ভালোবাসার পোস্টমর্টেম

লেখক : তৈয়ব খান

‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ “I LOVE YOU” এমন কথা যদি কেউ আপনাকে বলে, তবে বুঝবেন আপনার প্রতি বক্তার একটা ভালোলাগা কাজ করছিলো বহুদিন থেকেই। কেননা, চট করে কেউ কাউকে এ কথা বলতে পারে না। বলার আগে বক্তার ভেতরের যে আবেগ কাজ করে, তা একদিনে জন্মায়নি।’ ভালোবাসা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অনেকেই এভাবে বলেন। আবার প্রথম দেখায় প্রেম, অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। এটা নিছক প্রেম না মোহ এটা বিচার করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে প্রথম দেখায় প্রেম হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ঘর বেঁধেছে। এটিও সত্য। ভালোবাসতে কিংবা ভালোবাসা পেতে যে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। একটা ছন্দ পড়েছিলাম, রবীন্দ্রনাথের, ‘প্রেমের এই ফাঁদ পাতা ভূবনে/কে কখন ধরা পড়ে কে জানে।’ তাই কখন প্রেমে পড়বেন, এটা বলা দুষ্কর। এমনটাও কেউ কেউ বলেন ‘দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছরও কেটে যাওয়ার পরও, একই সাথে বসবাস করেও ভালোবাসি কথাটি শোনার সৌভাগ্য অনেকের হয় না। যাদের হয় না, তারা দুর্ভাগা।

ভালোবাসতে গেলে বা ভালোবাসা পেতে গেলে গুণের দরকার, এটা চেহারায় পায় না। আবার, একটা প্রবাদ আছে, ‘আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারি’ এটিও ফেলে দেবার মতো নয়। কেউ যদি কারো চেহারার সৌন্দর্য দেখে প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তবে তার স্থায়িস্থটা কমই হয় বৈকি। মান্না দে যদিও গেয়েছেন- ‘ও কেন এতো সুন্দরী হলো/অমনি করে ফিরে তাকালো/দেখে তো আমি মুগ্ধ হবোই/ আমি তো মানুষ…।‘ কিন্তু কেউ যদি কারো পাশে থেকে, তার ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে তার স্থায়ীত্বটা দীর্ঘ হয়, এমনটাই দেখা গেছে। কেননা দেহজ সৌন্দর্য একটা সময়ে আর প্রকট থাকে না। পক্ষান্তরে মনের সৌন্দর্য সবসময়ই আকৃষ্ট করতে পারে। তাই যদি না-ই হতো, তবে বয়ষ্ক যতো দম্পতি আছেন, তারা একে অন্যকে রেখে পালাতেন। দর্শনধারী এবং গুণবিচারি দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দর্শনধারী এবং তার পাশাপাশি যদি কারো সুন্দর, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব বা গুণ থাকে, সেক্ষেত্রে ভালোবাসাটা অনেক অনেক দীর্ঘস্থায়ীত্ব লাভ করে। কারো প্রকৃত ভালোবাসা পেতে হলে ব্যক্তির দৈহিক সৌন্দর্য এবং মনোজগতের সৌন্দর্য দুটোরই দরকার। প্রথমটার প্রতি আকর্ষণ প্রথম দেখাতেও হয়ে যেতে পারে আবার অনেকটা সময়ও লাগতে পারে। আর মনোজগতের সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় সহাবস্থানের ফলে। এ দুটো বিষয় যার ভেতর আছে, তার প্রতি দিনে দিনে ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। এ ভালো লাগাগুলো জমতে জমতে বুকের ভেতরে ভালোরকমভাবে বাসা বেঁধে ফেলে। আর যায় কোথায়! মুখ ফসকে এক সময় বলে বসে- ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’।

তো! ভালোবাসা হয়ে গেলো! এখন!

ভালোবাসা শব্দটির যদি পোস্টমর্টেম করি তো দাঁড়ায়, ভা- ভালোর বসত, ল- লক্ষ্যের প্রতি আকর্ষণ, বা- বাধা ডিঙানো এবং সা- সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার সাধনা। অপরদিকে ইংরেজি LOVE হচ্ছে- L- লস্ট অব হার্ট, O- ওশেন অব টিয়ার, V- ভ্যালি অব সরো এবং E- এন্ড অব লাইফ।

বাংলা পোস্ট মর্টেমটা আমার আবিষ্কার, ইংরেজিটা ম্যাগাজিনে পড়া। কোন ম্যাগাজিনে পড়েছি মনে না থাকলেও অন্তত ইংরেজিটার মতো আমি কাউকে নিরুৎসাহিত করিনি এই যা রক্ষে। নইলে বাংলাদেশে একটা বিশেষ দিনকে পালন করতে তরুণ-তরুণীরা যেভাবে অতি উৎসাহী হয়ে উঠে, তাদের নিরুৎসাহিত করে শেষতক মার খাবো নাকি!

