ঢাকঢোল

লেখক : জয়শ্রী পাল

একবার বিপ্লব করেছিলাম। ফলাফল যে কী নিদারুণ হয়েছিল, তা আর কহতব্য নয়। ছোটবেলা থেকেই হাঁদাগঙ্গারাম ছিলাম এবং ভীতুর ডিম। তাহলে কী হবে অমন সংগঠন করা বাবার মেয়ে। রক্তের তেজ তো কিছু থাকবে। অন্ততঃ চোরাগোপ্তা। তখনকার দিনের একমাত্র মেয়ে-পলিটেকনিকের ফাইনাল ইয়ারে উঠেছি। কলেজে তখন মাত্র দুটো পাঠক্রম ছিল। আর্কিটেকচার এবং ইলেকট্রনিক্স। দুইদলের মধ্যে ভাবভালবাসা থাকলেও, একটা অদ্ভুত চাপা রেষারেষিও থাকত। এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যেও।

আমাদের আর্কিটেকচারবাহিনী ভাবত, ইলেকট্রনিক্সের মেয়েগুলো বেশি ঢঙী। এমন ভাব দেখায়, যেন পড়াশোনা করে বিশ্বজয় করবে। আমরা যদি সকলে মিলে ক্লাস বাঙ্ক করতাম, ওরা চোখ গোল-গোল করে ফেলত। এমনকি ওদের বেঁড়েপাকা করবী একদিন বলেই দিল, ‘শিপ্রাদি বলছিলেন, আর্কিটেকচারের মেয়েগুলোর শুধু পাখনাই গজায়নি, প্রত্যেকটার একটা করে ল্যাজও আছে।’

শিপ্রা মিত্র আমাদের স্বনামধন্য প্রিন্সিপাল। ইলেকট্রনিক্স ওনার নিজের বিষয়। সব স্নেহ তাই ওদিকেই গড়াত। আমরা ওনার সৎমেয়ে ছিলাম। অবশ্য আমাদেরও অভিভাবক ছিল। মোটেই অনাথ ছিলাম না। অ্যাসিস্ট্যাণ্ট প্রিন্সিপাল মুকুলদি, আমাদের আর্কিটেকচারের মাথা ছিলেন, অর্থাৎ হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট। এবং আমাদের মাথাগুলো উনিই খেয়েছিলেন। কারন শিপ্রা মিত্রের সঙ্গে ওনার সম্পর্কটাকে ভয়াবহ বললেও কম বলা হয়। সামনাসামনি দেঁতো হাসি হাসলেও, আড়ালে দুজন দুজনকে প্রায় চিবিয়ে খেয়ে ফেলেন, হাল এমনি ছিল। আমাদের মাথা খাবার জন্য আরো একজন ছিলেন। আধপাগলা স্যার সি-আর-বি তথা চিত্তরঞ্জন বোস। শিপ্রা মিত্রের ওপর তিনিও কম খাপ্পা ছিলেন না। হয়ত কোন কারণে দাগা-টাগা খেয়েছিলেন। মন্দ কথা হাওয়ায় ওড়ানোর স্বভাব, কলেজের মেয়েদের ভালই ছিল। সেগুলো লম্বা একটানা ক্লাস করার ফাঁকে, চাটনির কাজ করত। থার্ড ইয়ারে ওঠার পরই গুরুদায়িত্ব এসে পড়ল, কলেজের কালচারাল কমিটি সিলেকশন এবং তার জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচনের। প্রায় প্রতিবারই ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে ‘জি-এস’ নির্বাচিত হয়ে থাকে। এবার আমরা বললাম, ‘কভি নেহি। লড়কে লেঙ্গে ‘জি-এস’ পোস্ট!’

এখানে বলে রাখা ভাল, আমাদের ছ’বন্ধুর দলে আমি ছিলাম সবার ছোট এবং সবচেয়ে এলেবেলে। বাকিদের পোঁ ধরে ত্যাঁদড়ামি করতাম। ‘জি-এস’ সিলেকশনের জন্য রীতিমত ব্যালটবাক্সে ভোট জমা পড়ত। খুব উৎসাহী হয়ে সবাই মিলে আমাদের দলের সুপ্তিকে ক্যাণ্ডিডেট করলাম। ও বেশ লম্বাচওড়া আছে। আর পড়াশোনায় অষ্টরম্ভা হলেও বেশ বলিয়েকইয়ে। ফটাফট মুখ চালাতেও পারে।

