লেখক : বিপ্লব নসিপুরী
“মামা, তুমি জমির দখল ছাড়বে কিনা বলো?”
ভাগ্নের কথা শুনে নিখিল খুব অবাক হয়ে গেল। কী বলছে সে? আর মুখের ভাষার কী ছিরি! এই দু’দিন আগেও তো এতটুকু ছিল। কোলেপিঠে করে কত নিয়ে বেরিয়েছে সে। রাস্তায়, মাঠে -ঘাটে, ঘাড়ে করে নিয়ে চিনিয়েছে পাখি, ফুল, পাতা। যার মুখের বুলি ফুটে উঠেছে, তার মুখের বুলি শুনে। তার কান কী কখনও আশা করেছিল এমন প্রত্যুত্তর শুনবে। আর মুগ্ধচিত্তে যে তাকে চিনিয়েছে রাতের আকাশ, ভোরের সূর্য, জমির ঢেউ খেলানো ধানের শীষ, আজ সে চোখে সেই নির্মল দৃষ্টি কোথায়? মামা বলতে যে অজ্ঞান, আজ তার কাছ থেকে কী শুনছে সে। কত আর বয়স হবে, মেরেকেটে পঁচিশ। এর মধ্যে এমন কী হ’ল, যে এরকম হুমকির সুরে কথা বলছে।
“নাহ, রাগলে হবে না।” ভাবে নিখিল। মনটাকে যথাসম্ভব নরম করে সে বলল, “কার জমি? কী দখলের কথা বলছিস?”
ছাইচাপা বহ্নিটা পেয়ে গেল অক্সিজেনের হাত। ক্রোধিত চিত্ত বৃদ্ধি করল জিহ্বার গতি। ত্বরা গতির অধরে শুভ বলল, “ন্যাকা, তুমি জানো না কীসের জমি? আমার দাদুর জমি, তুমি দখল করে রেখেছ। আমার আজই চাই।”
নিখিল বুঝতে পারল সব। তিন বছর আগে যখন তার বাবা মারা যান, সে অনুভব করেছিল এমনটা একদিন হবে। তবে তার ভাবনার মেঘটা দুর্যোগের ঘনঘটা হয়ে এত শীঘ্র নেমে আসবে, তা কল্পনা করেনি নিখিল। সে ভেবেছিল, প্রথম বাক্যবাণ ধেয়ে আসবে তার দিদিদের কাছ থেকে। কিন্তু তা না হয়ে ধনুকের হাতের মালিক চলে যাবে উত্তরসূরীর হাতে, এটা ভাবতেও একটু কেমন লাগছে তার। ভিতরের পুঞ্জীভূত ক্রোধকে হিমশীতল চাদরে মুড়ে সে শান্তস্বরে বললে, “জমিতে তোর কোন অধিকার নেই। অধিকার যেটুকু আছে, সেটা তোর মায়ের। তোর মা তো আমাকে কিছু বলেনি।”
ক্রোধাগ্নি আরও শীর্ষে তুলে শুভ বলল, “মায়ের হয়ে আমি এসেছি। এবার বলো, তুমি আমাদের জমি দেবে কিনা। যদি না দাও…”
কথা শেষ করতে পারল না শুভ। তার আগেই নিখিল বলল, “না দিলে কী করবি? মারবি? দ্বাপরে ভাগ্নের হাতেই মারা গেছিল অত্যাচারী মামা কংস। এই ঘোর কলিতে না হয় আমিই গেলাম।”
“তোমার ইমোশনাল প্যানপ্যানানি শোনার সময় আমার নেই। আমি দেখব তুমি কতদিন জমির দখল নিজের কাছে রাখতে পার। তুমি বোধহয় জানো না আমার কতবড় হাত, কত যোগাযোগ। তোমার হাত থেকে জমি আদায় করা আমার বাম হাতের, থুড়ি কড়ে আঙুলের খেল।”
নিখিল শুনেছে বটে তার এই ভাগ্নেটি কুসঙ্গে পড়ে নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এতখানি নষ্ট হয়েছে, তা সে ভাবেনি। সে বলল, “তুই জমি নিয়ে কী করবি? তোর যা মেজাজ দেখছি, তুই দু’দিনে শেষ করে দিবি।”
প্রত্যুত্তরে শুভ বলল, “আমি আমার জমি রাখব না বেচব, না দান করব, তাতে তোমার কী? তুমি শুধু জমির দখল ছাড়বে কিনা বলো?”
নিখিলের শান্তস্বরে বিষণ্ণতার সুর। বলল, “যেহেতু বাবা মরার আগে দান করে যায়নি, তাই এই সম্পত্তিতে তোর মায়ের যতখানি অধিকার আছে, তোর মাসিরও ততখানি অধিকার আছে। কই, ওরা তো চাইছে না? তুই চাইছিস কেন?”
