পুলিশ অফিসারের পোড়া কপাল

লেখক : আত্রেয়ী সরকার

পুলিশ স্টেশনে ফোন আসতেই অফিসর ফোন তুলে “হ্যালো” বলেন। ফোনটা তোলার পর উনি শোনেন একটা বাচ্চা বলছে, “এটা কি পুলিশ স্টেশন?”
অফিসর উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ।”
“আপনি কে??”
পুলিশ অফিসরের একটু বিরক্তকর লাগছিল। পুলিশ স্টেশনে ফোন করে কেউ জিজ্ঞেস করে আপনি কে? বললেন, “আমি পুলিশ অফিসর।”
“খুব দুঃখের ব্যাপার স্যার, আপনার সময়টা এখন মারাত্মক খারাপ যাবে।”
এই বলে বাচ্চাটা ফোন রেখে দেয়।
অফিসরের মনে হয়, “ধুর, মেণ্টাল পেশেণ্ট হবে বোধহয়।”

কিছুক্ষণ বাদে আবার ফোন আসতে, অফিসর আবারও ফোন তুলে “হ্যালো” বললেন।
ফোন তুলে শোনেন আবার বাচ্চাটা ফোন করেছে আর বলছে, “মন্ত্র পড়ুন এক্ষুনি, নইলে আপনার সর্বনাশ হবে।”
পুলিশ অফিসার বিরক্ত হয়ে এবার নিজেই ফোন রেখে দিলেন। পুলিশ অফিসরের খুব রাগ হচ্ছিল। মনে মনে ভাবছে, “বাচ্চাটাকে পিটিয়ে তক্তা করব এবার, আর যদি একবারও ফোন করে।”
আবার কিছুক্ষণ বাদে ফোন বাজতে অফিসর ফোন তুলে চিল্লিয়ে বলে, “হারামজাদা, তোর কোন কাজ নেই? পুলিশ স্টেশনে ফোন করে শয়তানি করছিস? থাপ্পড় মেরে গাল লাল করে দেব আমি তোর।”
“তোমার এত বড় স্পর্ধা, তুমি আমাকে বলছ, শয়তান, থাপ্পড় মারব? কোন সাহসে বলছ?”
পুলিশ অফিসর দেখেন, এবার বাচ্চাটা নয়, ওসি ফোন করেছে। কিছু না শুনেই ও ওসিকে এসব বলে ফেলেছে। এই ভেবে অফিসর থরথর করে কাপছিল, মুখ-হাত-পা ঘেমে যাচ্ছিল। বুঝতেই পারছিল, ওসি খচে বোম হয়ে গেছে। পুলিশ অফিসার চুপ করে ছিল।
ওসি চেঁচিয়ে বলে, “চুপ করে আছ কেন?”
পুলিশ অফিসর বলে, “না স্যার, আমি আপনাকে কেন বলব এরকম কথা? আসলে একটা বাচ্চা ইচ্ছা করে ফোন করে আলফাল বকছিল। দু’বার ফোন করেছিল। আমি তাই ভেবেছি…”
ওসি চেঁচিয়ে বলে, “তুমি তাই ভেবেছিলে, পুলিশ স্টেশনে একমাত্র বাচ্চাটাই ফোন করতে পারে। আমার বাচ্চাটাকে নয়, তোমাকে একটা গাধা আর অসভ্য লাগছে। বাচ্চাটা যদি এরকম করেই থাকে, তুমি প্রথমেই ওকে বকা দিয়ে থামাতে পারলে না? কি করতে পুলিশ হয়ছ তুমি?”
অফিসর ঢোক গিলতে গিলতে বলে, “সরি স্যার, আমি এরকম আর কোনদিনও করব না। আমায় ক্ষমা করে দিন, প্লিজ।”
ওসি ক্রোধে চেঁচিয়ে বলে, “এত সহজে আমি তোমায় ক্ষমা করব না। আমার ডিপার্টমেণ্টে এক্ষুনি এস তুমি।”

মনে মনে টেনশনে অফিসরের প্রায় কাঁদো-কাঁদো দশা। ভাবে, ওসি ওকে দূরে কোথাও ট্রান্সফার না করে দেয়। পুলিশ অফিসার ওসির কাছে পৌঁছতেই ওসি ওকে দেখে বলে, “ইচ্ছা তো করছে জুতো ছুঁড়ে মারি।”
কথাটা শুনে পুলিশ অফিসার থর থর করে কাঁপছিল।
ওসি বলে, “তোমার মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি এক্ষুনি পেচ্ছাপ করে ফেলবে।”
“স্যার, এরকম বলবেন না, প্লিজ।”
“ইউ আর সাসপেণ্ডেড ফর ওয়ান মান্থ।”
“স্যার, প্লিজ আমায় সাসপেণ্ড করবেন না। আমার একটা সংসার আছে। আপনি যা বলবেন আমি তাই করব।”
“আচ্ছা?” ওসি তখনও রেগে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। “বেশ। তাহলে নিজের দুই গালে চারটে করে থাপ্পড় মারো।”
বেচারা অফিসর কাঁদো কাঁদো ভাবে তাই করছিল।
ওসি আবার চেঁচিয়ে বলল, “এত আস্তে কেন? আরও জোরে মারো।”
পুলিশ অফিসরের দুই গাল লাল হয়ে যায়।

বাড়ি ফিরে আসতে পুলিশ অফিসরের গাল লাল দেখে ওনার বউ জিজ্ঞেস করে, “একি? তোমার গাল লাল কেন?”
অফিসর চেঁচিয়ে বলে, “চুপ করো।”
“যাঃ বাবা? আমি কি করলাম? ঘামছ কেন?”
“একটা শুয়োরের জন্য।”
“কী? আজ তোমার পুলিশ স্টেশনে শুয়োর এসেছিল? কী করে?”
অফিসারের বউ দেখে পুলিশ অফিসার কথাই বলছে না। তাই আবার বলল, “কী মুশকিল। রেগেও থাকবে, আর বলবেও না কি হয়েছে।”
“আজ পুলিশ স্টেশনে একটা বাচ্চা একবার ফোন করে বলে আমার নাকি আজ সময় খারাপ। মেণ্টাল পেশেণ্ট ভেবে পাত্তা দিই নি। আবার ফোন করে হতচ্ছাড়া বলেছে মন্ত্র পড়তে। ভেবে রেখেছিলাম, আর যদি ফোন করে, তাহলে উচিত শিক্ষা দেব। কিন্তু তারপর যে ওসি ফোন করেছে, আমি তা না জেনেই ওসিকে যা তা বলে ফেলেছিলাম। ওসি তাই সাসপেণ্ড করে দিচ্ছিল। শেষে বললাম, উনি যা বলবেন আমি তাই করব। ওসি এইরকম করল আমার সাথে।”
“দেখলে, কতবার বলি, বাচ্চাদের মধ্যে ঈশ্বর থাকে, মানতেই চাও না।”
অফিসর রেগে বলল, “চুপ করো তো। আমার মাথা খারাপ করো না। মন্ত্র পড়ব? শালাকে পেলে আমি পিটিয়ে শেষ করব।”
“এ মা, ছিঃ, কি বলছ।”
“তাই-ই করব আমি।”
“এরকম ভুলেও করো না। বাচ্চাটার ওপর মনে মনে রেগেছ, তাই তোমায় থাপ্পড় খেতে হল। ওকে মেরেছ শুনলে ওসি যদি তোমায় নিলডাউন করিয়ে দেয়, কী হবে বলো তো?”


লেখক পরিচিতি : আত্রেয়ী সরকার
রাইটার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up