অবশেষে এল ভোটের দিন। সাংঘাতিক উত্তেজনায় আমরা ফুটছি। ‘কী হয়, কী হয়’ ভাব। এমন সময় দোতলার হল থেকে, তিস্তা ছুটতে ছুটতে নেমে এল। ‘এই সবাই চল শিগ্গির। ভোটে কারচুপি হচ্ছে। ওদের দীপান্বিতা আর শিখা দু’বার করে ভোট দিল। একবার নিজেদেরটা। আরেকবার অনিতা আর দেবিকার জায়গায়। আমি প্রতিবাদ করায়, রেনুকাদি আমায় ঘর থেকে বের করে দিলেন।’
‘কী? অনিতা-দেবিকা আসেইনি আজ।’
‘আরে, ওদের রেনুকাদি তো সে কথা মানছেনই না। বলছেন, ওরা নাকি সকাল সকাল এসে সবার প্রথমে ভোট দিয়ে চলে গেছে। অথচ আমি ভোট শুরু হবার আগে থেকে হলে রয়েছি। বলতে গেলাম, হল থেকে বেরিয়ে যেতে বললেন, মিথ্যে ঝামেলা করছি বলে।’
ব্যস্‌! আর যায় কোথায়? বিশাখা, তিস্তা, সুপ্তি, সোনালী, মিত্রা এবং ওদের ল্যাজ ধরে আমিও দৌড় দিলাম, দোতলার হলের দিকে। ভোটটা ওখানেই হচ্ছিল। ওদিকে ততক্ষণে ভোট-টোট গুনেগেঁথে রেনুকাদি ঘোষণা করেছেন, ‘এবারকার জি-এস ইলেকট্রনিক্সের অলকা বোস।’
আমরা ঢুকে পড়লাম, ‘মানছি না’ ‘মানব না’ করতে করতে। সেখান থেকে শিপ্রা মিত্রের সদরদপ্তরে। প্রিন্সিপাল দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললেন, ‘বাঁদরামো হচ্ছে? ইলেকশানে যে জিতেছে, সে-ই জি-এস হবে। পারবতীয়া এদের সব কটাকে, আমার ঘর থেকে বার করে দে।’ পারবতীয়া শিপ্রাদির পেয়ারের মেয়ে-পিওন। হাতির মত গতর, পুতনা রাক্ষসীর মত চন্দ্রবদন।
‘ভাগো হিঁয়াসে,’ বলে মুখ ভেঙচিয়ে, আমাদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। অবশ্য আমাদের বিশাখাও কিছু কম যায় না। পারবতীয়ার পাহাড়প্রমাণ কোঁকে রামগুঁতো মেরে এসেছে।

এরপর ষড়যন্ত্র সভা বসল।
‘কিম্‌ কর্তব্য এবার?’
মুকুলদি তাঁর ডলপুতুলের মত কোঁকড়াচুলো মাথা ঘন ঘন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বললেন, ‘প্রতিবাদ করো তোমরা। অ্যাটেনডেন্স আমরা সামলে দেব।’
সি-আর-বি বুদ্ধি জোগালেন, ‘পোস্টার সাঁটাও দেওয়ালে। শিপ্রা মিত্রের মুখে চুনকালি লাগানো দরকার।’
পোস্টার শুনেই বন্ধুমহল ঘাবড়ে গেল। তখন আমি অগতির গতি বীরাঙ্গনা একাই এগিয়ে এলাম, ‘আমি জানি পোস্টার কী করে লিখতে হয়।’
বন্ধুরা উৎসাহিত, ‘পারবি তুই?’
(আহা, আমার বলে কতদিনের শখ পোস্টার লেখার।) তাড়াতাড়ি ঘাড় নাড়ি, ‘খুব পারব। কিন্তু একা একা আর কটা লিখতে পারব? অন্যদেরও লিখতে হবে।’
পোস্টার কিভাবে লেখা হয় তা বিস্তারিত ভাবে বন্ধুদের বোঝাতে বসি। ওরা কী বোঝে ওরাই জানে। ‘হ্যাঁ,হ্যাঁ’ করে মাথা নেড়ে দেয়।

