জল ও কাঁচের গ্লাস দ্বারা ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস গঠন ও তার প্রয়োগ

লেখক: সৌম্যদীপ মৈত্র ও শামসাদ বেগম

আলো হলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, এটি শব্দ তরঙ্গের মতো নয় যার প্রসারের জন্য কঠিন, তরল বা গ্যাস মাধ্যম প্রয়োজন, এটি শূন্য মাধ্যমেও বিস্তার লাভ করতে পারে। যে মাধ্যমে আলো প্রসার করে সেই মাধ্যমের রিফ্রাক্টিভ ইনডেক্স বা প্রতিসরাঙ্ক C/V দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে C হলো শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ এবং V মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলোর বেগ। এই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গটি যখন কোনও বস্তুর উপর পড়ে তখন তা প্রতিফলিত হয়, প্রতিসৃত হয় এবং শোষিত হয়। যদি কোনও আলোকরশ্মির প্রায় সমস্ত অংশ কোনও বস্তুর মাধ্যমে সঞ্চারিত হয় তবে আমরা পরিষ্কারভাবে বস্তুটির মধ্যে দিয়ে ওপর প্রান্তে থাকা কোনো জিনিসকে দেখতে পারি এবং সেই জাতীয় বস্তুকে আলোক স্বচ্ছ বলা হয় যেমন কাচ। আমরা কেবল আলোর দৃশ্যমান বর্ণালীকে দেখতে পায় যার তরঙ্গদর্ঘ্য রেঞ্জ হলো ৩৮০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার।

কোনো বস্তু থেকে আলোকরশ্মি যখন আমাদের চোখে রেটিনায় প্রতিবিম্বের গঠন করে তখন আমরা সেই বস্তুটিকে দেখতে পায়। এখন, আমরা যদি কোনো বস্তুকে বিবর্ধিতভাবে দেখতে চায় অর্থাৎ বস্তুর স্বাভাবিক আকার অপেক্ষা বড় তাহলে আমাদের উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে হবে। এই উত্তল লেন্স বস্তুর স্বাভাবিক প্রতিবিম্বকে বিবর্ধিত করে ফলে বস্তু বড় আকারের দেখায়। আমাদের ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাসে এই উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উত্তল লেন্স আর একটি মূল ধর্ম হলো লেন্সের মূল অক্ষের সাথে সমান্তরালভাবে আগত আলোক রশ্মিগুলো লেন্স দ্বারা প্রতিসৃত হওয়ার পরে একটি নির্দিষ্টিত বিন্দুতে মিলিত হয় অর্থাৎ কনভার্জ হয় এবং ঠিক এই কারণেই এই লেন্সকে বলা হয় কনভারজিং লেন্স। অনেক সময় আমাদের ছোট লিখা পড়তে অসুবিধা হয় তখন আমরা এই ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস ব্যবহার করে পড়লে অনেকটা সুবিধা হয় কিন্তু সবসময় তো সবার কাছে ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস থাকে না সেজন্য আমরা একটি খুব সহজ উপায়ে এটিকে তৈরি করতে পারি এবং দরকারে ব্যাবহার করতে পারি। আমরা যখন কোনো ওষুধের প্যাকেটের গায়ে থাকা ছোট ছোট লিখাগুলো পড়ি তখন আমাদের সেগুলো বুঝতে অসুবিধা হয় অনেকসময় তাই আমরা যদি সেগুলোকে বিবর্ধিত করে পড়ি তাহলে বুঝতে সুবিধা হয় আর ভালো করে পড়া যায়।

আমরা যদি একটি শুধু কাচের গ্লাসের (জল খাবার গ্লাস সাধারণ) মধ্যে দিয়ে কোনো একটি লেখা বা কোনো বস্তুকে দেখি তাহলে বস্তুর বা লিখাটিকে বড় দেখব না কিন্তু আমরা যদি কাচের গ্লাসটিতে পুরো গ্লাসভর্তি করে জলনি এবং বস্তুটিকে বা লেখাটিকে গ্লাসের সাথে ঠেকিয়ে রেখে গ্লাসের ওপর প্রান্তে আমাদের চোখকে রেখে বস্তু বা লেখাটিকে দেখি গ্লাসের মধ্যে দিয়ে তাহলে দেখবো যে সেগুলোকে আকারে বড় দেখাচ্ছে। ঠিক একইভাবে আমরা যদি লেখাটিকে বা ওষুধের প্যাকেটটিকে জল ভর্তি গ্লাসের তলায় রেখেও দেখি তাহলেও দেখবো যে সেটিকে বিবর্ধিত দেখাচ্ছে কিন্তু উপরের পক্রিয়াটিতে লেখাগুলো আরো ভালোভাবে বোঝা যাবে।

এক্ষেত্রে আলোকরশ্মি বস্তু থেকে নির্গত হয়ে প্রথমে কাচ যেটি জলের সাপেক্ষে ঘন মাধ্যম তারপর কাচ থেকে জল (লঘু মাধ্যম) দিয়ে আবার কাচ (ঘন মাধ্যম) এর মধ্যে দিয়ে বায়ুর মধ্যে দিয়ে বিস্তার লাভ করে আমাদের চোখে আপতিত হচ্ছে এবং এই কাচ জলের সমন্বয় উত্তল লেন্সের মতন কাজ করে বস্তুটির বিবর্ধিত প্রতিবিম্বের গঠন করছে। এই দুই উপায়ে আমরা খুব সহজভাবে বিবর্ধিত করে লেখা পড়তে সক্ষম হবো।


তথ্যসূত্র

1)Visible Light , Introduction the electromagnetic spectrum –NASA science (https://science.nasa.gov/ems/09_visiblelight)
2)Wave behavior , , Introduction the electromagnetic spectrum –NASA science .  (https://science.nasa.gov/ems/03_behaviors)
3)Refraction of Light – Hyperphysics (http://hyperphysics.phy-astr.gsu.edu)


লেখকের কথা: সৌম্যদীপ মৈত্র শামসাদ বেগম  
সৌম্যদীপ মৈত্র জঙ্গীপুর কলেজ (কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্গত) পদার্থবিদ্যা বিভাগের  দ্বিতীয় বর্ষের  ছাত্র; বাসস্থান – মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত জঙ্গীপুর।

শামসাদ বেগম জঙ্গীপুর কলেজ (কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্গত) পদার্থবিদ্যা বিভাগের  দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী; বাসস্থান – মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত  রঘুনাথগঞ্জ।

পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের  বিশেষ আগ্রহ  বিজ্ঞানকে আমাদের জীবনের নানান ক্ষেত্রে প্রয়োগ এবং সেই উদ্দেশ্যে  বিজ্ঞানের বিষয়গুলো নিয়ে ছোট ছোট পরীক্ষা নিরীক্ষা করা। এছাড়াও আমাদের ভালো লাগে বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের জীবনী নিয়ে জানতে এবং  বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে ও ধারণাগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলে ধরতে যাতে তাঁরা সেগুলোকে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন। 

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন
  •  
  •  
  •  
  •  

2 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।