চল্লিশটা
লেখক : জয়তী মুখার্জি
চল্লিশটা বসন্ত, শীত পেরিয়ে আজ প্রান্তিক।
দশটা শৈশব, তিরিশটা যৌবনও গত ।
দিনের শুরুটা বেশ অন্য নতুন লাগে
একেক ডাক একেকটি শাড়ির মত।
চল্লিশটা বসন্তের হলদে পাতায় খেলত রামধনু।
শীতের কোল্ড ক্রিম, মোজার উষ্ণতার আরাম,
লাইন …
চল্লিশটা বসন্ত, শীত পেরিয়ে আজ প্রান্তিক।
দশটা শৈশব, তিরিশটা যৌবনও গত ।
দিনের শুরুটা বেশ অন্য নতুন লাগে
একেক ডাক একেকটি শাড়ির মত।
চল্লিশটা বসন্তের হলদে পাতায় খেলত রামধনু।
শীতের কোল্ড ক্রিম, মোজার উষ্ণতার আরাম,
লাইন …
ভাষার মিছিলে হারিয়ে যাওয়া সেই প্রিয় প্রেমিকের মুখ,
আজও খুঁজে ফেরে প্রেমিকা তার—বুকের ভেতর গভীর অসুখ।
রক্ত দিয়ে লিখে দিয়ে গেছে যে অমর অক্ষরের নাম,
বাঙালির হৃদয়ে লেখা আছে তার অমূল্য আত্মত্যাগের দাম।
বিদ্রোহী সেই তর্জনী …
তোমরা যে বলো—
‘উত্তরণ হোক,
নাম-ডাক, যশ-খ্যাতি হোক।
এমন কিছু করো,
যাতে ছাপ রেখে যেতে পারো পৃথিবীর এই বুকে।’
তবে গহীন মন কেন বারবার বলে—
‘চলো ফিরে যাই,
নিভে যাই দেহের ভেতরে,
নীরবে, গোপনে।
পৃথিবীর …
এই তো একটু আগেই,
বিকেলের সূর্যটা চলেছিল সাথে সাথে,
বন্দেভারতের বড় জানালা দিয়ে
দেখেছি খেজুর গাছের ফাঁকে ফাঁকে।
হঠাৎই মুখ লুকিয়ে অদৃশ্য হল সে,
না বলেই হল অস্তমিত!
দায় নেই তার কারও কাছে,
শুধু খোলা প্রকৃতির …
বই দেখলেই মনে হয় থেকে যাই
একটু দেখি, একটু পড়ি, পাশে রাখি
গন্ধ নিই নাকের কাছে এনে।
ঝির্ঝিরে বৃষ্টিতে কাচের ওপারে
আবছা এক ধান জমি ভিজছে
নিবিড় এক সোঁদা গন্ধে
এক বুক বাতাস টেনে নিয়ে
ঈশ্বরকে …
প্রশ্নমালার কাঠগড়ায় দাঁড়ায় সত্তা
ইতিহাসবর্জিত, সাক্ষীবিহীন, নিজস্ব চেতনার অন্তঃপ্রাঙ্গণে
ন্যায় বিধান, আত্মানুসন্ধানের অবশ্যম্ভাবী অনুশাসন।
প্রশ্নেরা উচ্চারিত শব্দ, অস্তিত্ববিদারী প্রতিসংস্কার,
চিন্তার গভীরতম স্তরে অবগাহন ছিন্ন অহংকারের বহুপল আবরণ।
কাঠগড়া নির্মিত আকাঙ্ক্ষা পরিতৃপ্তির মধ্যবর্তী অতল ফাঁকে,
প্রত্যাশা দীর্ঘকাল …
ঐ শোন শোন চরিদিকে ভাই, বাজল বিষাণ ঘোর,
আঁধার চিরে জাগছে আবার রক্তমাখা ভোর!
মসনদে ঐ জাঁকিয়ে বসে শোষকদলের ভিড়,
লুঠছে যারা বাংলা মা-কে, হানছে বুকে তীর।
শান্তি-সুখের পায়রাগুলো ভয়েতে মরে ত্রাস,
রাজনীতির এই রঙ্গমঞ্চে শুধুই …
এই যে ঊর্ণজালে রাখা প্রেম রতি
রাধে, সব তবে জল উহ্য প্রেমিকের প্রতি!
হায় মুখে দিচ্ছ সোমরস, বুকে মারছ ছোরা!
ভুলে যাওয়া ছাগজন্ম, জানছে না সন্তরা।
দোঁহার মরশুমে এ কেমন সহাবস্থান? এ কেমন ক্ষত?
শূন্য বসতে …
সময়ের দেহে মরচে পড়েছে
জং ধরেছে কবিতার শরীরে;
কোথাও কোন প্রশ্ন নেই, কোন জবাবদিহি নেই,
সবাই বেশ খুশি-খুশি, শপিং মলে মিষ্টি মিষ্টি গন্ধ।
এখনও ভিটেহীন মানুষ ফুটপাতে তাঁবু খাটায়
ছেঁড়া পলিথিনের, কার যেন আবার খিদে পায়!!…
১.
লখনার মায়ের শরীর ধ্বসেছে
বাড়ি বাড়ি, আর বাসন, সে মাজবে না;
ছাইয়ে ঢাকে নিভন্ত অঙ্গার-
নিজেকে আর কিছুতেই জানবে না।
২.
কোনও লেখাই পোড়ায় না আজকাল,
পোড়ায় না বুকের ভেতরটা!
ঠিক যেন
আধ-পোড়া সিগারেট
থেঁতলাবে …
মিনতি করি আমায় যেতে দাও
মিনতি করি আমায় কাছে টেনে নাও
মিনতি করি আমার দিকে ফিরে তাকাও
মিনতি করি এবার আমাকে বিদায় জানাও
জীবন অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে নষ্ট
নেওয়া যায় না আর এত কষ্ট
লড়াই …
বসন্ত এসেছে, বসন্ত!
শিমূল আর কৃষ্ণচূড়ায় বাংলার পথের চারিপাশ আজ সুস্নিগ্ধ।
তবে কি ১৯৫২-তে স্নিগ্ধতা ছিল না?
রক্ত দিয়ে সাজাতে হ’ল বাংলার পথকে!
এই একুশে ফেব্রুয়ারিতে বুলেটের সামনে বুক পেতে,
বাংলার দামাল ছেলেরা ভয় করেনি …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