বাড়ী ফিরে ঠ্যাঙ ছড়িয়ে, খবরের কাগজের ওপর আলতা দিয়ে গোটা গোটা করে লিখতে শুরু করলাম, ‘শিপ্রা মিত্রের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিপ্রা মিত্র নিপাত যাক’, ‘দুর্নীতিপরায়ন প্রিন্সিপালের অপসারণন চাই’ ইত্যাদি, ইত্যাদি জ্বালাময়ী শব্দ নিয়ে অক্ষরে আগুন জ্বালতে শুরু করেছি, বাবা ঘরে ঢুকে বলল, ‘পড়াশোনা নেই তোর? এসব কী নচ্ছারমি হচ্ছে?’
বাবার কথায় মনে ভারী কষ্ট হল। কমরেডকাকুদের কতদিন দেখেছি, লাল, বেগুনি, সবুজ রঙে ব্রাশ চুবিয়ে, বুলিয়ে বুলিয়ে পোস্টার লিখতে। বাবা নিজে সে’সব পোস্টারের বয়ান তৈরি করে দিত। আর আমার বেলায় বলছে ‘নচ্ছারমি!’ ভালো তো রে! রাগে গোঁ-গোঁ করতে করতে দশ-বারোটা তেড়াবাঁকা কায়দায় লেখা পোস্টার গুটিয়ে নিয়ে কলেজ রওনা দিলাম। বন্ধুরা পোস্টার দেখে মহাখুশি। পিঠ-ফিট চাপড়েও দিল, ‘বেড়ে লিখেছিস।’
কিন্তু দেখা গেল পোস্টার আমি একাই লিখেছি। বাকিরা ভেবেই পায়নি কী লিখবে পোস্টারে? তিস্তা বলল, ‘যাকগে, মরুকগে। এখন চল এগুলোই লাগিয়ে দিই প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে।’
মিত্রা বাড়ী থেকে আঠা এনেছিল। তাই দিয়ে যখন দেওয়াল সাঁটাচ্ছি, নিজেকে মাও-সে-তুঙ, হোচি-মিন মনে হচ্ছিল। (কমরেডকাকুরা প্রায়ই নামগুলো আওড়াতো কিনা।)
এরমধ্যে পারবতীয়া হাঁউমাঁউ করে ঢুকে পড়ল। ‘ইসব কী কাম হতেছে? দিদিকে বুলাচ্ছি। ঠ্যাহেরো।’
একটা কথা বলতে ভুলে মেরে দিয়েছি। অন্যান্য পলিটেকনিকগুলো ছাত্ররাজনীতির রঙে চুবলেও, মেয়ে-পলিটেকনিকটা তখনও নেহাতই গোবেচারা ছিল। আমরাই বোধহয় বিপ্লবের প্রথম ডাকটা দিয়েছিলাম।

যাই হোক, পারবতীয়ার কিচিরমিচিরে শিপ্রা মিত্র বাইরে এলেন এবং যতপরোনাস্তি রাগে চৌচির হয়ে, আমার অত কষ্টে লেখা পোস্টারগুলো দু’হাতে টেনে ফড় ফড় করে ছিঁড়ে দিলেন, এবং চিৎকার করে বললেন, ‘ফার্স্ট-সেকেণ্ড হ’লেই মানুষ হওয়া যায় না। সব কটা জন্তু।’ বলেই হুকুম দিলেন বড়বাবুকে, ‘এই ছ’টাকে চিনে রাখুন। এদের একটার নামও জি-আই ট্রেনিং-এ যাবে না।’
কলেজ শেষ হলে, বড় বড় কম্পানীগুলো তখন, জি-আই ট্রেনিং দিত হাতেকলমে কাজ শেখানোর জন্য এবং সরকার থেকে তার জন্য একটা ভাতা পাওয়া যেত। কিন্তু সে’সময়ে বিপ্লবের ঘনঘটা এবং মুকুলদি ও সি-আর-বির প্ররোচনায় আমাদের রক্ত এতই দাপাদাপি করছে যে, জি-আই ট্রেণিং খারিজ হবার সম্ভবনাকেও কাঁচকলা দেখিয়ে নিউ সেক্রেটারিয়েটে চললাম। গঙ্গার ধারে নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়েই ছিল তৎকালীন ডিরেক্টার অফ টেকনিকাল এডুকেশন-এর অফিস। সি-আর-বি মন্ত্রণা দিয়েছেন, ‘এমন অসৎ ব্যাপার, ডি-টি-ই কে জানানো দরকার। তিনিই এটার বিহিত করতে পারেন।’
মুকুলদিও ঘাড় দুলিয়ে সায় জানিয়েছেন। ‘ওনাকে অবশ্যই জানানো উচিত। যাও তোমরা।’
গোটা ক্লাস আবার আমাদের ছয়রত্নকেই ঠেলল, ‘তোরা যা। পড়াশোনায় তোরাই ভাল। তোদের অন্ততঃ বকতে পারবেন না।’ অতএব রুটমার্চ – সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং। কিন্তু সেখানে পৌঁছে একগাল মাছি। ডি-টি-ইর অফিস সদাব্যস্ত। সেখানে সেঁধুই কী করে? আর কথা তো বলবে মাত্র একজন। সেই হতভাগ্যটা কে, যে ঘণ্টা বাঁধার দায়িত্ব নেবে?
কপাল আর কার পুড়বে? আমারই পুড়ল শেষে। বাবা তো শুধুমাত্র পলিটেকনিকে চাকরি করতেন না, সমস্ত পশ্চিমবঙ্গ জোড়া পলিটেকনিকগুলোর স্টাফ অ্যাসোসিয়েশানের ফাউণ্ডার মেম্বার এবং সেক্রেটারি ছিলেন। অতএব ডি-টি-ইর অফিসে বেশ কিছু চেনা পরিচিত কাকুদের সঙ্গে দেখা হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। তাঁরা আমাদের বঞ্চনার বর্ণনায় সহানুভূতিশীল হয়ে বললেন, ‘আরে তোমরা ওকে পাঠাও ডি-টি-ইর কাছে। ওর বাবা কত বড় মানুষ, তা জানো? ডি-টি-ই ওনাকে খুব ভাল মত চেনেন।’ ব্যাস, আর কী – বিপ্লবের ষোলকলা পূর্ণ। বন্ধুরা বলির পাঁঠা পেয়ে গেল। ‘যা, তুইই গিয়ে বল। আমরা তোর সঙ্গে থাকব।’