মুখে হালকা হাসির রেখা ফুটিয়ে শুভ বলল, “কে বললে মাসি চাইছে না? অসিতদারাও আসবে। আজ আমি এলাম। কাল হোক, পরশু হোক, ওরা ঠিক আসবে।”
“অসিত তোর মত বেয়াদব নয়। শিক্ষিত, নম্র, ভদ্র, চাকরি করে। ওরা কখনই আসবে না।”
একটা অট্টহাসি হেসে শুভ বলল, “তুমি ওদের ছাই চিনেছ। তুমি কি ভাবলে আমি স্বেচ্ছায় এসেছি?। অসিতদার সাথে আলোচনা করেই এসেছি। হকের জমি কেউ ছাড়বে না মামা। তাতে আমার মত ভিখারি আর ওদের মত ধনী – কোন পার্থক্য নেই। মাটির প্রশ্নে আমরা সবাই টাকার এপিঠ আর ওপিঠ। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছ না বিমলদের? বিমলের বাবা ও জেঠু – দু’জনেরই শহরে ঝাঁ চকচকে বাড়ি, বিলাসবহুল জীবনযাত্রা। অথচ গ্রামের ওই একটুখানি মাটির দখলের জন্য তাদের বাবাদের মধ্যে বাক্যালাপ বন্ধ। বুঝলে মামা, এখন মাটিই হ’ল খাঁটি। যার নেই মাটি, তার জীবনটা ষোল আনাই ফাঁকি।”
একথা নিখিল বিলক্ষণ জানে। তার পিছনেও ঘুরছে দালাল। জমির উপর তাদের তীক্ষ্ণ নজর যেন গৃধ্রচক্ষু। চেয়ে আছে শিকার কখন দুর্বল হয়ে পড়ে। আর হবে নাইবা কেন, নিখিলের জমিগুলো যে সব হাইরোডের পাশে। তাই দালালরা অনেকবার তাকে টোপ দিয়েছে, প্রচুর টাকার লোভ দেখিয়েছে। সে জানে দালালরা তার কাছ থেকে জমি কিনে প্লট করে বিক্রি করে প্রচুর লাভ করবে। সে রাজি হয়নি। তার মানে দালালরা এতেও ক্ষান্ত হয়নি। তার ভাগ্নেদেরও টেনে এনেছে। দালালদের বন্দুকের নলের মুখের সামনে দাঁড়িয়েও সামান্য দ্বিধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি নিখিলকে। কিন্তু ভাগ্নের মাংসল ঠোঁটের বুলি, গুলির থেকেও মারাত্মক আকার ধারণ করলে। জগদ্দল পাথরও যেন নড়ে উঠল শরতের বাতাসে।
বিষাদভরা কণ্ঠে নিখিল বলল, “তুই এখন যাহ। আর যা হবে। সেটা শুধু তোর সামনে হবে না। অসিতরাও থাকবে।”
মামার ভাবনাকে খানিকটা টলতে দেখে শুভ বলল, “আজ আমি যাচ্ছি। কিন্তু আবার আসব।খুব শিগগিরই, তখন কিন্তু…”
তার চলে যাওয়া পথের পানে একদৃষ্টে চেয়ে অতীতের কথা মনে পড়ে গেল নিখিলের। তিন দিদির একটাই ভাই সে। কী আদর আর কী ভালবাসায় কেটেছে সেসব দিন। আজও ভাবলেই মনটা বড় তৃপ্তিতে ভরে আসে তার। আর একটু বড় হয়ে বাবার সঙ্গে মাঠে গিয়ে শিখেছে চাষের কাজ। পড়াশোনায় মতি তার ছিল না এতটুকু। বাবাও জোর করেনি। তার চেয়ে চাষীর ছেলে মন দিয়ে চাষবাস শিখেছে। তার বাবার কথাগুলো মনে পড়ে। বাবা বলত, “মাটি হ’ল মায়ের মত। মাকে যেমন মন দিয়ে ভালবাসবি, সেইরকম মাটিকেও ভালবাসবি। দেখবি, মাটি তোকে তার ভালবাসা শত হাত দিয়ে ফিরিয়ে দেবে। এই মাটি কখনও হাতছাড়া করিস না, কখনও বিক্রি করিস না।”
