গল্পের জানালা

লেখক : সুঞ্জনা

কোন এক জানালায় হাঁপিয়ে যাওয়া মহিলাকে জল খেতে দিচ্ছেন আরেক মহিলা।
কোন এক জানলায় মন খারাপ করে বসে থাকা প্রেমিকা।
পরক্ষণেই হৈ হৈ করতে করতে যাওয়া পরিবার।
আবার কখনও পিঠে ব্যাগ বেঁধে নতুন শহরের উদ্দেশ্যে রওনা।
কখনও বাড়ি ফেরার আনন্দ।
একটা করে জানালা পেরিয়ে পেরিয়ে যায়।
গল্পগুলো টিভির চ্যানেলের মত বদলে যায়।
এই ট্রেনের জানালা কেমন যেন বইয়ের পাতার মত।
আবার কখনও বা জীবনের নানা অধ্যায়।
যে ট্রেন মিস হয়ে গেল,
বা যে ট্রেনটা ইচ্ছে করে ছেড়ে দিলাম।
স্টেশন ছাড়ার সময় তার জানলাগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় গল্পগুলো বড় চেনা।
জীবনের কোন না কোন স্তরে ওই গল্প আমরা সবাই দেখেছি।

জানালার বাইরে থেকে দেখতে পাওয়া গল্পে আমরা দর্শক।
আর আমরা বুঝি, দর্শক হয়েই ভালবেসে ফেলি একসময়।
সব গল্পে চরিত্র হতে ইচ্ছে করে না।

ট্রেনের জানালা দিয়ে যে প্রকৃতি দেখা যায়, যে পাহাড়, তার চূড়োর বরফ, ছোট্ট একটা খামারবাড়ি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পশুপাখি,
সেই ট্রেনেরই ভেতরে কুঁচকে যাওয়া দু’টো হাত একে অপরকে চলন্ত ট্রেনে সাবধানে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।
আমি যে ভাষা বুঝি না, সেই ভাষার বাধা পেরিয়ে ঐ ভালবাসার গল্পে আমি মোহিত হয়ে যাই।
ট্রেনের জানালার ভেতর তখন আমায় টানে।

ভাগ্যিস সেই গল্পে আমি নায়িকা নই।
মাঝে মাঝে দর্শক হতে হয়।
ঘ্রাণ নিতে হয় আশপাশে ঘটে যাওয়া গল্পের।

যে ট্রেন জনপদ, জঙ্গল, পাহাড়, খামার, কারখানা, ঝুপড়ির বুক চিরে এগিয়ে চলে,
চোখের সাথে আপেক্ষিক গতিবেগের অঙ্ক কষে ফেলে দিতে হয় সেই গল্পগুলো।

ভাগ্যিস সেই গল্পে আমার কোন চরিত্র নেই।

যে গল্পে আমার চরিত্র নেই,
সে গল্পের আমি পাঠক হতে পারি।
যে গল্পে আমার কোন ভূমিকা নেই,
সে গল্পকে আমি কাটাছেঁড়া করতে পারি।

যে গল্পে আমার নাম নেই, আমার ছোঁয়া নেই,
সে গল্প আমি আমৃত্যু নিশ্বাসে প্রশ্বাসে মেখে নিতে পারি।

এই গল্প ভালবাসার হোক, গল্প জুড়ে যাওয়ার হোক, এই গল্প বিষাদের শেষে হর্ষের হোক।
এই গল্প মায়ের নরম পরশের হোক।
এই গল্প আগামীর হোক।
এই গল্প উজানের হোক।
এই গল্প পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের হোক।


লেখক পরিচিতি : সুঞ্জনা
একটা এলোমেলো খামখেয়ালী মানুষ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up