দণ্ডিত
লেখক : পূর্বিতা পুরকায়স্থ
দণ্ডিতের মত
নিজের ছায়ার সাথে কথা বলি।
অপ্রেমে কেটে গেল এতটা বছর!
গাছের বুক ঘেঁষে যে নীড় গেঁথেছিলাম
একা একাই তাতে কত নৌকো ভাসিয়েছি
বিষাদের জল সরিয়ে আবার মাথুর হয়েছি।
তারপর বহু যুগ পর
প্রথম প্রেমিক …
দণ্ডিতের মত
নিজের ছায়ার সাথে কথা বলি।
অপ্রেমে কেটে গেল এতটা বছর!
গাছের বুক ঘেঁষে যে নীড় গেঁথেছিলাম
একা একাই তাতে কত নৌকো ভাসিয়েছি
বিষাদের জল সরিয়ে আবার মাথুর হয়েছি।
তারপর বহু যুগ পর
প্রথম প্রেমিক …
মাটির সুধা নাও গো মেখে
দামাল ছেলের দল,
মায়ের আদেশ মাথায় করে
থাকবি অবিচল।।
বিজয় নিশান থাকবে উঁচু
পড়বে না তো হেলে,
ভয় পাবি না কভু তোরা
দুঃখ বিপদ এলে।
শক্র চিনে করবি আঘাত
দৃঢ় …
বুকের পাঁজর চিরে নামে এক হৃদ-রক্তিল নদী,
যেখানে আমরা ডুবে মরি কোন এক মায়া-অবলুপ্তিল নিরবধি।
রণক্ষেত্রের ধুলোয় ভাসে শত শহীদের অশ্রু-বীজিল দীর্ঘশ্বাস,
সভ্যতা আজ এক কংক্রিট-কঙ্কালিল শ্মশান, যেখানে মানুষ বড়ই তটস্থ-ত্রাস।
তোমার চোখে ছিল এক নীলিম-জাদুল …
বিশ্বজুড়ে বন্ধুত্বের মন্দা চলিতেছে,
পৃথিবীর দেশে দেশে, মানুষে মানুষে;
মানসিক-শারীরিক দূরত্ব বেড়েছে,
স্বার্থলোভে পরস্পর বৈপরীত্য পোষে।
মানুষ এখন একা ভিড়ের মাঝেও,
রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে পরস্পর শত্রু ভাবাপন্ন;
বন্ধুত্বের হাতগুলো সহজ কাজেও
এগিয়ে আসে না; এরকম হীনমন্য!
স্বাভাবিক …
তোমার কাছে চুপচুপে একটা শুধু রাত চেয়েছিলাম –
নিভাঁজ নির্মদ নির্মেদ একটা রাত – যে রাতের যোনিতে ঝরে পড়বে
উত্তপ্ত গ্রহের জমাট বেঁধে থাকা অপ্রশমিত আগুনের যত ঔরস –
ট্রম্সোর মত সেখানেও টানা আধ-শো রাত
অসূর্যম্পশ্যা …
মহাশূন্যে অজস্র দহনভঙ্গির ভূগোল,
দীপ্তির ভিতর জন্মে অগ্নিপীঠের স্মৃতি,
চিরন্তন আলোয় অক্ষয়।
ঘূর্ণায়মান রক্তছাপ পাঁজরে বিশুদ্ধ,
দরদী হৃদয়ের ছন্দে ইতিহাসের প্রাচীন শিখা,
গড়ে মানবতার ভজন।
চেতনা ধ্বনিত অগ্নিস্বর কাঠগড়ায়,
কান্নায় ভেজা পথ,
প্রতিবাদে নির্বিকালের দিকদর্শী শপথে …
ভোগবিলাসে কেটে যায়
মস্তবড় জীবন,
ক্ষণিক সময় পরে
করি মোরা আস্ফালন।
ঢেউয়ের তালে দুলতে থাকে
মাঝিবিহীন নৌকা,
মোহময় দুনিয়া দেয়
জীবনভর ধোঁকা।
সুখের মায়ায় ছুটতে থাকি
মরীচিকার পিছে,
দম্ভের ওপর চলি-ফিরি
নেমে যাই নিচে।
আপন-স্বজন, বন্ধুমহল…
আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে
কথা বলতে গেলে
ছন্দ আটকে যায় চোদ্দ অক্ষরে
থমকে যায় পর্ব।
শুধু থাকে – দিনলিপির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা
পূর্বপুরুষরা যে স্বপ্ন রেখে গিয়েছেন
সেখানে ধুলো জমে,
সেই ধুলো সরানোও হয় না …
সেই যে অবহেলা আমাকে গ্রাস করল, তারপর কেউ আর আমাকে ভালবাসেনি।
ভালবাসার কথাও কেউ কোনদিন বলেনি।
“তোমাকে পছন্দ করি” এমন কথাটাও কারও মুখে কখনও শুনিনি।
মাঝখানে কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর।
কেটে গিয়েছে কতগুলো বসন্ত, শীত …
উপলব্ধির শেষে শান্তি আসলে
কবিতার পাণ্ডুলিপির অক্ষর
ডানা মেলে ছন্দের আকাশে
তিন ভুবন দূরে দাঁড়িয়েও
দেখা যায় সেই উড়ান
তবু পদ্মের পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে
পৌঁছতে হয় অন্দরমহলে
সেই অন্দরমহলেই সুখের বৃষ্টি
আমি সেখান থেকেই চলে …
চারিদিকে থৈথৈ মানুষের ভিড়,
মাঠ ঘিরে—
বড়, বুড়ো, চাচা-চাচি, কিশোর-কিশোরী, বাচ্চারাও —
বল পায়ে পড়তেই ঝড়ের বেগে
ডান পা, বাম পা,
বিশাল তাবড় তাবড় রক্ষীবাহিনীকে
চকমা দিয়ে বল সোওওজা নেটে…
হৈহৈ রব ! “গোওওল !”…
আমি যদি হতেম কোন
নামিদামি নবাব,
কেউ কিছু বললে দিতাম
দাঁতভাঙা জবাব!
কাজ না থাকলে যেমন
দাঁত কেলিয়ে হাসে,
দাঁত ব্যথায় অনেকেই
নয়ন জলে ভাসে!
পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্ন
দাঁত বসানো যায় না,
দাঁতকপাটি লাগলে কারও…
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
