শেষ পদচিহ্নে
লেখক : সাধন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে
কথা বলতে গেলে
ছন্দ আটকে যায় চোদ্দ অক্ষরে
থমকে যায় পর্ব।
শুধু থাকে – দিনলিপির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা
পূর্বপুরুষরা যে স্বপ্ন রেখে গিয়েছেন
সেখানে ধুলো জমে,
সেই ধুলো সরানোও হয় না …
আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে
কথা বলতে গেলে
ছন্দ আটকে যায় চোদ্দ অক্ষরে
থমকে যায় পর্ব।
শুধু থাকে – দিনলিপির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা
পূর্বপুরুষরা যে স্বপ্ন রেখে গিয়েছেন
সেখানে ধুলো জমে,
সেই ধুলো সরানোও হয় না …
সেই যে অবহেলা আমাকে গ্রাস করল, তারপর কেউ আর আমাকে ভালবাসেনি।
ভালবাসার কথাও কেউ কোনদিন বলেনি।
“তোমাকে পছন্দ করি” এমন কথাটাও কারও মুখে কখনও শুনিনি।
মাঝখানে কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর।
কেটে গিয়েছে কতগুলো বসন্ত, শীত …
উপলব্ধির শেষে শান্তি আসলে
কবিতার পাণ্ডুলিপির অক্ষর
ডানা মেলে ছন্দের আকাশে
তিন ভুবন দূরে দাঁড়িয়েও
দেখা যায় সেই উড়ান
তবু পদ্মের পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে
পৌঁছাতে হয় অন্দরমহলে
সেই অন্দরমহলেই সুখের বৃষ্টি
আমি সেখান থেকেই চলে …
চারিদিকে থৈথৈ মানুষের ভিড়,
মাঠ ঘিরে—
বড়, বুড়ো, চাচা-চাচি, কিশোর-কিশোরী, বাচ্চারাও —
বল পায়ে পড়তেই ঝড়ের বেগে
ডান পা, বাম পা,
বিশাল তাবড় তাবড় রক্ষীবাহিনীকে
চকমা দিয়ে বল সোওওজা নেটে…
হৈহৈ রব ! “গোওওল !”…
আমি যদি হতেম কোন
নামিদামি নবাব,
কেউ কিছু বললে দিতাম
দাঁতভাঙা জবাব!
কাজ না থাকলে যেমন
দাঁত কেলিয়ে হাসে,
দাঁত ব্যথায় অনেকেই
নয়ন জলে ভাসে!
পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্ন
দাঁত বসানো যায় না,
দাঁতকপাটি লাগলে কারও…
অনেকদিন দেখিনি তোমায় তখন সেই অচেতনকাল
ঊষার তমসায় নিঃশব্দে এসে প্রতিবাদহীন ছদ্মরাক্ষস
গুটি গুটি পায়ে উঠোনে মেলা পরিশ্রমের সোনালী ধান
একটু একটু করে গ্রাস করছিল রক্তলাল সূর্য উত্তাল।
এখন আর সে দিন নেই যে শুধরে নেব …
বুঝিতে না পারে রাধা এ সমাজ আমার ভালবাসা,
ভালবেসে হ’লে তুমি কলঙ্কিনী ও আমার রাধা!
ভালবাসার সাতকাহনে বাঁধিলাম আমি বাঁশির সুর,
ছন্দহীন জীবন আমার, তুমি বহুদূর!
বিচ্ছেদের এই দহন জ্বালা সহিতে না পারে এ হৃদয়,
আজ …
শহরের রাজপথে কেন এত মিছিল?
অভয়ার বিচারের দাবি নিয়ে, নাকি ব্যাক্তিগত লোভ?
লক্ষ লক্ষ মায়েদের এ নিজস্ব মাটি।
এ মাটির গন্ধে শুধু রক্তের দাগ, তবুও বসন্ত আসে–
কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলেরা আজও ফাগুন আনে।
একদিন ওরাও থামবে …
আমি যে নারী, এটা কি কখনও ভুলে যেতে পারি,
তুমি কখনও কোনরকমের সম্মান পাওয়ার অধিকারিণী হতে পার না,
প্রয়োজনীয়তার শিরোনামে সবার ঊর্ধ্বে থাকলেও,
তোমার মূল্যনির্ধারণের ক্ষেত্রে,
তুমি সবার জীবনের সূচীপত্রের তালিকায় শেষে অবস্থান করবে,
যেখানে তোমাকে …
কোন এক জানালায় হাঁপিয়ে যাওয়া মহিলাকে জল খেতে দিচ্ছেন আরেক মহিলা।
কোন এক জানলায় মন খারাপ করে বসে থাকা প্রেমিকা।
পরক্ষণেই হৈ হৈ করতে করতে যাওয়া পরিবার।
আবার কখনও পিঠে ব্যাগ বেঁধে নতুন শহরের উদ্দেশ্যে রওনা।
কখনও …
তোমার স্বপ্নের রঙগুলো আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে
দক্ষিণ হাওয়ায় ডানা মেলে উড়ছে নীলাকাশে
ক্যানভাসে ঝরে পড়ছে রামধনু হয়ে…
বেনীআসহকলা কেমন একটু একটু করে
পালক ছড়িয়ে দিয়েছে চারিদিকে।
পেঁজা তুলোর মত মেঘকে নিয়ে
দূরের পথে রওনা দিয়েছে অজানার …
প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনি,
স্বপ্ন
আশা
সম্পর্ক
বিশ্বাস…
ভেঙে যায় কাচের মত।
আপন খেয়ালে নদী দু’কুল ভাঙে রোজ,
শহরে ভাঙে
পুরনো বাড়ি, নতুন সেতু,
পথের খোঁজে ভেঙে যায় পাহাড়,
গাছের ডাল ভাঙে
সভ্যতার কষাঘাতে,
ভেঙে যায় …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
