ভাঙা মঞ্চের মঞ্চিনী (অন্তিম পর্ব)

লেখক: দামিনী সেন

ত্রয়োদশ পরিচ্ছদ

দরজার বাইরে টোকার শব্দটা খুব অস্ফূটভাবেই কানে প্রথমে প্রবেশ করে সুচির। একবার, দুবার … তারপর একটা গলার আওয়াজ, “সুচি, সুচি! আসবো?” হঠাৎই এতক্ষণের ঘোরটা কেটে গিয়ে মাথাটা একটু বাস্তবে ফিরে আসে সুচির। ধড়ফড় করে উঠে বসে সে। চোখটা গিয়ে পড়ে সামনে রাখা টেবিল-ঘড়িটার দিকে। রাত প্রায় ন’টা।
“বাবা! হ্যাঁ, এসো।” মেয়ের গলায় আজ স্বাভাবিক উষ্ণতা ও উচ্ছ্বাসের অভাবটা বেশ টের পায় সুজয়। দরজাটা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করে সে। সারা ঘরটাই অন্ধকার। শুধু জ্বলছে একটা টেবিল-ল্যাম্প। আর সেটার সামনে তাকে খানিকটা আড়াল করেই দরজার দিকে পিছন ফিরে চেয়ারে বসে তার মেয়ে। হাতে তার একতাড়া হাতে লেখা কী সব কাগজ।
সুজয়ের চোখ প্রথমে নেমে আসে নিজেরই পায়ের কাছে, মেঝেতে। টেবিল-ল্যাম্পের ছুঁড়ে দেওয়া মেয়ের লম্বাটে ছায়াটা কেমন যেন উদ্ধত ভঙ্গিমায় এসে পড়েছে সেখানে, তারপর তার মাথাটা তাকে ডিঙিয়ে গিয়ে মাথা তুলেছে পিছনের দেওয়ালটার গায়ে। একটু অস্বস্তিই বোধ করে সুজয়।
উদ্ধত ছায়াটা এবার ধীরে ধীরে গুটিয়ে আসে। একটু আগের কৈফিয়ৎ দাবি করার ভঙ্গিমা ছেড়ে গুটিয়ে আসে তার মাথে ধীরে ধীরে তার পায়ের কাছে। কেমন যেন একটা মিনতির ভঙ্গিমা সেখানে টের পায় সুজয়।
চোখ তুলে মেয়ের দিকে তাকাতে সে দেখতে পায়, চেয়ারে বসা অবস্থাতেই মেয়ের মাথা আবার ঢলে পড়েছে হাতে ধরে রাখা কাগজগুলোরই উপর, ডানদিকে ফিরে। টেবিল-ল্যাম্পের জোরালো আলোয় সুজয়ের চোখে পড়ে মেয়ের চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসা শুকিয়ে যাওয়া জলের ধারা। সে জলের ধারা এসে গড়িয়ে পড়েছে হাতে ধরা ঐ কাগজগুলোরও উপর, ধেবড়ে দিয়েছে লেখাগুলোকে জায়গায় জায়গায়।
সুজয় আরও কাছে এগিয়ে এসে হাত রাখে তার আদরের মেয়ের মাথায়। “কী করছিস? পড়াশুনো?” পরিস্থিতিটা একটু সহজ করতেই যেন একটু হেসেই সে ফুটিয়ে তোলে নিরর্থক প্রশ্নটিকে। কোনও জবাব না পেয়ে, আরও একটু সামনে ঝুঁকে মেয়ের মাথার চুলগুলোকে চিরদিনের অভ্যাস মতোই একটু এলোমেলো করে দেয় সে। সুচির চোখদু’টো খুলে যায়। মাথাটা নিস্তেজ ভঙ্গিমা ছেড়ে ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করে কাগজগুলো ছেড়ে। সুজয়ের চোখ পড়ে লেখাগুলোর দিকে। অনির হাতের লেখা। ক্লাসনোটস।
“বেড়োবি একটু আমার সাথে?” – প্রশ্নটা শুনেও মনের অবশ ভাবটা খুব একটা কাটিয়ে উঠতে পারে না সুচি। নিস্তেজ গলায় শুধু ভাসিয়ে দেয় প্রশ্নটা, “কোথায়?”
“অনির বাড়ি।” ভীষণ চমকে এবার ফিরে তাকায় মেয়ে। “কিন্তু ওকে তো …” এতক্ষণে তার চোখে পড়ে, বাবা অফিসের পোশাকটা পর্যন্ত না ছেড়েই আজ চলে এসেছে তার ঘরে।
“হ্যাঁ, ওকে ছেড়ে দিয়েছে। কোনও কেস ফাইল হয়নি এবারের মতো। এবার একটু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।” ধড়ফড় করে এবার লাফিয়ে ওঠে সুচি, “হ্যাঁ হ্যাঁ বাবা, এক্ষুণি। দু’ মিনিট।” বাবা চাইছে অনির বাড়ি যেতে! বিস্ময়ের জের কাটতে একটু সময় লাগে তার।
“ও হ্যাঁ। তোর স্কুটির চাবিটা নিতে ভুলিস না যেন। তুই কবে থেকে বলছিলি না, আমায় তোর স্কুটিতে চাপাবি ? আজই চল, গাড়ি ছেড়ে তোর স্কুটিতে চেপেই একটু হাওয়া খেয়ে আসি। তুই কেমন চালাতে শিখেছিস সেটাও একটু দেখতে হবে তো!” মৃদু হেসে নিজের পিছনের দরজাটা টেনে বেড়িয়ে যায় সুজয়।
মেয়ে তার পিছনে তখনও দাঁড়িয়ে থাকে অবাক চোখে।



