একটি বা কয়েকটি অসমাপ্ত গল্প

লেখক: ইচ্ছেমৃত্যু

।। ১।।

সকাল থেকে নাম না জানা সে পাখি, কাদা-খোঁচা নাকি কাঠঠোকরা, ফিঙে নাকি টুনটুনি জানি না, একটা একটা করে ছোট ডাল, পাতা, কাগজ বয়ে নিয়ে গিয়ে রাখছে সামনের নিমডালে। সকালের কিছুটা সময় এবং দুপুরের আলসেমি কেটে গেল না-নামী পাখিকে নিয়ে। আচ্ছা, একটাই পাখি নাকি দুটো পাখি সংসার পাতার তোড়জোড় করছে! পাখিদের মানুষের মত চট করে পৃথক করা যায় না।
সে রাত্রেই ঝড় উঠেছিল, হয়েছিল বৃষ্টি।

।। ২।।

বৃষ্টি থেমে গেছে বেশ কিছুক্ষণ। মফস্বলের মোরামের লাল মাটির রাস্তা। রাস্তা দিয়ে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া দু জোড়া পায়ের ছাপ। বেশ কিছুটা পথ পাশাপাশি হেঁটে গেছে দুজোড়া পায়ের ছাপ। কর্মহীন অলস অনুসরণ। দু জোড়া পায়ের ছাপ হাঁটছে, হঠাৎ যেন মুখোমুখি পায়ের ছাপেরা।
তারপর শুধু একজোড়া পায়ের চিহ্ন রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেছে।

।। ৩।।

রাস্তার পাশেই একটা বাড়ি তৈরি হওয়া শুরু হল। ইঁটের পর ইঁট সাজিয়ে, বালি আর সিমেন্ট দিয়ে গেঁথে দাঁড়িয়েও গেল সে – বাড়ি। তারপর প্রথামাফিক গৃহপ্রবেশ। কয়েকদিন পর সেই বাড়ি থেকে সানাই এর শব্দও শোনা গেল। এরপর মাঝে মাঝে বাসনের ঝংকার, প্রেশার কুকারের সিটি, রান্নার ছ্যাঁক্‌ছ্যাঁক্‌ আর কখনো-সখনো কুকুরের ডাক শোনা যেতে লাগল। নিয়মমাফিক সব শব্দ ছাপিয়ে একদিন দুটি মানুষের উচ্চস্বরে সংলাপ শোনা গেল।
তারপর ও বাড়ি থেকে আর কোনদিন কুকুরের ডাক শোনা যায়নি। 

।। ৪।।

একই পাড়ায় থেকেও বাকি সব কুকুরের সাথে ভাব হয়নি জিনার। তাই কয়েকটি কুকুর তাড়া করে এল তাকে দেখেই। প্রতিবাদ করতে যেতেই বাকি সব কুকুরেরাও তেড়ে এল এবং গতিক সুবিধের নয় দেখে পাড়া ছাড়া হওয়াই একমাত্র উপায় বুঝল জিনা। অন্য পাড়ায় যেতেও যথারীতি কুকুরের আক্রমণ, তবে এবার রুখে দাঁড়ায়নি জিনা, বরং লেজ নামিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। দলপতি এসে তার লম্বা লোমের বাহার দেখে সাদরে দলে নিয়েছিল।
দলপত্নী ভেবেছিল, কটাদিন যাক, তারপর ঘিয়ে ভাজা খেয়ে আর আস্তাকুঁড়ে থেকে কিভাবে ঐ লম্বা লোমের বাহার থাকে দেখা যাবে!

।। ৫।।

কোনও এক সকালে আস্তাকুঁড় ঘাঁটছিল একটি কাগজ কুড়োনে ছেলে – অনেকের ফেলে যাওয়া অ-মূল্য জিনিস থেকে যদি কিছু মূল্য মেলে এই ভেবে। একটুদূরেই এক খোলা বই বা খাতা থেকে একটু করে কাগজ ছিঁড়ে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে কাদাখোঁচা বা ঐ জাতীয় এক পাখি। লোভ হল। উঠে গিয়ে সেই খাতা হাতে তুলে নিল ক্লাস ফোর ড্রপ আউট ছেলেটা। বেশ সুন্দর বাঁধানো খাতাটা। উল্টে পাল্টে দেখলো ১,২,৩ করে মোট পাঁচটি লেখা, বাকি সব সাদা। তার ক্লাস ফোরের বিদ্যে নিয়ে যা পড়ল তা হল:
“গল্প লিখবো নাকি ঘটনা? ঠিক করতে পারি না, শুধু জানি ঘটনারা গল্প হয়ে যায়, গল্পেরা ঘটনা —

।। ১।।

সকাল থেকে নাম না জানা সে পাখি, কাদা-খোঁচা নাকি কাঠঠোকরা, ফিঙে নাকি টুনটুনি জানি না, একটা একটা করে ছোট ডাল, পাতা, কাগজ…


লেখকের কথা: ইচ্ছেমৃত্যু
জন্ম বর্ধমানের বর্ধিষ্ণু গ্রামে। পেশায় নরম তারের কারিগর আর নেশায় – রীতিমত নেশাড়ু, কী যে নেই তাতে – টুকটাক পড়াশোনা, ইচ্ছে হলে লেখা – সে কবিতা, গল্প, রম্যরচনা, নিবন্ধ যা কিছু হতে পারে, ছবি তোলা, বাগান করা এবং ইত্যাদি। তবে সব পরিচয় এসে শেষ হয় সৃষ্টিতে – পাঠক যেভাবে চিনবেন চিনে নেবেন।

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন
  •  
  •  
  •  
  •  

2 Comments

  1. রুবাই

    খুব সুন্দর লেখা। লেখার থেকেও বেশি সুন্দর লেখার এই ধরনটা। লেখককে শুভেচ্ছা জানাই। সঙ্গে অনুরোধ যাতে এইরকম এক্সপেরিমেন্টাল লেখা আরও আসে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।