লেখক : অভিজিৎ সুর
তুই বড় অবাধ্য, তুই ভুলেছিস তোর ‘অওকাত’;
কোন আক্কেলে হাত তুললি ঠাকুরদের গায়ে?
না হয় বলেছে তোকে অপবিত্র,
না হয় রেখেছে ফেলে আস্তাকুঁড়ের মত,
না হয় মেরেছে ঢিল,
তাই বলে তুই পাল্টা দিবি জবাব?
কি দুঃসাহস তোর ছেলে!
তুই দেশ ভুলেছিস, সমাজ ভুলেছিস।
তোর পূর্বপুরুষরা লাথি খেয়ে এসেছে চিরদিন
আর তুই কিনা হঠাৎ দাঁড়ালি একা রুখে!
বোকা ছেলে, তুই এই দেশে জন্মে হবি কিনা বিদ্রোহী!!
ধর্ম দিয়েছে বলে, একেবারে নিচে তোর স্থান,
আর তুই কিনা সেই পাথর ঠেলে উঠবি ওপরে!!!
হাঃ হাঃ হাঃ
কি ভেবেছিলি, উচ্চবর্ণের সাথে সমান হবি?
শুধু ‘মানুষ’ কোন পরিচয় নয় এখানে,
এখানে ধর্মই লেখে রক্তের রং।
তোর নিজের রক্ত যখন কপাল ফেটে চোখ বেয়ে নামছিল, তখন কি দেখিসনি সেই লিখন?
তোর ছাই উড়ে গেছে হাওয়ায়,
গণতন্ত্রের ধুলোয় ঢাকা পড়ে গেছে তোর জমাট রক্ত,
আর আমিও আরও অনেক ভণ্ডদের মতই
রেখেছি চোখ অন্ধ করে;
সবকিছু ঠিক আছে, ‘সব চাঙ্গাসি’
হাঃ হাঃ হাঃ
(অনিকেত যাদব ছিল এই দেশের নাগরিক, বয়স ১৭, নয়ডার বাসিন্দা। তার এক বন্ধুর সঙ্গে যখন উচ্চবর্ণের ঠাকুররা দুর্ব্যবহার করে, তখন সে প্রতিবাদ জানায়। তারপর থেকে ঠাকুররা তাকে বর্ণবিদ্বেষমূলক কটুক্তি করতে থাকে। ঘটনার দু’দিন আগে তাকে তার বাড়ির সামনে ঢিল মারা হয়, অনিকেত পাল্টা একজনকে চড় মারে। ঠাকুররা তাকে শাসায় এই বলে যে সে তার ‘অওকাত’ ভুলেছে। ১৫ই অক্টোবর রাত্তিরে যখন অনিকেত নিজের জন্মদিনের কেক কাটছিল, তখন ঠাকুরদের একটি দল আক্রমণ করে লোহার রড আর হকি স্টিক নিয়ে। অনিকেত মারাত্মক আহত হয় এবং নয় দিন পর ২৪শে অক্টোবর হাসপাতালে সে মারা যায়।)
লেখক পরিচিতি : অভিজিৎ সুর
একক জীবন, পরিচিতিহীন