ভালোবাসার বা প্রেমের পরিণতি কী? আবার কী! প্রেমের পরিণতি হয় মিলন নয়তো বিরহ। ভালোবাসা এমন মোহনীয় শক্তি, এটা মিলনে যেমন থাকে তেমনি বিরহেও থাকে। শরৎচন্দ্র বলেছেন- ‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়।’ ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত মিলনে গড়ায় এমনটাই সচারাচর ঘটে থাকে। কিন্তু দেহজ ও মনোজ সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হবার পর ভালোবাসার ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোর মতো দুর্ভাগাও জগতে আছে।

ভালোবাসার অনুভূতি কেমন! এক কথায় বিচিত্র। ‘ভালোবাসি’ কথাটা প্রথমবারের মতো বলার বা শোনার মুহূর্তে আপনার যে অনুভূতি, এটা আপনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। শ্যামল মিত্র যেমন গেয়েছেন- ‘ভালোবাসো তুমি বলেছো অনেকবার/তবো সেদিনেরও মতো লাগেনি তো কভূ আর/ সেদিন আমার প্রথম ফাগুন বেলা/মাধবী শাখায় অনেক ফুলের মেলা/সে ফাগুন আরও এসেছে যে বারেবার…।’

প্রথমবারের মতো ‘ভালোবাসি’ শোনার সাথে সাথে আপনার ভেতরে একটা চনমনে ভাবের জন্ম নিতে পারে। শব্দের শক্তি আছে। ভালোবাসি শব্দের যে শক্তি এটা আপনার রক্তে একটা নাচন তুলতে পারে, ঝিমঝিম করে উঠতে পারে সারা দেহ। ভালোবাসি শব্দটার শক্তির আবেশে আপনি বিবশ হয়ে যেতে পারেন। আপনার অস্তিত্বে কাঁপন তুলতে পারে এ শব্দ। উলটপালট হয়ে যেতে পারে পরবর্তী জীবন। সুতরাং….

ভালোবাসার কি শ্রেণিবিন্যাস হয়! একশোবার হয়। ভালোবাসারও আছে রকমফের। সকাম ও নিষ্কাম প্রেম বা ভালোবাসা। এটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। ভালোবাসা সম্পর্কে এতোক্ষণ যে কথাগুলো বললাম, এটা প্রাপ্ত বয়ষ্ক নর-নারীর স্বাভাবিক প্রণয় বা প্রেম। এ ভালোবাসার সাথে দেহজ সম্পর্ক থাকবে। যে ভালোবাসা কামের দিকে ধেয়ে যায়, বুঝতে হবে সেখানে পাশাপাশি দুটি মেরুর অস্তিত্ব আছে, নর এবং নারী। যে ভালোবাসা সমস্ত সৃষ্টিজগতের জন্য, সেখানে কাম থাকবে না। বিশ্ব প্রেমে পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, শান্তি, কল্যাণ, অগ্রগতি, করুণা, শ্রদ্ধা, স্নেহ ইত্যাদির অবস্থানটাই প্রকট থাকে। নিষ্কাম ভালোবাসাটা ব্যাপক অর্থে প্রকাশ পায়। স্রষ্টার প্রতি অবনত মস্তকে যে নিবেদন, এর পুরোটাই নিষ্কাম। বাবা-মা তার সন্তানকে ভালোবাসেন, ভাই তার বোনকে ভালোবাসে কিংবা বোন ভাইকে। ছোট বড়কে ভালোবাসে, বড় ছোটকে। এগুলোও নিষ্কাম। ভালোবাসা বয়স, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রভেদে হয় না।

১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে যে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়ে আসছে, সেটা আসলে কোন অর্থে গৃহীত? আমরা দেখছি, এ দিনটিকে একটি বিশেষ বয়সের নর-নারী অন্যরকমভাবে গ্রহণ করেছে। যেখানে নিছক আনন্দ আর উপভোগ প্রাধান্য পেয়েছে। মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেলে যা হয়, এখানেও তাই হয়েছে।

আমার ভেতরে কৌতুহল ছিলো, কেন আমরা ভালোবাসা প্রকাশ করতে একটি বিশেষ দিনকে বেছে নেবো! কী আছে এর পেছনে? এটা কোন ধরনের ভালোবাসা, যে সবাই এ দিনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে? কেন এ ভ্যালেন্টাইন ডে? কে ছিলো ভ্যালেন্টাইন? কেনইবা ১৪ ফেব্রুয়ারি!

