টুমরো নেভার ডাইজ
লেখক : নাহার তৃণা
(অন্তিম পর্ব)
৪.
‘আলোক বাজার’ পত্রিকার অফিস সরগরম। প্রধান সম্পাদকের ঘরে উপস্থিত সকলের চোখেমুখে উত্তেজনা আর উদ্বেগ ফুটে রয়েছে। ডেস্কের ওপর পেনড্রাইভটা পড়ে আছে, পাশে ছোট্ট চিরকুট, “প্রকাশ করো। সত্যি …
(অন্তিম পর্ব)
৪.
‘আলোক বাজার’ পত্রিকার অফিস সরগরম। প্রধান সম্পাদকের ঘরে উপস্থিত সকলের চোখেমুখে উত্তেজনা আর উদ্বেগ ফুটে রয়েছে। ডেস্কের ওপর পেনড্রাইভটা পড়ে আছে, পাশে ছোট্ট চিরকুট, “প্রকাশ করো। সত্যি …
(প্রথম পর্ব)
১.
রাত এখন গভীর। শহরতলির এই অংশটা মূল শহরের তুলনায় অজ পাড়াগাঁ বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। রোহান সেরকমটাই ভাবে। সন্ধ্যা ঘন হতেই যথারীতি অধিকাংশ বাড়ির আলো নিভে গিয়েছে। গুটিকয়েক সড়কবাতি টিমটিমিয়ে জ্বলছে। ওগুলো …
আজ থেকে বছর পঞ্চাশ আগেকার কথা। ইণ্ডিয়ান নেভির নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে একদল তরুণ যুবক তৎকালীন বম্বেতে গেল নেভির ট্রেনিং নিতে। বেশিরভাগই বাবা-মায়ের দুধুভাতু ছেলে। কারও বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভাল …
কামারখাড়া হতে তিন মাইল পথ হাঁটলে নান্নয়ার বাজারের বুড়বুড়িয়া গ্রাম। আজকাল গ্রামের সবার মুখে এক গল্প শোনা যায়। রাজা গোবিন্দ মাণিক্য নয়, এক সাধারণ পরিবারের একটি ছেলের গল্প। খালেক মিয়ার ছেলে বায়েজিদ গ্রামের একমাত্র ছেলে হিসেবে …
সামনে সোজা রাস্তা পেয়ে জোর গতিতে চার বক্রাকার পায়ে এগিয়ে চলেছে এসইউভি। পুজোর আগে সব মিটমাট। আর হবে নাই বা কেন, যার হাতে কড়ি তাকে কে পরাবে দড়ি? সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর আজ বেরিয়েছিল ওরা। ওরা …
আমি চাই, আমার কোন স্মৃতি মনে পড়লে তোমার হৃদয়ে যেন হালকা এক দুঃখ নেমে আসে।
কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে— আমি তো এখন আর তোমার কোন স্মৃতির পাতায় নেই।
তাহলে মনে পড়বেই বা কেন, দুঃখই বা হবে …
আমার আর নীলাঞ্জনার শেষ দেখাটা এতটাই অপ্রত্যাশিত হয় যে, শেষবারের মত ‘বিদায়’ বলারও সুযোগ পাওয়া যায় নি। নারী ততক্ষণই আপনার, যতক্ষণ সে রাগ করে, অভিমান করে, অধিকার খাটায়, বিরক্ত করে, ভালবাসে, খেয়াল রাখে। কিন্তু যখনই আপনি …
আশ্বিনের শুরুতেই এবার পুজো, ভরা বর্ষার উন্মাদনা কাটলেও কাশবন এখনও ফুলে ভরেনি। সুহাসিনী দুর্গাদালানের দিকে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল এ বাড়ির ফটকের পাশের ভাঙা পাথরের মূর্তিটা। শালুক ভর্তি পুকুরের জল সরিয়ে ঘট ভর্তি করে ঘাটে উঠতেই …
পূজা শেষ হলেই স্টেশন রোডে এক দিদিমাকে দেখা যায় রঙ-বেরঙের হাতে তৈরী নারকেল দড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বসে থাকতে। এবার সবে প্যাণ্ডেল বাঁধা শুরু হয়েছে, কিন্তু কি আশ্চর্য! সেই দিদিমাকে দেখলাম পাড়ার এ-প্যাণ্ডেল থেকে ও-প্যাণ্ডেল …
সকাল থেকেই ছটফট করছেন মিহিরবাবু। নাতির কাছে আবদার – একবার তাঁর প্রাণের সিনেমা হলের সামনে যেতে চান। নিজের পায়ে এখন আর খুব বেশী হাঁটাচলা করতে পারেন না, লাঠিই তাঁর একমাত্র সঙ্গী।
রিক্সায় পৌঁছে নামতে গিয়েই …
আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, ধূসর আভা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। এমন মেঘলা দিনে রেডিওতে গান শোনার মুডে ছিলেন দীপকবাবু। কিন্তু বিধি বাম! ঘরের ভিতর থেকে ভেসে আসছে টিভির গমগমে আওয়াজ। বিরক্তি চাপতে না পেরে তিনি চিৎকার করে উঠলেন, …
পাটের আঁশ পাক দিয়ে দিয়ে দড়ি বানাচ্ছেন আছিমত মিয়া। দড়ি পেঁচিয়ে রাখছেন বাঁশের বেতের একটা চারকোণা কাঠামোতে। প্রতি হাটবার তিনি এই দড়ি বিক্রি করেন। বেশি দাম পাওয়া যায় না অবশ্য। তবে মৌসুমের পাট বিক্রি করে দেয়ার …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
