কেমন আছো বাউলডাঙা

কবি: স্বপন নাগ

কেমন আছো বাউলডাঙা?

সন্ধে এত তাড়াতাড়ি
কাস্তেতে ঘাস নিড়িয়ে মাটি
শুকিয়ে ওঠার আগেই আঁধার
চুপিসারে আসছে নেমে
দল বেঁধে সব কিচিরমিচির
নাম না জানা হাজার পাখি
অস্থায়ী তার নরম বাসায়
দুধেল গাইটি গোয়ালমুখো
সঙ্গে বাছুর ছটপটে সে…

চার টুকরো অসময়

কবি: সমাজ বসু


দিন গভীর হচ্ছে–
তুষ জ্বলছে বুকে,বাতাসে অদৃশ্য আগ্নেয়কণা
যেন সবাইকে ছুঁয়ে আছে নীল আতঙ্ক।

নিঃশব্দ সময় জুড়ে —
ভয়ের পাথর তুলে তুলে আড়াল বৃত্তে আছি
বড় স্বপ্নহীন।বড় অর্থহীন।

একে অপরকে ছুঁয়ে থাকার
অলীক অস্পষ্ট মূহুর্তের অণ্বেষন
চোখের …

জলে ভিজে

কবি: মিত্রা হাজরা

মেঘ যদি ঝর ঝর ঝরে পড়ে
কাক ভিজে হয় যদি দর্শক,
যুঁই আর কনকচাঁপার ফুল
ঝরে পড়ে আঙিনায়
মন হয় উদাস বাউল।

জীবনের ক্লান্তি নেয় বিরাম
স্মৃতির কাঁথায় কত কারুকাজ
রং মিলিয়ে রিফু, জোড়াতালি
স্বপ্ন রঙিন পথ, …

দুর্গরূপেণ

কবি: ঋক ঋকমন্ত্র

বিদ্রোহী হোক সকল নারী,
মা দুর্গার মতো!
সকল অসুর অত্যাচারের
যদি নিধন হতো,
তবেই পেতো মুক্তি নারী,
কন্ঠে ধরে বিষ;
হাতের ত্রিশূল রক্ত মেখে
হাসতো অহর্নিশ!

নিয়মনীতি, সংস্কৃতি ―
বড়ই যে একপেশে!
আফগানে যে বোরখা পরে,
হিজাব …

খেলা

কবি: নির্মাল্য মণ্ডল

বারবার পড়ন্ত বেলা, পশ্চিমে ঢলে পড়া সূর্য
আর নারীর কনে দেখা আলোয় গোধূলি লগন আসে

যতনে সাজিয়ে রাখা শাড়ি খুলে রোদে মেলে ধরা
নিজস্ব উচ্ছ্বাস। আমার সম্মুখে শুধু ধুলো ও বাতাস

উষ্ণ আপ্যায়নের আড়ালে বিজ্ঞাপনী প্রচারের কৃতকৌশল…

রাগ করেছি আমি

কবি :  কৌস্তভ দত্ত 

বাবা আজ কাজে যায় না অনেক দিন।
আমার আর ভাইয়ের স্কুলও বন্ধ অনেক দিন।
বাদাম গুলো আমি আর ভাই ভাগ করে খেয়েছি, 
ঝাল মটর গুলো আমি একা, খুব ঝাল তো তাই ভাই কে দিই নি ।…

নায়িকা

কবি: কল্যাণ চক্রবর্তী


দুঃখ ছিল। আনন্দ ছিল।
বনপথের কষ্ট সাধ জাগাতো…
মাদকের কোনো বিকল্প ছিল না।
ঘুমঘোরে লোক দেখানো চুপকর্ম…
হাটে গিয়ে —
মাংস বেচে দিন চলত প্রেমজ সুখে।
মঙ্গলকাব্যের নায়িকা…
মাটির গর্তে আমানি জমিয়ে রা।।।
এটাই জানতাম…


লেখক পরিচিতি: 

মেঘচিল

কবি: ময়ূখ  হালদার

উড়ন্ত মেঘচিল
আয়নায় তিন-জ পেরেকের দৃষ্টি
ভুরুর ডালে বসে একটা দাঁড়কাক
সকাল থেকে ডেকেই চলেছে
কানে কানে নালিশ জানিয়েছিল যে মেয়েটা তার শরীর মোমবাতির মতো গলে পড়ছে আমার ডান গাল বেয়ে
আর এখন আমার ঠোঁটের ওপর সেই …

সমাপ্তি

কবি: নির্মাল্য মণ্ডল

একটি পাখির ডাক ও ভোর

কোলাহলে দিনের পতন শুরু

দূরে শ্মশানে শব, নীরবতা
আগুনের চিৎকার ওড়ে
বিষণ্ণ তুলো আর মহাকালের আস্তানা

তোমার চোখের পাতায় ঘুম
কুহকের রোদ, জুঁইফুল

তবু পাখির ডাক — নদীর স্রোত
ক্ষয়ে যাওয়া প্রত্ন …

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দুটি কবিতা

কবি: সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইচ্ছেপোশাক, চাঁদ রঙের সন্ধে

যখন একা লাগে
নিজেকে উড়িয়ে দিই
ফুরিয়ে দিই…
আর কখন আমার
কথাজন্ম
টুপ করে গিয়ে বসে পড়ে
তোমার ডিপ ইউয়ের নীচে…
তুমি না-জেনেই ভাসিয়ে দাও সব!

তোমার চুলের ডগায় লেগে থাকা
অল্প-একটু স্বপ্নজল …

তিলোত্তমা

কবি: কৌস্তভ দত্ত


প্রাণবন্ত চঞ্চল মেয়েটা আজ যেন কেমন
বড্ডো চুপচাপ হয়ে গেছে।
আজ সে আর হাসে না, ছোটে না,
গলা জড়িয়ে ধরে অভিমানী চোখে কাঁদে না।
সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে সাহেব যখন এসেছিলো তার কাছে —
তখন সে …

মাগাছি

কবি: সুকুমার খাঁড়া


বেজন্মা শব্দটার মুখে কালি লেপেছি আমি —
জন্মটাই বাস্তব, লৌকিক । জন্মদাত্রী নিত্য, সত্য।
বাকিটা মুখোশের ও ভাষার অনৈতিক কারসাজি।

সোনাগাছি’র সোনা’টা মুছে লিখেছি — মাগাছি
মা’য়েরা দাঁড়িয়ে পারিজাত হাতে বেশ্য বাবাদের জন্য
ওদের শরীর থেকে ছেঁকে …

প্রথম বাইক কেনা

কবি: শর্মিষ্ঠা দেবযানী

দু’চাকার বাইকটাকেই ভেবেছিল উড়োজাহাজ
হরদম চালাতে লাগল দু’দিকে দুটো ডানা মেলে
উচ্চারণ না-করে বই পড়ার মতো
ঠিক টপকে যেতে লাগল রাস্তার বাম্পারগুলো
হতাশা তখন কোথায় ?
সে তো উড়ে গিয়েছে ফিফথ্ গিয়ারে
বইগুলোকে তখন মনে হতে লাগল…