প্রকৃতির বিস্ময়কর সৃষ্টি পাখি

লেখক : সবিতা রায় বিশ্বাস

পৃথিবীর সকল জীব একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীল। খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অন্যের উপর এই নির্ভরশীলতার অপর নাম বাস্তুতন্ত্র। পৃথিবীর আদিযুগে মানুষ যে পরিবেশে বাস করত, সেখানে প্রাণীজগতের বেশিরভাগই ছিল তার শত্রু। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী ছিল। দু’একটি প্রজাতি বাদ দিলে কেবলমাত্র পাখি ছিল নিরাপদ।

পৃথিবীতে পাখির প্রজাতি রয়েছে প্রায় ১০,০০০ রকমের। পাখির শ্রেণীকে মোট ২৩ টি বর্গ, ১৪২ টি গোত্র, ২,০৫৭ টি গণ এবং ৯,৭০২টি প্রজাতিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পাখিদের আবির্ভাব হয়েছিল জুরাসিক যুগে, প্রায় ১৬ কোটি বছর আগে। জীবাশ্মবিজ্ঞানীদের মতে, সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের ক্রিটেশাস-প্যালিওজিন বিলুপ্তির পর পাখিরাই চার উপাঙ্গবিশিষ্ট ডাইনোসরের একমাত্র বংশধর। জীবিত পাখিদের মধ্যে মৌ হামিংবার্ড সবথেকে ছোট (মাত্র ৫ সেন্টিমিটার বা দুই ইঞ্চি) আর উটপাখি সবচেয়ে বড় (২.৭৫ মিটার বা নয় ফুট)।

পাখি প্রকৃতির বিস্ময়কর সৃষ্টি। Aves শ্রেণীর উষ্ণরক্তবিশিষ্ট, দেহ পালকে আবৃত এবং অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড়, দৃষ্টি তীক্ষ্ণ ও শ্রবণশক্তি প্রখর, কিন্তু ঘ্রাণশক্তি কম। ভারী চোয়াল ও দাঁতের পরিবর্তে শক্ত চঞ্চু এবং ফাঁপা হাড় ও অন্যান্য অংশে বায়ুথলী থাকায় পাখির দেহের ওজন কম।

পাখিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শক্ত খোলাবিশিষ্ট ডিম, যার সাহায্যে পাখিরা বংশধর রেখে যায়। এদের আছে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃদপিণ্ড, উচ্চকোষীয় জৈব রাসায়নিক হালকা কিন্তু মজবুত হাড়। সব পাখিরই ডানা আছে, উড়তে পারে। যেসব পাখি উড়তে পারে না, তারা কয়েকটি দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা। পাখিদের পরিপাক ও রেচন প্রক্রিয়া তাদের সহজভাবে ওড়ার পক্ষে অনুকূল এবং অন্য সব প্রাণীদের থেকে একেবারেই আলাদা। পাখিদের মধ্যে কাক ও টিয়ার প্রজাতিকে সবথেকে বুদ্ধিমান বলে মনে করা হয়।

পাখি অনেরকম। এদের মধ্যে কেউ গায়ক পাখি, কেউ শিকারী পাখি, পোষা পাখি, শীতের পরিযায়ী পাখি উল্লেখযোগ্য। গায়ক পাখির মধ্যে অন্যতম দোয়েল। গরমের দিনে ঘরের পাশে, লেবুর ডালে বসে মনের সুখে গান করে। দোয়েলের মত গানের গলা খুব কম পাখিরই আছে। তবে শীতের সময় একেবারেই গান গায় না দোয়েল। শীত শেষ হলে গান শোনাতে আসে কোকিল, তাই কোকিলকে বলা হয় বসন্তের দূত। আর একটি ছোট্ট গানের পাখি টুনটুনি। দেখতে ছোট হলেও গানের গলা খুব মিষ্টি আর জোরালো। এছাড়াও শ্যামা, বুলবুলি, ‘বউ কথা কও’ এরাও গান শোনায়।

বর্তমানে পাখিরা বিপন্ন হয়ে পড়েছে মানুষের সৌখিনতার জন্য। বাড়িঘর, রাস্তা, শিল্প-কারখানা গড়তে গিয়ে কাটা পড়ছে পাখির আবাসস্থল, নষ্ট হচ্ছে ডিম। শুধু অরণ্যনিধণ নয়, এমনকি জলাশয় ভরাট করছে স্বার্থান্বেষী মানুষ। তার ফলে সবরকমের পাখিরা আজ বিপন্ন। শকুনের মত উপকারী পাখি নিঃশেষ হতে চলেছে পৃথিবী থেকে। ইদানিং বিভিন্ন দেশে গবাদি পশু চিকিত্সায় ব্যবহৃত ‘ডাইক্লোফেনাক’ নামের ব্যথানাশক ওষুধের প্রভাবে শকুন মারা যাচ্ছে। এমনিতে মৃত পশুর মাংস শকুনের কোন ক্ষতি করেনা। কিন্তু ‘ডাইক্লোফেনাক’ দেওয়া হয়েছে এমন মৃত পশুর মাংস খেলে কিডনি নষ্ট হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যেই শকুনের মৃত্যু ঘটে। গত তিন দশকে উপমহাদেশে ৭৫ শতাংশ শকুন মারা গিয়েছে। ১৯৮০র দশকে সার্কভুক্ত দেশে চার কোটি শকুন ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যাটা ৪০,০০০-এ এসে দাঁড়িয়েছে। ভারতে প্রতি বছর বিশাল সংখ্যক শকুনের মৃত্যুর কারণ ডাইক্লোফেনাক এবং কিটোপ্রোফেন। বর্তমানে এই ওষুধগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শকুনকে বাঁচাতে বর্তমানে গবাদি পশু চিকিত্সায় শকুন বান্ধব ‘মেলোক্সিক্যাম’ ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে শকুনকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার ‘আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে।

