লেখক : বিপ্লব চন্দ্র দত্ত
চিন্তা যখন গভীর হয় চেপে মাথা ধরে,
রাগ মাথায় কাজ করে পস্তাতে হয় পরে!
সমাধানের উপায় কভু মাথায় আসে না,
মাথায় তোলা ছেলেকে কেউ ভালবাসে না!
মাথা খারাপ লোক হলে বলে সবে পাগল,
মাথামোটা গর্দভকে ডাকে রামছাগল!
পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে কভু খেও না,
মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলে কোথাও যেও না!
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খুব পরিশ্রম করো,
অপরাধের শাস্তি নিতে মাথা পেতে ধরো।
আশীর্বাদ করে সবে মাথায় হাত বুলিয়ে,
জট পাকানো ঘটনায় মাথা যায় গুলিয়ে।
ঝড়ের রাতে চলে যাও বৃষ্টি মাথায় করে,
আশকারা পেয়ে তুমি বসো মাথায় চড়ে!
লজ্জা পেলে আমাদের মাথা কাটা যায়,
সম্মানে মাথায় তোলে রাখি যে তোমায়।
নিত্যপণ্যের দাম শুনে মাথায় পড়ে হাত,
মাথা কিনে নিতে পারলে খুলবে যে বরাত!
অপমানে কুণ্ঠাবোধ মাথা হেঁট হওয়া,
অধীনতা স্বীকার করতে হয় মাথা নোয়া!
ছেলের মাথা খেয়েছ অধিক লাই দিয়ে,
মাথা নাড়ালে হয় না কাজ ধরো ছাই দিয়ে।
দেয়ালেতে মাথা ঠুকে মরছ কেন ভাই?
বিশ্বাস করাতে গেলে মাথার দিব্যি খাই!
মাথাটা ঠাণ্ডা রেখে করতে হয় সকল কাজ,
কিছু খবর শুনলে সবার মাথায় পড়ে বাজ!
গ্রামছাড়া করো তারে মাথায় ঘোল ঢেলে,
রাগের মাত্রা বাড়ে মাথায় খুন চেপে গেলে!
গুলি মেরে উড়িয়ে দাও কারও মাথার খুলি,
মাথার দিব্যি দিই কভু যেও নাকো ভুলি!
মাথার উপর কেউ না থাকলে হবে অসহায়!
মাথার ভেতর না ঢুকলে হবে কি উপায়!
দাবায় খেলায় চাল দিতে মাথাটা চুলকায়,
কাকাতুয়ার মাথা ঘোরে বেশি যদি দোল খায়!
পুরাতন ব্যথা ওঠে মাথা চাড়া দিয়ে,
মাথা ঠিক রেখ সকল পরিস্থিতি নিয়ে!
নীচ থেকে বেয়ে উঠো পাহাড়ের মাথায়,
মোড়লের কাছে সবাই মাথাটা বিকায়!
গণ্যমান্য লোক হলে গাঁয়ের মাথাও সেই,
মাথা যার নেই তার মাথাব্যথাও নেই!
লেখক পরিচিতি : বিপ্লব চন্দ্র দত্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট এ অতিরিক্ত পরিচালক পদে কর্মরত আছেন। প্রহেলিক, আয়না, মুখোশ, স্বপ্নডানা নামে 4টি কাব্যগ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। জন্মস্থান-নেত্রকোনা, 20শে কার্ত্তিক,1374

