মুক্তি
লেখক : অদিতি চ্যাটার্জি
বিকেলে নাটা গড়িয়া থেকে যখন ট্রেকারটা বসুবাটী স্টেশনের দিকে যাচ্ছে, দেখি খোলা আকাশ তার নীচে সবুজ ধান ক্ষেতের কোলাকুলির মাঝে ভিলেনের মত উঁকি মারছে এক খণ্ড কালো মেঘ। মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল “এই রে, কালবৈশাখী না …
বিকেলে নাটা গড়িয়া থেকে যখন ট্রেকারটা বসুবাটী স্টেশনের দিকে যাচ্ছে, দেখি খোলা আকাশ তার নীচে সবুজ ধান ক্ষেতের কোলাকুলির মাঝে ভিলেনের মত উঁকি মারছে এক খণ্ড কালো মেঘ। মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল “এই রে, কালবৈশাখী না …
ভক্ত ঘোষ আর তার সাড়ে চার বছরের একরত্তি মেয়ে রিদ্ধি। এই দু’জনকে নিয়ে ঘোষবাড়িতে প্রতিদিন যেন একটা আস্ত সিনেমা চলে। রিদ্ধি যেমন মিষ্টি, তেমনই ডানপিটে। আর ভক্তবাবু? তিনি অফিসের গম্ভীর অ্যাকাউণ্টস ম্যানেজার। বাড়ির চৌকাঠ পেরোলেই মেয়ের …
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। এই সময়টাকে গোধূলি বলা হয়। গোধূলি মানে গরুর ক্ষুর থেকে ওড়া ধূলি। ঢাকা শহরে গরু নেই, তাই ক্ষুর থেকে ওড়া ধুলোও নেই। এখানে আছে বাসের ধোঁয়া আর পথের ধারের ধুলো। তবুও ছাদে …
রাত তখন পৌনে এগারোটা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক অদ্ভুত নীরবতা ঝুলে আছে। দূর থেকে মাঝেমধ্যে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ভেসে আসছে, আর হলুদ ল্যাম্পপোস্টগুলোর নিচে জমে উঠছে কুয়াশার পাতলা চাদর। শহরের হট্টগোল পেরিয়ে এই প্ল্যাটফর্মটা যেন হঠাৎ কোন …
জানালার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে বসেছিল পলাশ। বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। তিনদিন হ’ল ওর ভীষণ জ্বর। আজ সকাল থেকে জ্বরটা ছেড়েছে, কিন্তু মুখটা ভীষণ তেতো – সব কিছু বিস্বাদ লাগছে। গোটা পাড়া জলমগ্ন, কাজের মেয়েটা …
“মা, ও মা, এখনও হয়নি?” ঠাকুরঘরে ছোট্ট করে উঁকি দেয় নেহা।
“হয়ে এসেছে রে।”
রাত পোহালে রথ। দেবযানীদের বাড়িতে জগন্নাথ দেব না থাকলেও কষ্টিপাথরের শ্রীকৃষ্ণ এবং অষ্টধাতুর রাধারাণী আছেন, তাঁর সঙ্গে নাড়ুগোপালও আছেন। নিত্য সেবার পাশাপাশি …
প্রজ্জ্বলন প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শহরের ব্যস্ততম অডিটোরিয়ামে আজ তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দামী সুগন্ধি, জাঁকজমক আলো আর হাজারও অভিজাত মানুষের মাঝখানে যিনি বসে আছেন, সেই মানুষটি যেন একেবারে সাদামাটা। এত মানুষের মধ্যে থেকেও যেন সম্পূর্ণ …
পশ্চিম আকাশে মেঘ। সূর্য ডুবেছে অনেক আগেই, আর আলোর গোধূলি মেঘের আঁচলে — লাল, কমলা, বেগুনি। কে যেন রঙের ঝুলি উল্টে দিয়েছে আকাশপারে। পথের ধারে একে একে জ্বলে উঠেছে আলো, প্রদীপের মত সারি সারি। গাছের শাখায় …
স্বামীর চলে যাওয়াটা ইভা শান্তভাবেই মেনে নিয়েছিলেন। বউরা মুখ ভেটকে বলেছিল, “বুড়ি এবার কত নাটক করবে।” সেসব কিছুই হয়নি।
শ্মশানে যাবেন শুনে বউরা – বড়বউ, মেজবউ, সেজ আর রাঙা, সবাই চোখ চাওয়াচাওয়ি করছিল। দেবু বারণও করেছিল। …
অনেক গভীর রাতের ঘুমে, দু’চোখে স্বপ্ন নেমে আসে মিলুর। স্বপ্নে সে দেখে বিশাল এক জঙ্গল। জঙ্গলের ভেতর বুনো হাতিদের দল, বাঁশ গাছ ভাঙতে ভাঙতে, এগিয়ে যাচ্ছে। নাম-না-জানা বুনো ফুলের বাগানে উড়ে বেড়াচ্ছে নাম-না-জানা রঙের প্রজাপতির দল। …
১
মন্দ কাটছিল না একাদশ পেরনো দিনগুলো। অঙ্ক-পদার্থবিদ্যার রহস্যময় চোরাকুঠুরিতে সহজ আলো ঢেলে দিচ্ছিল শৌভিককাকু – শৌভিক দেবনাথ, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের শিক্ষক। বাবার পূর্ব পরিচয়ের খাতিরে রূপদীপ কাকু বলে ডাকে। ওর দেখাদেখি শ্রীজিত-তমালও।
চলছিল তো দিব্যিই। …
বেশ কিছু মাস আগে মাথায় একটি অনুগল্প জন্ম নিচ্ছিল। প্লটটা ছিল এ’রকম — ছোট্ট এক স্টেশন, নোয়াদার ঢাল, ডাউন লোকাল ট্রেন, বনপাশে নেমে মাটির ভাঁড়ের চা, গরম গরম চপ, তারপর খানা জংশন পেরোতেই চলন্ত ট্রেনে …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