শুধু শকুন নয়, মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে বর্তমানে প্রায় ১,২০০ মত প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। যদিও মানুষ জানে, পাখির অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। মাংসের জন্য এদের বহু প্রজাতিকে শিকার করা হয়, আবার কিছু পাখিকে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হয়। এর মধ্যে গায়ক পাখি ও দর্শনধারী পাখির খুব কদর আছে। পাখির বিষ্ঠা থেকে উত্পন্ন সারের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্ব রয়েছে।

পাখিদের মধ্যে অনেকেই পরিযায়ী। এভিয়ান মাইগ্রেশন একটা প্রাকৃতিক অলৌকিক ঘটনা। পরিযায়ী পাখিরা তাদের প্রজনন, বাচ্চাদের লালন পালন করার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার উড়ে যায়। পরিযায়ী পাখিদের দীর্ঘ ও দ্রুত উড়ে যাবার জন্য নিঁখুত শারীরবৃত্ত রয়েছে। এরা বছরে দু’বার ১৬,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভ্রমণ করে। পরিযায়ী পাখিরা কীভাবে পিন-পয়েন্ট নির্ভুলতার সাথে নেভিগেট করতে পারে, তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। তারা দিনের বেলা সূর্যের দ্বারা, রাতের বেলায় তারা দ্বারা, এবং যে কোন সময় ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দ্বারা পথ চিনতে সক্ষম। শৈত্যপ্রবাহ, আশ্রয় সংকট, খাদ্যাভাবের কারণে পাখিদের বেঁচে থাকা যখন খুব কঠিন হয়ে পড়ে, তখন ওরা আমাদের দেশে আসে। যদিও এই পরিযায়ী পাখিদের সাথে মানুষ সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করে না। অথচ এই পরিযায়ী পাখিরাই আমাদের প্রচুর উপকার করে। বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। এক শ্রেণীর হাঁসজাতীয় পাখি আছে, যারা জমির আগাছার বীজ খেয়ে জীবনধারণ করে, ইঁদুর খেয়ে ফসল রক্ষায় সাহায্য করে, পাখির বিষ্ঠা মাটিতে জমা হয়ে মাটির ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি করে। মোট কথা, পাখি মানবজাতির জীবনে অমূল্য সম্পদ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ পাখির জীবন রক্ষা করতে আমাদের সকলকেই উদ্যোগী হতে হবে।

হামিংবার্ড হল সবচেয়ে ছোট পরিযায়ী পাখি। যার গড় ওজন এক আউন্সের ১/৮, তারা স্থানান্তর করার সময় ৩০ মাইল প্রতি ঘন্টা (৪৮কিমি) দ্রুত ভ্রমণ করতে পারে। তারা বছরে দু’বার নন স্টপ উড়ে ৬০০ মাইল পর্যন্ত যায়। তবে খাদ্যের যোগান থাকলে খুব শীত পড়লেও এরা বাসস্থান থেকে নড়ে না। পরিযায়ী পাখিদের আশ্চর্য ক্ষমতা আমাদের বিস্মিত করে। এরা খাদ্যের খোঁজে ও বংশবৃদ্ধির তাগিদে উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণে আসে। এই সময় খাদ্যের প্রাচুর্যের কারণে এরা বাসা করে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। দীর্ঘ যাত্রায় পথ চেনাতে অভিজ্ঞ পাখিরা আগে থাকে, আর যারা নতুন তারা ঝাঁকের পিছনে থাকে। অনেকসময় দেখা যায়, কোন পাখি একা ভ্রমণ করে। বিজ্ঞানীদের মত, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র তাদের পথ চেনায়।

তবে পরিযায়ী পাখিরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিপজ্জনক রোগের জীবাণু বহন করার জন্য অনেকাংশেই দায়ী। এরা জীবাণুবাহক হিসেবে কাজ করে, অন্যত্র জীবাণু ছড়িয়ে দেয়। প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন কোন প্রজাতি পরিযায়ী প্রজাতির সংস্পর্শে এলে সাথে সাথে আক্রান্ত হয়। পশ্চিম নীল ভাইরাস এবং এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (যার জন্য বার্ড ফ্লূ রোগ হয়) এমনই দুটো জীবাণু।

