেথায় আমি দেখেছিলাম বিশাল হানাবাড়ি।
লোক মুখে শোনা সেথায় অনেক ভূতের বাস,
সকাল বেলায় হট্টগোলে করত প্রাতঃরাশ।
আমরা ক’জন প্ল্যান করিনু যাব দিনের বেলা,
দেখব সেথায় কেমন ক’রে ভূতে করে …
ছোট বেলায় গিয়েছিলাম আমার মামার বাড়ি,
সেথায় আমি দেখেছিলাম বিশাল হানাবাড়ি।
লোক মুখে শোনা সেথায় অনেক ভূতের বাস,
সকাল বেলায় হট্টগোলে করত প্রাতঃরাশ।
আমরা ক’জন প্ল্যান করিনু যাব দিনের বেলা,
দেখব সেথায় কেমন ক’রে ভূতে করে …
মেয়েটি বলল, তুমি ঘর বাঁধতে পারো?
বাবুই না ঘুঘু, দোলাচলে তখন আমি
বাবুইয়ের বাসা! অতিরিক্ত সুন্দর
মা আলপনা দিত, নিখুঁত সীমানায় বাঁধা
গুঁড়ো চালের গন্ধে বিশাখার উম
অথচ আমার হাতে বিস্তর প্রতিবন্ধ
চুম্বনের ঢেউয়েও কাঁটা ছড়ায়…
আকাশ বাতাস জল মাটি আর পৃথিবীর ধূলিকণা
চেনো কি আমায়? তোমাদের কাছে হয়ত আবর্জনা
তাই দূরে থাকি, সরে থাকি ভয়ে, সইতে পারিনা ঘৃণা
শুধু আরশিতে যখন তাকাই বেজে ওঠে মনোবীণা
এই আলো এই জীবনের কাছে …
প্রত্যাশার গভীরে হাত রেখে
ফেলে এসেছি একটি আশ্চর্য সকাল
নদীর ঢেউ ফিরে ফিরে খুঁজেছে
দু’-চারটে আয়তক্ষেত্র এবং একটি তীর
মধ্য বলাকা আজ আর শ্বেত নয়
তার পাখায় এবং পালকে
রাত্রির ধূসর দাগ
তবু ঐ তীর …
আলোর মতো উড়ে বেড়ায়
ঈশ্বরীয় কণা
বুকের শূন্যে ঠোকা খেয়ে
মেলে স্বচ্ছ ডানা
যেই ফুলকে আঁকড়ে ধরে
চিকন ডালে-ডালে
সেই ফুলকে দিব্য জেনো
স্বর্ণ চাঁপা বলে।
চোখের থেকে ফিরে গিয়ে
আকাশ মাঝে জেনো
যেথায় উজল জ্বলে-…
তাঁর রূপের ছটায় চলকে ওঠে বুক।
হাসির ছটায় হৃদপিণ্ডে সুনামি যায় বয়ে,
অদৃশ্যে মনোকষ্ট নিভৃতে নেই সয়ে,
হৃদয়মাঝে নিত্য বাড়ে সুখ।
প্রভাতরবি তাকে ছুঁলে হিংসায় মরি আমি
গমন পথে চেয়ে থাকি হৃদয় টলোমলো,
আসলে সেজন ঘুচিয়ে …
এই যে কিসব দূরত্ব রাখেন
সহজ হয়েও সহজে ধরা দেন নাহ।
অথচ আমি সরল হয়ে বসে থাকি
একটু আদরে পায়ের শিয়রে বসে পড়ি।
যেমন এক টুকরো বিস্কুটের আশায়
ছুটে আসে পথের ছোট্ট কুকুরছানা,
আমি কি …
অনির্দেশক অনিকেত তবুও অক্ষর বার্তা
তারে অঘোরে ঘেরবন্দি করে বারে বারে
কোথাও কি প্রদীপ জ্বলে মগ্ন হোমানলে!
যাজ্ঞিক গোত্রহীন হ’লে অক্ষর স্বয়ং ব্রহ্ম।
প্রমথ ডাকিনীরা নৃত্যে মুদ্রায় সংকেতে
রক্তঅস্থিমজ্জা হৃদয়তন্ত্রী পাকে পাকে
জড়িয়ে এনে আহুতির আয়োজন …
আসলে কি বল তো কক্ষনও বুঝিসনি তুই,
যার নামে একদিন ভোরবেলায় মুঠো ভর্তি করে শিশির কুড়িয়েছিলিস,
তোর ব্যথার পাশে তো শুধু তাকেই লাগবে।
বৃষ্টির দিনে দক্ষিণের জানলা খুলে যার জন্য স্নিগ্ধ হয়েছিলিস,
দুপুরের মনখারাপে তো …
মাঝে মাঝে একটি তারা উঁকি মারে জানলায়,
টলোমলো পায়ে আঁধার পেরিয়ে সারারাত।
ভোরের কাকনিদ্রায় দেখি তারে মনে হয় যেন দু’হাত দূরে,
হঠাৎ মিলিয়ে যায় ঘুমপাড়ানির দেশে,
নিস্তব্ধ চারিদিক
শব্দগুলো সব শুষে নিয়ে নিঃসঙ্গ রাজপথ ,
শুয়ে …
সুধানিশির মেঘপাতায় তোমার নাম লেখা,
চন্দ্রদীপ জ্বেলে রাখে আমার অন্তরের গোপন বারান্দা।
শিউলিবেলা ঘুরে এসে ছুঁয়ে যায় তোমার পদচিহ্ন,
আমার বুকের কাব্যবনে জেগে ওঠে রঙফুলের ঢেউ।
তোমার কণ্ঠে ঝরে পড়ে নদীস্বরের মধুবৃষ্টি,
যা ধুয়ে দেয় সব …
কে তুমি লুকিয়ে গেলে আমায় দেখে
রাস্তাধারে গাছের আড়ালে,
চেনো নাকি আমায় তুমি আগে থেকে
কিংবা অচেনা ভেবে লুকালে।
আমি দেখেছি বলে মনে পড়ছে না,
কোথায় তুমি থাক;
আচ্ছা আমি ডাকছি তোমায় মা বলে…
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