চতুর্দশ পরিচ্ছদ

আলো একদমই কেন জানি সহ্য হচ্ছিল না অনির। তাই প্রায় অন্ধকার ঘরটাতেই বিছানার একপাশে একটা বালিশ নিয়ে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসেছিল সে। পাশেই দাদার একফালি ঘরটা থেকে খাটো পর্দার আড়াল দেওয়া দরজাটা দিয়ে চুঁইয়ে আসছিলো একটা আলোর সামন্তরিক। দরজার ঠিক গোড়াটায়। আর তারই প্রতিফলনে গোটা ঘরটাই ভরে উঠেছিল একটা আবছা আলোয়। জায়গায় জায়গায় অন্ধকারের গাঢ় ছোপ নিয়েই কেমন একটা নেশা জড়ানো ঝিমুনিভাব খেলা করছিল তার মাথায়। কেমন ধরে থাকা, ভারী হয়ে থাকা মাথাটা তার হেলান দিয়েছিল পিছনের দেওয়ালে। চোখদু’টো স্থিরভাবে ছড়িয়ে দিয়েছিল তার দৃষ্টি সামনে ছড়ানো তার দু’টো পা বরাবর। বাঁপায়ে প্রায় হাঁটুর তলা পর্যন্ত ব্যান্ডেজের সাদা রংটাতেও কেমন যেন নীলচে আভা।
কেমন একটা ঘোরের মধ্যেই যেন ছিল ও। মাথার মধ্যে শুধু ঘুরছিল আপাত বিচ্ছিন্ন অনেকগুলো দৃশ্য। হাসপাতালের করিডোর ধরে যেতে যেতে, অত মার আর অশ্রাব্য গালাগালের মাঝেও কলেজের অতজন বন্ধুর উদ্বিগ্ন মুখ … দরজার বাইরে কথা কাটাকাটি … দাদার উদ্বিগ্ন গলা … পাশেই পড়ে থাকা অসীমদার গোঙানি, (আহা রে, মাথায় ভালোই চোট পেয়েছে অসীমদা। এখন কোথায় কে জানে! ও’কে যখন ছেড়ে দিয়েছে, বাকিদেরও ছেড়ে দিয়েছে নিশ্চয়ই।) … পুলিশ কনস্টেবলটার অশ্লীল ইঙ্গিত আর পাশে দাঁড়ানো হাসপাতালের ওয়ার্ডেনটার দাঁত বের করা হাসিটার কথা মনে পড়তেই গাটা এখনও রি রি করে ওঠে অনির। আচ্ছা, অন্যরা ভয় পেয়ে যায়নি তো! হঠাৎ মনে পড়ে যায় তার সারিকুলের কথা। রাস্তার ধারে বাঁধা ওদের অস্থায়ী মঞ্চটার উপর কানাইদাদের দলটা ঝাঁপিয়ে পড়তেই কী ঊর্ধ্বশ্বাসেই না দৌড় লাগিয়েছিল সে। সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিল অনি। অতবড় পেশিবহুল দেহ, অত কথা, অথচ ঠিক সময়ে সংঘাতবিন্দু থেকে কী পড়িমরি সরে যাওয়া! কই, ওর নিজের তো একবারও মনে হয়নি পালানোর কথা! তারপর তলপেটে ঐ প্রচণ্ড লাথি, গোড়ালির উপর লাঠি, মুখ থুবড়ে পড়েছিল ও পিচরাস্তার ঠিক ধারে বিবর্ণ ঘাস আর ধুলোভরা জমিটার উপর। সামনের হলুদ ঘাসের গোছাটাকে যেন এখনও দেখতে পায় সে, জিভে পায় যেন তার গরম ধুলোধুলো গন্ধ মাখা আস্বাদ। তারপরই চুল ধরে সেই হিড় হিড় টান, আর ছুঁড়ে ফেলা কালো গাড়িটার মধ্যে … গাড়ির দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া, জামাকাপড় ধরে টান, অশ্লীলতা, গালাগালি … থানা … হাসপাতাল।