পাখিরা ডাক বা শিষের মাধ্যমে একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করে। বিভিন্ন সামাজিক কার্যকলাপেও এরা অংশ নেয়, যেমন একসাথে কলোনি করে বাসা করা, ঝাঁক বেঁধে উড়ে বেড়ানো, দলবদ্ধভাবে খাবার খোঁজা, দলবদ্ধভাবে শত্রুকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং একই ঋতুতে প্রজননে অংশ নেওয়া। বহুপতি বা বহুপত্নী প্রথাও দেখা যায় পাখিদের মধ্যে। দু-একটি প্রজাতির পাখি বাদে বেশিরভাগই নিজেদের তৈরী বাসায় ডিম পাড়ে এবং মা-বাবা পালা করে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। তারপরেও বেশ কিছুদিন তারা বাচ্চাকে লালন-পালন করে।

আমাদের আশেপাশে যেসব পাখি দেখি, তাদের বেশিরভাগই স্বভাবে দিবাচর। তবে বেশ কিছু পাখি আছে যারা নিশাচর। বহু প্রজাতির পাখি আবার ভোরে ও সন্ধ্যার দিকে খাবারের খোঁজে বের হয়। হাঁসজাতীয় পাখি ও বকেরা পূর্ণিমা রাতেও খাবার খুঁজে বেড়ায়। আবার পানিকাটা পাখিরা খাদ্যের জন্য জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল, তাই এদের দিন বা রাত নিয়ে সমস্যা নেই।

পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই অর্থাৎ সাতটি মহাদেশের সবখানেই পাখি দেখা যায়। এমন কয়েক গোত্রের সামুদ্রিক পাখি আছে, যারা জীবনের সিংহভাগ কাটায় সমুদ্রে, শুধু ডিম পাড়ার জন্য ডাঙায় আসে। কয়েক প্রজাতির পেঙ্গুইন সমুদ্রের ৩০০ মিটার (প্রায় ৯৮০ ফুট) গভীর পর্যন্ত ডুব দিতে পারে। পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ৪৪০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে তুষার পেট্রেলের প্রজনন কলোনির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু প্রজাতির পাখি মানুষের মাধ্যমে তাদের আদি আবাস থেকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেখানে সফলভাবে বংশবৃদ্ধি চালিয়ে যাচ্ছে। আবার মানুষের অনিচ্ছায় কিছু প্রজাতির পাখি অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন উত্তর আমেরিকার বহু শহরে খাঁচা থেকে পালিয়ে যাওয়া টিয়া-মুনিয়া অন্য জায়গায় তাদের নতুন বসতি স্থাপন করেছে। আবার চাষের উন্নয়নের ফলে গো-শালিক প্রজাতির পাখিরা তাদের আদি আবাস থেকে বহুদূরে ছড়িয়ে পড়েছে।

এখনো যেসব প্রজাতির পাখিরা প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের সঙ্গে যুঝে বেঁচে আছে তাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য গড়ে তুলতে হবে পাখির নিরাপদ আশ্রয়, বনাঞ্চল, লাগাতে হবে বিভিন্ন ফলের গাছ। সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুখে দিতে হবে পাখি শিকার। অতিরিক্ত আলো, শব্দ পাখিদের বাঁচার পথে অন্তরায়। এছাড়াও পাখির মাংসের প্রতি লোভের কারণে কত যে প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। যেমন ডোডো পাখি। এরা শুধুমাত্র ভারত মহাসাগরের মরিশাস দ্বীপে বাস করত। পরবর্তীকালে ডাচরা তাদের নাবিকদের খাবার জন্য ডোডোপাখি হত্যা করেছিল। এইভাবেই ডোডো পাখি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক দেশের প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে পাখি বাঁচাতে উদ্যোগ নিতে হবে। নাহলে ‘পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল’ কবির কলমেই থেকে যাবে, পাখির কল-কাকলিতে আর ঘুম ভেঙে জেগে নতুন সূর্য দেখা হবেনা।

তথ্যসূত্র-

১) পাখি – উইকিপিডিয়া
২) প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা – আফতাব চৌধুরী
৩) কুলিক পাখি অভয়ারণ্য – উত্তর দিনাজপুর, রায়গঞ্জ সংবাদ
৪) রাজ্যে মাত্র ১২৫: বিলুপ্তির পথে শকুন – কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়
৫) বার্ড মাইগ্রেসন – Vedantu.com
৬) পাখি পরিযান – উইকিপিডিয়া


লেখক পরিচিতি : সবিতা রায় বিশ্বাস
সকলের কাছে গল্পদিদি নামে পরিচিত| লেখালিখি শুকতারা, কিশোরভারতী, গৃহ্শোভা এবং দেশী বিদেশী পত্রিকা ও ওয়েবজিনে| একুশটি বইয়ের রচয়িতা| লেখালিখি ছাড়াও অভিনয়, নাটক রচনা, পরিচালনা এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত|

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up