আমার ছেলেবেলা
লেখক : শারমিন শিলা রিয়া
স্বাধীনতা মানে তখন বুঝতাম না,
তখন ভোগ করতাম অবাধ স্বাধীনতা।
সেই দিন, সেই সময়,
ছিল যেন রঙিন কাগজে
জলরঙে আঁকা ছবি—
হয়ত পারব না ভুলতে ফেলে আসা দিনটা,
ছিল মোর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা।
এদিক-ওদিক,
না …
স্বাধীনতা মানে তখন বুঝতাম না,
তখন ভোগ করতাম অবাধ স্বাধীনতা।
সেই দিন, সেই সময়,
ছিল যেন রঙিন কাগজে
জলরঙে আঁকা ছবি—
হয়ত পারব না ভুলতে ফেলে আসা দিনটা,
ছিল মোর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা।
এদিক-ওদিক,
না …
আমায় ভালবাসো যদি
চন্দ্রিমার নীলে মালা গেঁথে
অমাবস্যায় তোমায় পরাব।
অস্তাচলের নীলকুঠিরে
সুখের নীড় বেঁধে দেব,
শুভ্র শুভ্র মেঘের ভেলায়
তোমায় অবগাহন করাব।
তিমির নিশি ভেঙে
রাঙা প্রভাত এনে দেব,
কামিনীর গন্ধে তোমার
বেণী বাঁধতে বাঁধতে…
প্ল্যাটফর্ম সময়ের সমান্তরাল শিরায় স্থাপিত
আগমন-প্রস্থানের অনির্ণেয় অন্তর্বর্তী ভূগোল;
প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত, বিদায় চূড়ান্ত নয়,
অপেক্ষা, নিজের পরবর্তী মুহূর্তটির দিকে
মানুষের অবিরাম নতজানু দৃষ্টি।
বগির জানালায় জমে থাকা মুখগুলো অর্ধলিখিত আত্মজীবনী,
যাদের গন্তব্য জানা, ফিরে আসার ইতিহাস …
হাত উল্টানো দর
মাথার ভিতর মাদক- প্রকৃত মানব সংঘ
চলে যাওয়া রীতি- ইতরসদৃশ ছবি
আর সম্প্রদানের পরে অহেতুক বিদঘুটে তোলপাড়
কেঁপে উঠল সারা সকাল?
প্রশংসার কোন চাবি নেই
দরজা খোলা
আর পিলপিল জলপাই দুর্গন্ধ
হাত উঁচু …
বৃষ্টির এই হাওয়ায় বন্ধু, কদমেরই ঘ্রাণ,
মনের গোপন কোণে তোমারই গান।
এক পলক দেখা যেন, দিনটি সাজায় মোর,
মনের ডায়েরিতে তোমারই কথা, বেদনারই ঘোর।
বলার ছিল তোমায় কিছু, বলতে পারিনি তবু,
মনের মাঝে রাখব তোমায়, রাজি হও …
একদা বাসন্তী পূর্ণিমার আধো রাতে, খোলা আকাশের নিচে বসে নিভৃতে ভাবছিলাম—সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি যা চেয়েছিলাম এবং পক্ষান্তরে যা পেয়েছি, তার কথা।
আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে চেয়েছিলাম অদম্য শক্তি।
কিন্তু তিনি আমাকে করলেন দুর্বল—যার ফলে আমি সর্বদাই …
তোমার সাথে হেঁটেছি আমি আলপথ ধরে,
হাত দিয়েছি বাড়িয়ে, তুমি ঠিক শক্ত করেই ধরেছিলে
বুঝিনি তখন-
আলপথ ছেড়ে চওড়া পিচের রাস্তায় এসে,
সে হাত তুমি ছেড়ে দেবে।
কিশলয়সম নরম মন যখন খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়…
জীবন যেন পদ্মপাতার
এক এক ফোঁটা জল
এই আছে, এই যাচ্ছে পড়ে
করছে টলমল।
জন্ম পাঁকে তবু গায়ে
লাগছে না তো পাঁক
সংসারের এই নিয়ম খেলায়
কেউ নয় অভিশাপ।
আমার থাকা আমি নিজে
পড়ব কোথায় আর…
দে রে দে উলু দে শঙ্খধ্বনি দে
বাজা কাঁসর বাজা রে ঢাক,
জীর্ণ জরা দূরে যাক,
আরতি সাজিয়ে রাখ।
দশভূজা আসবে যে মা আমাদের দুর্গা মা,
বলো জয় দুর্গা মাইকি জয়, বলো দুর্গা মাইকি জয়।…
আকাশের রং যেন পুরনো শাড়ির আঁচল,
ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে রৌদ্রে
দিন ফুরিয়ে এল –
যেমন করে ঘরে ফেরে ক্লান্ত মাঝি
পাখিরা ডানা মেলে উড়ে যায় পূরবী আকাশে
তুমি এলোচুল বেঁধে নাও,
অন্ধকারে প্রদীপের …
পুড়ে যাচ্ছে,
যেতে দাও…
একটাই তো বন,
পুড়ে যায় মড়মড় করে,
শুকনো ঘাস হয়ে যায় ছাই,
নেভে না তবুও—
গাছ বলল আকাশকে,
“তোমাকেই চাই।”
পুড়ে যাচ্ছে,
যেতে দাও…
বিস্তৃত ব্যথায় চিৎকার করে
হরিণের মত প্রাণ,
পুড়ে …
গত দুই-এক সপ্তাহ
ইচ্ছামতি হয়েছে রক্তাক্ত।
যারা ভাই ভাই ছিল এত কাল
তাদের রক্তে ওর কালো জল হ’ল লাল,
এপাড়ে ওপাড়ে সাথে হঠাৎ আড়ি,
ওপারে ভাঙা হ’ল তুলসী মঞ্চ, আগুনে পুড়ল বাড়ি।
ওপার আর হিন্দু দেশ …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