দাদার উপর হঠাৎ ভারী রাগ হয় তার। কেন দাদা বাড়ি আসার পর এসে জমা পাড়ার ভিড়টাকে অমন রূঢ়ভাবে বিদেয় করলো, কাল আসতে বলে! ওরা তো ওকে দেখতেই এসেছিল। সবাই কি আর মুখোমুখি লড়াই’এ থাকতে পারে! তবু ওরাই তো ওদের আসল জোর। কেন ওদের অমন তাড়িয়ে দিল দাদা! একটা অবুঝ অভিমান হঠাৎ গলার কাছে জড়ো হয়ে আসে তার।
অনি নিজেই বুঝতে পারে চিন্তার সূত্রগুলো তার কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কেমন যেন আতঙ্কিত হয়ে ওঠে সে। মনটা স্থির করে এর পরের কর্তব্য ভাবতে চেষ্টা করে সে। ভাঙা পা নিয়েও কতটুকু সে এখন আন্দোলনটাকে সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও পন্থা খুঁজে পায় না সে, আবার ভেসে উঠতে থাকে এলোমেলো কিছু দৃশ্য, কেমন যেন জ্বরের ঘোরের মতো। মাসুদদার রিকশাটা এসে থামছে তাদের বাড়ির সামনে, রিকশার উপর দাদার কাঁধে ভর রেখে বসে সে, দাদার হাত আঁকড়ে ধরে রয়েছে তার বাপ-হারানো একমাত্র জেদি অবুঝ একরোখা আদরের বোনটিকে, পাছে সে পড়ে যায় … ভিড়টা দ্রুত কাছিয়ে আসছে, সকলের উদ্বিগ্ন মুখ, চালকের সিট থেকে নেমে মাসুদদাও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তাকে নামতে সাহায্য করতে … সফিদা, মুখটা যেন তার পাথরের মতো কঠিন, কোন নাটকের দৃশ্য যেন? মনে করতে পারে না অনি … পারুদির হাসি হাসি মুখটা অত দূরে, কেমন আবছা আবছা, কেন! … সুচি, তুই সত্যি বিশ্বাস করিস, আমি তোকে হিংসে করি! তাহলে সেই সে’দিনের পর কই তুই আর আমার সাথে কথা বলিস না কেন! … না না, আজ সকালেই যেন কোথায় দেখেছি তোকে? কোথায় বল তো? থানায়? না। তবে কি হাসপাতালে! হ্যাঁ, তাই তো। তোর চোখে জল! কেন রে সুচি, কেন! কতগুলো পশু আমায় অত্যাচার করছে বলে? তাতে কী হয়েছে? পশুরা তো পশুই। ওরা ওদের কাজ করবে। তা বলে আমরা তো আর আমাদের কাজ বন্ধ রেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না, তাই না? আয়, আর কাঁদিস না, তোর চোখটা মুছিয়ে দিই আয়।
অনির হাতটা এগিয়ে যায় তার প্রিয়তম বান্ধবীর চোখ থেকে গড়িয়ে নামা জলের রেখাটা মুছিয়ে দিতে। আর তারপরেই ভীষণ চমকে ওঠে সে। হাতটা যে তার সত্যিই স্পর্শ করে সুচির নরম উষ্ণ গালে। সে গালও জলে ভেজা, চোখ থেকে নেমে আসা সে জলের ধারা উষ্ণ, স্বাদ তার নোনতা।
