লেখক : অমিতাভ প্রামাণিক
আমাদের প্রিয় বলাইদা, সকলে ওনাকে বুলাদা নামেই চেনেন। ভদ্রলোকটিকে দেখেছি কারও সাতে-পাঁচে থাকেন না। যে ফ্ল্যাটে থাকেন, তারই নীচে একটি ছোট দোকান আছে ওনার, রোজ সকালে দোকান খোলেন উনি। ঐ ফ্ল্যাটেরই একদল বখাটে ছেলে প্রতিদিন সকালে দোকানের সামনের রাস্তায় ক্রিকেট খেলতে শুরু করে, আর প্রায়ই বল ঢুকে যায় বুলাদার দোকানে। স্বাভাবিকভাবেই উনি খুব বিরক্ত হন। প্রতিবারই বারণ করেন ছেলেগুলোকে, তবে কে কার কথা শুনছে বর্তমান দিনে! তারা চলে তাদের খেয়ালে। আর এদিকে বুলাদা দোকানে বসে মনে মনে গজগজ করতে থাকেন, কাউকে কিছু বলতে পারেন না। এ এক নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
একদিন সকালে বুলাদা মনে মনে ঠিক করলেন, আজ দোকান খোলার আগে এর একটা ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। ফ্ল্যাটের মেনগেটের কাছে একটা লাঠি নিয়ে দাঁড়ালেন সকাল সকাল। ছেলেগুলো নিত্যদিনের মত ব্যাটবল নিয়ে ফ্ল্যাটের নীচে নেমে আসতেই বুলাদা লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করলেন। “বাবা-গো” “মা-গো” বলে ছেলেগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। মেনগেটে লাগানো ছিল ফ্ল্যাটের সিসিটিভি, যেটা সেই সময় বুলাদার মাথায় ছিল না। পুরো ঘটনাটা সিসিটিভি ফুটেজে রয়ে যায়। ছেলেগুলির অভিভাবকরা ঐ ফুটেজ পুলিশকে দেখিয়ে অভিযোগ করেন এই বলে যে, বিনা কারণে বুলাদা তাদের ছেলেদের মেরেছে, এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় সত্যই বুলাদা ছেলেগুলোকে মারছে। তার ভিত্তিতে বুলাদার সাজা হয়।
সিসিটিভিতে ঘটনার ফুটেজ রয়ে যায়, তার অন্তর্নিহিত কারণ থাকে না। থাকলে আজ বুলাদা সাজা পেতেন না!
লেখক পরিচিতি : অমিতাভ প্রামাণিক
Librarian, R.I.O. Medical College, Kolkata 700073

