সুভাষচন্দ্রের ওপর বল্লভভাইয়ের মামলা

লেখক: রানা চক্রবর্তী

নেতাজির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সর্দার বল্লব ভাই প্যাটেল। ১৯৩৩ সালে বল্লভভাই প্যাটেল, যিনি ১৯৩১ সালে কংগ্রেসের সভাপতি হন, তিনি সারা দেশের নয়নের মণি সুভাষচন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। বল্লভভাই নিজে ছিলেন ব্যারিস্টার, তাঁর চেয়ে দু’বছরের বড় দাদা বিঠলভাই ছিলেন আমেদাবাদের উকিল, পরে হন ব্যারিস্টার। তিনিই প্রথম ভারতীয়, যিনি পরাধীন আমলে কেন্দ্রীয় আইনসভার প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন রায় দিয়েছিলেন, আইনসভা চালু অবস্থায় পুলিস কখনই প্রবেশ করতে পারবে না। ওঁর সেই রায় স্বাধীন ভারতের সংসদ ও তাবত্‍ বিধানসভা ও বিধান পরিষদে আজও বলবত্‍।

রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হয়ে বিঠলভাই কারারুদ্ধ হন। কারাবাসে তাঁর শরীর ভেঙে পড়ে। অসুস্থতার জন্য তদানীন্তন বড়লাট তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেন। তিনি ভিয়েনায় যান স্বাস্থ্যোদ্ধারে। তখন একই কারণে ভিয়েনায় ছিলেন বর্মার মান্দালয়ে জেলবন্দী, পরে প্যারোলে মুক্ত সুভাষচন্দ্র। নিজের ভগ্নস্বাস্থ্যের কথা বিস্মৃত হয়ে পুত্রতুল্য (বিঠলভাই ২৬ বছরের বড় ছিলেন সুভাষচন্দ্রের চেয়ে) সুভাষ তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করেন। তাই মৃত্যুর আগে বিঠলভাই দু’লাখ টাকা ওই ১৯৩৩ সালে সুভাষচন্দ্রের জিম্মায় গচ্ছিত রাখার নির্দেশ দেন তাঁর শেষ ইচ্ছাপত্রে, যেখানে পরিষ্কার বলা হয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের কাজে সুভাষ ওই টাকা খরচ করবেন। দেশে ফিরে সুভাষ ব্যাপারটি বল্লভভাইকে জানান। যে কাজ আপসেই করা যেত, তা না-করে বল্লভভাই সুভাষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার মূল বক্তব্য ছিল, টাকার জন্যই মৃত্যুপথযাত্রী বিঠলভাইয়ের সেবা-শুশ্রূষার নামে সুভাষ ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। মামলার রায় মেনে সুভাষচন্দ্র সেই টাকা তুলে দেন বল্লভভাইয়ের হাতে।

তথ্যসূত্র:
১) https://m.dailyhunt.in/news/india/bangla/aajkaal-epaper-aajkal/netajir+biruddhe+ballabhabhaiyer+mamala+kintu+bangali+bholeni-newsid-75633078
২) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, পূরবী রায়, এশিয়ান পাবলিকেশন (২০১৮)
৩) Netaji: A Pictorial Biography, Dr. Sisirkumar Bosu & Brirendra Nath Singh, Ananda Publishers
৪) সুভাষ থেকে নেতাজি, দিলীপ চাকী, আনন্দ প্রকাশন (২০১৪)

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।