অনির পাশে বিছানাতেই এসে বসা সুচি হঠাৎই হু হু করে কেঁদে উঠে মুখ গোঁজে অনির কাঁধে। বন্ধুর উপর তার এতদিনের মান অভিমান সব কোথায় ভেসে যায় চোখের সে জলের তোড়ে। কোথায় অনিকে সে সান্তনা দেবে, তা না অনিকেই তার পিঠ চাপড়ে ধীরে ধীরে শান্ত করতে হয়। তারপর অনির চোখ উঠে ধীরে ধীরে পড়ে দরজার উপর। দাদার ঠিক পাশে সেখানে দাঁড়িয়ে সুজয়। চোখটা যেন জ্বলে ওঠে অনির।
কিন্তু সে মাত্র এক মুহূর্তের জন্যই। তারপরই তার গলায় ফুটে ওঠে একটা উচ্ছ্বাস। “কাকু!” দাদার দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি বলে ওঠে সে, “ঘরের আলোটা জ্বালা! ওনাকে একটা চেয়ার দে!” এতক্ষণ ধরে ইতস্তত করতে থাকা অনিমেষও এবার বোনের অনুমোদন পেয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বিব্রত সুজয় নিজেই তাকে নিরস্ত করে। তারপর একটা হাতলভাঙা কিন্তু শক্তপোক্ত চেয়ার টেনে সে বসে পড়ে অনিরই পাশে।
অনির চোখ এসে পড়ে সরাসরি সুজয়ের চোখে। চোখটা বড় বেশি নির্মল, বড় বেশি তীব্র ঠেকে সুজয়ের। কী বলতে যে এসেছে সে এই আগুনে মেয়েটাকে, কেমন যেন সব গুলিয়ে যায় তার। আস্তে আস্তে সে জিজ্ঞেস করে, “খুব লেগেছে, তাই না!” অনির পায়ের ব্যান্ডেজটার দিকে চোখ পড়তেই তার নিজের কাছেই পরিস্কার হয়ে যায় প্রশ্নটার অর্থহীনতাটুকু।
অনির চোখেও খেলে যায় একটা শুকনো হাসি। “না, তেমন কিছু লাগেনি। ক’দিন হাঁটা চলায় রেসট্রিকশন, এই আর কি। ও ঠিক হয়ে যাবে।” পুরো বিষয়টিই এমনভাবে উড়িয়ে দেয় সে, সুজয়ের কাছে পরিস্কার হয়ে যায় তার এই বিষয়ে কোনওরকম কথা চালানোরই তীব্র অনীহাটুকু।
পরিবেশটা ভারী হয়ে ওঠার মুহূর্তেই একটা ট্রেতে দুই কাপ চা নিয়ে প্রবেশ ঘটে মার। “না না, এসব আবার কেন?” সুজয়ের আপত্তি ভেসে যায় মার হাসি মাখা কথায়, “তাই বললে হয়? আজ আপনি প্রথম এলেন এ’বাড়িতে। আর সুচি তো বলতে গেলে এখন এ’ বাড়িরই মেয়ে। বড় ভালো আপনার মেয়েটি।” অনির মায়ের প্রশংসায় মুখ নীচু করে সুচি। সুজয়ও আর কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে টেনে নেয় চায়ের কাপটা। একটু হেসে বেড়িয়ে যান মা।
“কাকু, আমার কিন্তু একটা অনুরোধ আছে।” অনির গলায় একটু হাল্কা সুর এবার।
“হ্যাঁ রে। কী বল?” সুজয়ের কন্ঠস্বর কাঁপা কাঁপা।
