৯০ দশকের বিলুপ্তি

লেখক : ইমু

৯০ দশকের দিনগুলো কতো ভালো ছিলো তাই না? হ্যাঁ ভালো ছিলো খুব ভালো ছিলো।যুগের পালাবদলে সে দিনগুলো হারিয়ে গেছে। সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক প্রথা,রীতিনীতি, সংস্কৃতি। এখন তো আধুনিক যুগ,ওসব ৯০ দশকের কথা ভাবার সময় নেই কারো। আমি নিতান্তই ভাবি ৯০ দশক নিয়ে। যদিও আমি ৯০ দশকের পরে জন্মেছি,তবুও ৯০ দশকের কথা দাদি,নানিদের মুখে বেশ শুনেছি। মায়ের কাছেও ছোটোবেলায় অনেককাহিনি শুনেছি তাদের সময়ের সংস্কৃতি নিয়ে।আগেকার মানুষ ততটা চালাক ছিলো না। গ্রামের মানুষগুলো ছিলো অতি সাধারণ আর শহুরে মানুষ গুলোও ততটা আধুনিক ছিলো না, যতটা বর্তমানে হয়েছে। আহ্ কত ভালো ছিলো আগেকার দিনগুলো।মানুষের মধ্যে হিংসা, দেমাগ ছিলো না বললেই চলে। আমি ২০০৬ এ জন্মগ্রহণ করেছি।তখন যতটা সাধারণ পরিস্থিতি দেখেছি এখন তার বিন্দু মাত্রও খুঁজে পাবো না কোথাও। আমি গ্রামের মেয়ে, ওসব শহুরে অভ্যাস সম্পর্কে ততটা ধারণা নেই বাপু। আসলে ছোটোবেলাটা খুবই আনন্দের। চাইলেও ছোটোবেলার স্মৃতি ভোলা সম্ভব না। আমি ছোটোবেলায় যেসব সংস্কৃতি, খেলাধুলার সাথে পরিচিত হয়েছি এখনকার ছেলেমেয়েরা আবার সেটার সুযোগ পাচ্ছে না।কেননা সময় পাল্টাচ্ছে, দেশ আধুনিক হচ্ছে, বিজ্ঞানের প্রসার ঘটছে। আমাদের সময়ে এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার অনেকটা কম ছিলো।শহুরে ধনী লোকরা ব্যবহার করতো হয়তোবা। যদিও জোর দিয়ে বলতে পারছি না। আগেকার দিনে আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করে মক্তবে আরবি শিখতে যেতাম, আর এখনকার বাচ্চারা সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা বা মায়ের এন্ড্রয়েড ফোনটা খোঁজে কার্টুন দেখার জন্য। আমাদের সময়ে টেলিভিশনের প্রচলনটা ছিলো, যদিও দেখার সুযোগ পাইনি ততটা।আর এখন বাচ্চারা সারাদিন ভিডিও গেম, কার্টুনের নেশায় আসক্ত। আমাদের সময়ে বন্ধুরা সবাই মিলে এক সাথে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করতাম কিন্তু এখন বাচ্চাদের মাঠের চারপাশে খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে ঘরের মধ্যে এক কোণায় বসে হয়তো কার্টুন দেখছে নয়তো গেম খেলছে। বাবা মায়ের পর্যাপ্ত শাসনের অভাবে এই বাচ্চা গুলো ফোন ও টেলিভিশনের নেশায় চরম ভাবে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন এসব দেখে নিজে নিজে ভাবি, ইসসস আগে আমাদের সময়টা কত ভালো ছিলো। আমিও এখন বড় হয়ে গেছি সময়ের টানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কর্মে জরিয়ে পড়ছি। কিন্তু আমার এইসব আধুনিক সংস্কৃতি মোটেও ভালো লাগে না।বন্ধু গুলো ও আগের মতো নেই এখন।যে যার মতো করে জীবন সাজিয়ে নিয়েছে। অনেক ভালো বন্ধুদের সাথেই এখন যোগাযোগ নেই।যদিও সোশ্যাল সাইটে তাদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ সহ আরো  অনেক একাউন্ট রয়েছে। তাদের ভাবভঙ্গি নিতান্ত বদলেছে। কিন্তু আমি নিজেকে এই আধুনিক যুগে এসেও যেনো বদলাতে পারিনি,এখনো সেই ১৫ বছর আগের স্মৃতির মধ্যে ডুবে আছি। ছোটবেলায় খুব বলতাম, কবে যে বড় হবো। আর এখন সেই ছোটোবেলাটাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মনটা আকুল হয়ে আছে।যদিও সেটা সম্ভব না, কিন্তু তবুও হৃদয় হতে আশাটা যেনো দূর হচ্ছে না। যে যাই বলুক ৯০ দশকের দিনগুলো সত্যি সেরা সময় ছিলো। আধুনিক যুগ যেনো সবকিছু ওলটপালট করে দিলো। 


লেখক পরিচিতি : ইমু
আমি ইমু। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলাতে থাকি। আমি তাসলিমা মেমোরিয়াল একাডেমির ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।