কী আর করা? পা ঘষে ঘষে ডি-টি-ইর ঘরে ঢুকলাম। গম্ভীর শান্ত মানুষটি জানতে চান, ‘কী ব্যাপার তোমাদের? কেন এসেছ?’
‘কারচুপি স্যার।’ কোনওমতে ঢোঁক গিলি আমি।
‘কারচুপি? কিসের? এখন তো কোন এক্সটারনাল চলছে না।’
পেছন থেকে বিপাশা তৎপর হয়, আমার হাঁদামি সামলাতে, ‘কলেজে জি-এস সিলেকশানের ভোট হচ্ছিল স্যার। সেই ভোটেই গোলমাল হয়েছে।’
গম্ভীর ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি যেন ফোটে, ‘পড়াশোনা নেই তোমাদের? ফাইনাল ইয়ার কমপ্লিট করতে হবে না?’
এর মধ্যেই কোন এক পরিচিত কাকু ঢুকে পড়ে আমার পরিচয়টা দিয়ে ফেলেছেন। ‘সে কী! ওনার মেয়ে হয়ে এসব কী কাণ্ড?’
স্বরটা আবার ভারী হয়ে গেছে। ‘যাও, ক্লাস করো গিয়ে। পড়াশোনা শেষ করে এ’সব করো।’
অতএব ছ’টা শুকনো মুখের সুড়সুড়িয়ে প্রস্থান। বাকিদের তাও ওখানেই রেহাই হল।

আমার বেইজ্জত হওয়া তখনও বাকি ছিল। এর চারদিন পর বাবার ঘরে ডাক পড়ল। সেখানে একঘর লোকজন, মানে কাকুরা বসে। তার মধ্যে বাবা বলল, ‘এই যে আমার কন্যারত্নটি। এর কথাই বলছিলেন তো?’
যে কাকুটি সদ্য এসেছেন আমাদের বাড়িতে এবং সেদিন অন্যান্য কাকুদের থেকে আমার পরিচয় জেনেছিলেন, তিনিই উত্তর দেন, ‘আরে হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওকেই তো সেদিন নিউ সেক্রেটারিয়েটে দেখেছিলাম। অশোকবাবু বললেন আপনার মেয়ে। তারপর কী বললেন, তোমাদের ডি-টি-ই?’
ভদ্রলোক উৎসাহী হয়ে জানতে চাইলেন। আর বাবা হোঃ-হোঃ করে হেসে উঠল, ‘বলবেন আর কী? স্রেফ কান মুলে ছেড়ে দিয়েছেন। যেমন এগুলো বজ্জাত। আবার এনার পোস্টারের কী বহর, ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’। আর বলিহারি যাই শিপ্রা মিত্রকেও। ওনার নামে লেখা পোস্টার ভদ্রমহিলা নিজের হাতে ছিঁড়লেন?’

বুঝলাম সব খবরই কানে পৌঁছেছে। বাবাকে খবর দেওয়ার লোকের অভাব আমাদের কলেজেও কম ছিল না। কিন্তু ঘরে-বাইরে এ’ভাবে বেইজ্জত হলে, আর কি বিপ্লব করা চলে? সুতরাং সেই প্রথম এবং শেষ। আমার বিপ্লবের নটেগাছটি ওখানেই মুড়িয়ে গেল।


লেখক পরিচিতি : জয়শ্রী পাল
গল্পকার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up