লেখক : অর্দ্ধেন্দু গায়েন
আমার বিশ্বাস তুই পারবি।
অনেক অচেনা পথ হাঁটবার পরেও
কোনদিন এভাবে ভেঙে পড়তে দেখিনি তোকে।
তবে কি ভালোবাসার ছাদে ঘুণ ধরেছে তোর?
জল পড়ছে চুঁইয়ে চুঁইয়ে বুকের উপর?
নিজেকে একটু সামলে নে। বেরিয়ে এসে দেখ
তোর পাশে দাঁড়িয়ে বন্যা। তোদের একমাত্র মেয়ে
এখনও তোর গন্ধ মেখে ঘুমোতে চায়।
নীরবে বৃষ্টিধারায় ভিজেও
তোর শরীরের অস্থিরতা আজও বর্তমান।
আকাশ আর পৃথিবীর ঘাসফুলেদের
ওড়াওড়ির মাঝে, শিশিরের কণায় কণায়
ছড়িয়ে প’ড়ে তোর ব্যথাদের গুঞ্জনধ্বনি।
চোখের জলে ভেসে আসে দারিদ্রের তীব্র সুবাস।
মায়ের মুখে হাত বুলিয়ে স্বপ্ন খুঁজে বেড়ায়
মচকে যাওয়া একরত্তি মেয়েটা।
তোমরা অর্থ দিয়ে প্যাণ্ডেলের পর প্যাণ্ডেল বানাও, অনেক যত্নে সোহাগ করে সাজাও
মাটির মেয়েটিকে। ‘মা’ বলে পূজাও করো তাকে।
আমার আরাধ্যা দেবী উপোস ক’রে দুবেলা।
কেউ খেয়াল করেছো-? ছিন্ন বস্ত্র দিয়ে,
ও নিজের লজ্জা ঢাকতে চায়? নিষ্পাপ ছোট্ট
উপবাসী মেয়েটার হাত ধরে, আমার শঙ্করী
আজও হতাশার গভীর জলে সাঁতরে বেড়ায়।
লেখক পরিচিতি : অর্দ্ধেন্দু গায়েন
জন্ম উত্তর চব্বিশ পরগনার যোগেশগঞ্জের মাধবকাটী গ্রামে।পেশায় সরকারী চাকুরী হলেও নেশা পড়াশোনা , ইচ্ছে হলেই লেখা-সে কবিতা, ছোটগল্প, অণুগল্প, প্রবন্ধ যা কিছু হতে পারে, অবসরে বাগান করা,ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা ইত্যাদি।তবে সব পরিচয়ের সমাপ্তি ঘটে সৃষ্টিতে --পাঠক যেভাবে চিনবেন আমি সেভাবেই থেকে যাবো।

