অকথিত কিছু কথা…

লেখক : মোঃ সিরাজুল ইসলাম

শুক্রবার রাতে জ্বরটা একটু বেশি ছিল,
হস্টেলের ঘরে নিভু নিভু আলো, কেউ বুঝল না নিঃশ্বাসের হিসাব মিলছিল।
মা বলেছিল, “রবিবার আসছি বাবা, একটু ধৈর্য্য ধর,” ছেলেটা হেসে বলেছিল, “ভাল আছি মা,”
কিন্তু বুকের ভেতর ঢেউ উঠছিল গভীরতর।
বন্ধুরা ঘুমিয়ে, করিডোর নীরব,
জ্বরের আগুনে পুড়ছিল শরীর, কথা বলার শক্তিও ছিল দুর্বল।
ছাদে ঝুলে থাকা চাঁদটা তাকিয়ে ছিল চুপচাপ,
জানত কি সে, এই রাতটাই শেষ রাত?
রবিবার ভোরে ট্রেন ধরল মা-বাবা,
হাতে ফল, ওষুধ, চোখে হাজারও আশা।
হস্টেলের গেটের সামনে পৌঁছনোর আগেই,
একটা ফোন কাঁপিয়ে দিল পৃথিবী, “ছেলেটা… আর নেই। “
যে ছেলেটা বলেছিল, “আমি ঠিক আছি”,
সে তো অপেক্ষা করেই রইল – মায়ের আঁচলের তলে মাথা রাখার।
দরজার ওপারে পড়ে রইল অপাঠিত বই,
বিছানার কোণে জমে থাকল অস্পষ্ট স্বপ্ন আর ভয়।
মা এসে ছেলের কপালে হাত রাখল,
জ্বর নেই, কিন্তু প্রাণও নেই, শুধু নিস্তব্ধতা।
বাবা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল ছেলের লাশের পাশে,
কত কথা ছিল – সব রয়ে গেল বাতাসে।
হস্টেলের ঘর আজও আছে,
কিন্তু হাসিটা নেই, ডাকটা নেই।
কিছু অপেক্ষা এমনই হয়-
দেখা হওয়ার ঠিক আগেই সব শেষ হয়ে যায়।


লেখক পরিচিতি : মোঃ সিরাজুল ইসলাম
মুর্শিদাবাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ১৮ বছর বয়স। ক্লাস 5 থেকেই লেখালিখি করি কিন্ত বিশেষ কারণে ক্লাস 6 এ আমার কবিতার খাতা হারিয়ে যাওয়ায় সেরকম করে কবিতা লিখতে ইচ্ছা করতো না। আর যেগুলো লিখতাম সেগুলো নিজের কাছে রাখতে পারতাম না, লিখতাম আর ছিঁড়ে দিতাম না হয় জলে ভাসিয়ে দিতাম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up