এক ভ্যালেন্টাইন ছিলেন পাদ্রি এবং সেই সাথে চিকিৎসক। পাদ্রি মানে; উনি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সে সময় রোমানরা দেব-দেবীর পূজা করতো বিধায় রোমানরা তখন খ্রিস্টিয়ান ধর্মে বিশ্বাসী ছিল না। তাই ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর আদেশে ভ্যালেন্টাইন এর মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। তিনি যখন জেলে বন্দী ছিলেন (২৬৯ খ্রিস্টাব্দ) তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিতো। বন্দী অবস্থাতেই জেলার এর অন্ধ মেয়ের চোখের সফল চিকিৎসা করে দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হন এই সাধক। এতে মেয়েটির সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টব্দে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস্ ডে হিসেবে ঘোষণা করেন।

কেউ আরো একজন ভ্যালেন্টাইন এর নাম উল্লেখ করেছেন। যিনি রাজার আদেশ অমান্য করে প্রেম করেছিলেন এবং পরে বিয়ে করেছিলেন। আদেশটা হলো: কোন যুবক যুবতী বিয়ে করতে পারবে না। কারণ, ঐ সময়ে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য ভালো সৈন্য সংগ্রহ করতে এ আদেশ করেন। ভ্যালেন্টাইন এ আদেশ অমান্য করেন, ফলে তার মৃত্যুদ- হয়।

কী চেয়েছিলেন ভ্যালেন্টাইন- সকাম ভালোবাসা না নিষ্কাম? গির্জার একজন পাদ্রি যে ভালোবাসার প্রতি আহ্বান করে তাতে দু’ধরনের নির্দেশনা থাকে। প্রথমত: স্রষ্টার বিধান ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করে সৃষ্টিজগতের প্রতি সেবা, ত্যাগের আদর্শ নিয়ে নিষ্কাম ভালোবাসার প্রতি আহ্বান। দ্বিতীয়ত: স্রষ্টার বিধান ঘোষণা করে জাগতিক ক্রিয়া কর্মের জন্য প্রাপ্ত বয়ষ্ক নর-নারীকে সাংসারিক বন্ধনের প্রতি আহ্বান। দু’টো ক্ষেত্রেই স্রষ্টাকে খুশি করার প্রবণতা বিদ্যমান। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে যে কারণে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়, তাতে প্রথম ভ্যালেনটাইনের ক্ষেত্রে স্রষ্টার বিধান প্রচারের জন্য অর্থাৎ ধর্ম প্রচারের জন্য এবং দ্বিতীয় ভ্যালেনটাইনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, নর-নারীর জাগতিক ক্রিয়াকর্মের উদ্দেশ্যে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্ধন সৃষ্টি করার অপরাধে। দুটো ক্ষেত্রেই ইহ ও পরজাগতিক কল্যাণ থাকা সত্বেও নির্মমভাবে তাদের মৃত্যুকে বরণ করতে হয়েছিলো। পৃথিবীতে ভালো কাজের জন্য দোষী হয়ে মৃত্যু বরণকারীগণ বরণীয় হয়ে থাকেন। তাদের স্মরণেই যদি ভ্যালেন্টাইস ডে’ পালনের সূচনা, তা কোন ক্রমেই খাটো করে দেখার উপায় নেই।

কিন্তু ভালোবাসা দিবস নামে এ সাধকদের স্মৃতিচারণ করে দেশে দেশে যে ভালোবাসা প্রদর্শনের ফল্গুধারা বয়ে চলে, তাতে প্রশংসা করার মতো কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। পাশ্চাত্যে জন্ম দিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই নাকি ভোগের বিষয়টি মুখ্য ছিলো অনেকের অভিমত। ওসব দেশে গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে কেউ কসুর করতো না। খ্রিস্টীয় এ ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেনটাইন উৎসব নিষিদ্ধ হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন উৎসব পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এই দিবস উৎযাপন করা নিষিদ্ধ করে দেয়। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানীতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয় বলে জানা যায়।