“এই পাগলিটা যেন নাটক না ছাড়ে, একটু দেখবেন। ওর মধ্যে কিন্তু সত্যি অভিনয় আছে।” অনিকে সত্যিই গর্বিত দেখায় বন্ধুর গরবে। আর সুচি লজ্জায়, বিড়ম্বনায়, কিছুটা গুটিশুটি মেরে বসে।
বিব্রত অবস্থাটা কাটিয়ে হঠাৎ হেসে ওঠে সুজয়ও। চায়ের কাপটা ঝুঁকে পাশে মেঝেতেই নামিয়ে রাখে সে। তারপর মুখ তুলে বলে, “আমার আরেক মেয়ের কাছে আমারও যে একটা অনুরোধ আছে।”
প্রথমে অনির বোধহয় বুঝতে একটু অসুবিধে হয়। তারপরই নিজের অজান্তেই কেমন চোয়ালটা শক্ত হয়ে ওঠে তার। “কাকু, আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি। এমন কিছু বলবেন না, যেটা রাখতে আমি পারব না। আপনার কথা ফেলতে আমারও যে খুব কষ্ট হবে।” চোখটা তার আবার নেমে আসে নিচের দিকে।
চেয়ারটা আরেকটু টেনে বিছানার আরও কাছে এগিয়ে আসে সুজয়। তারপর খুব খুব ধীরে ধীরে বলে, “আমি কি চিনি না আমার মেয়েকে? যা সে রাখতে পারবে না, এমন কথা কি কখনও আমি বলতে পারি তাকে? আমি জানি, তোর লড়াই’এ পাশে দাঁড়ানোর সাধ্য নেই আমার। পরিস্থিতি আমাদের পরস্পরের বিপরীত দিকেই ঠেলে দেবে। তবু, লড়াইটা যেন ছাড়িস না। তুই যে আমাদের গর্ব রে …” হাতটা বাড়িয়ে হঠাৎ সুজয় অনির মাথার চুলগুলো একটু এলোমেলো করে দেয়।
অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সুচি। ধীরে ধীরে আবার মুখ তোলা অনির মুখে সেই ঘর আলো করা নির্মল হাসিটা চোখে পড়ে তার। কিন্তু এ কী! অনি কাঁদছে! অনির চোখে জল!

— সমাপ্ত —


লেখক পরিচিতি: দামিনী সেন

গত শতাব্দীর শেষ পাদে জন্ম। ছেলেবেলা কেটেছে মফস্‌সলে। সেখানেই পড়াশুনো — স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। ঘুরতে ভালোবাসেন, আর ভালোবাসেন পড়তে। জানেন একাধিক বিদেশি ভাষা। আগ্রহ বহুমুখী, কলমের অভিমুখও। কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস — সাবলীল তাঁর কলমের গতি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইতিমধ্যেই প্রকাশিত বেশ কিছু কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প। কাব্যগ্রন্থ “ভাঙা সে সাম্পান” প্রকাশের পথে। ধারাবাহিক প্রকাশিতব্য উপন্যাস “ভাঙা মঞ্চের মঞ্চিনী”-র মধ্য দিয়েই ঔপন্যাসিক হিসেবে তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশ।

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।