চিন্তার বিষয়, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষ বিশেষ দিন নির্দিষ্ট আছে। রাষ্ট্রের জাতীয় উৎসব এবং সামাজিক উৎসব উদ্যাপনের আছে নির্দিষ্ট দিন। এসব নির্দিষ্ট করা দিনগুলোর কোন কোনটি আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে ধরে রেখে শতাব্দীর পর শতাব্দী একই ধারায় পালিত হয়ে আসছে। ভাবগাম্ভীর্য, চেতনায় এই দিবসগুলোর একটুও ভাটা পড়েনি। আবার কোন কোনটি মূল আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে যখন দিনে দিনে বিকৃত হয়ে গেছে, তখন তা পরিতাজ্যও হয়েছে। শুধুমাত্র লৌকিকতা নির্ভরও কিছু দিবস উদযাপিত হয়। মূল আদর্শ থেকে দূরে সরে গিয়ে, কথা ও কাজে অসঙ্গতিপূর্ণ লোক দেখানো এসব দিবসগুলো একসময় পরিতাজ্য হতে বাধ্য। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ তেমনি ইঙ্গিত দিয়ে যায়।

কিছু কিছু উৎসব কুসংস্কারের উপর প্রতিষ্ঠিত। সচেতন সমাজ তা উদযাপন করতে যাবে না। যেমন বহু বছর আগে থেকে রোমানদের মধ্যে প্রেম-বিয়ে এবং সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা বিষয়ে উৎসবের দুটি প্রথা চালু ছিল। লুপারকালিয়া এসব উৎসবের অন্যতম। রোম শহরকে দেবতা লুপারকাস রক্ষা করতেন নেকড়ের আক্রমণ থেকে। অনুষ্ঠানের দিন তরুণরা প্রায় নগ্ন হয়েই দৌড়াদৌড়ি করতো এবং নববিবাহিতাকে তাদের চাবুক দিয়ে পেটাতো। তরুণীরা মনে করতো, এতে সন্তান উৎপাদন সহজ হবে। কেননা এটি ছিল সন্তান উৎপাদনের উৎসব। ১৫ ফেব্রুয়ারি এটি হতো। এর আগের দিন তরুণীরা নাচের পার্টনার লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত করতো। ৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে দুই দিনের উৎসবের সময় কমিয়ে একদিন ১৪ ফেব্রুয়ারিতে পালন করা হয়। অনেকে মনে করতো, ১৪ ফেব্রুয়ারি পাখিরা পার্টনার বেছে নেয়। ফলে এ দিনটি নিবেদনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

আমাদের দেশে আমরা কেন ভ্যালেন্টাইনস ডে’ পালন করবো সে উত্তর খোঁজার চাইতে বরং দিনটি যখন উদযাপন শুরুই হয়েছে তখন বাধা দিয়ে লাভ নেই! তবে দিনটি যে অর্থেই পালন করি না কেন, এটিকে কীভাবে সত্যিকারার্থেই অর্থবহ করে তোলা যায় তার চেষ্টা করা দরকার। এদিনে নারী-পুরুষ সবাই মিলে দেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করুক। নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হোক। নিত্যদিনের হানাহানি, ধর্ষণ, লুটতরাজ, মিথ্যা, নকল, অবৈধ মুনাফা, ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করার অঙ্গিকার গ্রহণ করুক। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ হোক, সুবিচার নিশ্চিত হোক, মানুষের জান মালের হেফাজত হোক তবেই এ ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা ১৪ ফেব্রুয়ারি যা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নামে আখ্যায়িত হয়েছে তা সফল হবে।

হাতে ফুল; মনে ভুল নিয়ে ভালোবাসা যায় না। ভালোবাসতে হলে নিজেকে মেলে ধরতে হয়, ভালোবাসা পেতে হলে নিজেকে কলুষমুক্ত করতে হয়, লোভ, মোহ, ভোগ থেকে দূরে থাকতে হয়। সবাইকে নিজের করে নিতে হয়, নিজে সবার হয়ে যেতে হয়। নিজের স্বত্বাকে অপরের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে বিলীন হয়ে যেতে হয়। অপরের দুঃখে অংশী হতে হয়। নিজের ছবি যখন অন্যের হৃদয়ে ফুটিয়ে তোলা যায়, তখনই মনে করবেন ভালোবাসতে পেরেছেন। মুখে শেখ ফরিদ; বগলে ইট নিয়ে ভালোবাসা হয় না। নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে না পারলে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বলে উদযাপিত একটা দিনের অপচয় হবে। নিজে ভোগ বিলাসে মত্ত্ব থেকে অপরের দুঃখ দারিদ্র দেখে উঁহু আহা করে যে ভালোবাসার প্রকাশ তা ভণ্ডমী ছাড়া কিছু নয়। আন্তর্জাতিক একটি দিবস কখনো দেহ সর্বস্ব, লোক দেখানো, আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ হতে পারে না।

লেখক পরিচিতি : তৈয়ব খান
বাংলাদেশের বাসিন্দা তৈয়ব খান সাহিত্য ভালোবাসেন, লেখেন। একটি প্রকাশনা চালান।

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।