সে বাবার কথা অন্যথা করেনি। এই মাটিকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করেছে। নিরাশ করেনি মৃন্ময়ী মাতা। তবে বাবার মত পারেনি। তার বাবার হাতে ছিল যেন জাদুর পরশ। উল্লসিত শস্যকণা স্বর্ণকণার মতই আভার বিচ্ছুরণ ঘটাত রবিরশ্মিবারিতে স্নাত হয়ে। ফসলের পানে ঈর্ষাকাতর চোখে দেখত অন্যান্য চাষীরা। সেই ঈর্ষার চোখের অগ্নি আরও দীপ্তি পেল, যখন তার বড়দিদির বিয়ে হ’ল এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। সেদিন খুব কেঁদেছিল নিখিল। কিন্তু তার অন্য দুই দিদির ভালবাসা পুষিয়ে দিয়েছিল অনেকটাই। কিন্তু মেয়ে জনম তো আর বাপের ঘর করার জন্য নয়। মেজদিদির বিয়ের পর খুব ভেঙে পড়েছিল সে। একদিকে মেজদির চলে যাওয়া আর সেই সময়েই ছোটদির মানসিক ব্যাধি যা ক্রমে পাগলামির রূপ নেয়। তার স্নেহময়ী মায়ের স্নেহের হাতকে রুদ্রমূর্তি হতে দেখেছিল সে। কোমল অধরে ফুটেছিল তীক্ষ্ণ কণ্টক পুষ্প। আর সরল হৃদয়ের বাবা, প্রকাশ না করলেও বুঝতে পারত তার গহন হৃদয়ের ব্যথা। কিন্তু যার জন্য এইসব, সে বুঝতে পারেনি। নাহ, বুঝেছিল। তাই হয়ত নিজের কষ্টকে দড়ির টানে প্রলম্বিত করে মুক্তি দিয়েছিল তাদের। দড়ির ফাঁসে ফ্যান থেকে ঝুলছিল নিথর নিষ্প্রাণ দেহ। তখন দেরি হয়ে গেছিল অনেকটা। নিখিল চল্লিশটা বসন্ত কাটিয়ে দিয়েছে। সে জানত, কোন মেয়ে তার ছোটদিকে মেনে নিতে পারবে না। বিবাদ বাঁধবে। তাই সে বিয়ের পথে হাঁটেনি। সবাই বলেছিল বিয়ে করতে। সে রাজি হয়নি। সময় যে একেবারে পেরিয়ে গিয়েছিল, তাও নয়। তবে না করার বাসনাটা মনের খাতে পরতে পরতে এমনভাবে জমেছিল, যে সেখান থেকে জৈবিক চাহিদা উঁকি দিতে পারছিল না। সেটা ভুল না ঠিক, তার বিশ্লেষণ করেনি মন। তবু তার বাবা যখন মৃত্যুশয্যায় বিড়বিড় করে তাকে বলেছিল, “ভুল করলি তুই, বড় ভুল।”
তখন একবারের জন্য হ’লেও মনটা কিছুক্ষণের জন্য বিচলিত হয়েছিল তার। তবে সামান্যই। সে ভেবেছিল, মা আছে, দু’টো ভাগ্নে আছে। ভাগ্নেরা তো ছেলের মতই। অবশ্য প্রতিবেশীরা বলেছিল, “ছেলের মত, ছেলে তো আর নয়।” তবে নিখিল ভাবত, “নাহ, তার ভাগ্নেরা তাকে ফেলবে না। ঠিক দেখবে।” কিন্তু একটু আগে ভাগ্নের যে রূপ সে প্রত্যক্ষ করল, তাতে এতদিনের মনের জোরটা বেশ খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ল।
“শুভ কই? আর ওইরকম চিৎকার করছিল কেন?”
আশি বছরের বৃদ্ধা মায়ের মনে বাড়তি কোন চাপ দিতে চায় না নিখিল। তাই মায়ের প্রশ্নের জবাবে বলল, “ও, কিছু না।”
“দেখ বাবু, ওরা যা চায় দিয়ে দে। ঝামেলা করিস না। এখন নিজের ছেলেরাই ঠিকঠাক দেখে না, তো ভাগ্নে। যেটুকু থাকবে, তাতে আমাদের কোন না কোন সস্তার আশ্রমে ঠিক কেটে যাবে।” বলতে বলতে দু’চোখের পাতা জলে ভিজে এল নিখিলের মায়ের। মলিন কাপড়ের খুঁটে জল মুছতে মুছতে ঘরের ভেতরে চলে গেলেন তিনি।
চোখের পাতা বুজে এল নিখিলের। চোখের কোণে জমছে বিন্দু বিন্দু জল। আর ভাবুক মন ডুব দিয়েছে অতল ভাবনার সাগরে। দড়িতে ঝুলনো জামা প্যাণ্টটা পরিধান করে সাইকেল বার করতে করতে নিখিল মাকে বলল, “আমি একটু আসছি মা।”
“কোথায় চললি?”
“বড়দির বাড়ি।”
“কী বলছিস? শুভ গিয়েছিল!… ভাই জমি ছেড়ে দেবে বলেছে?… এবার ভাবছি জমি বিক্রির টাকায় বহরমপুরে দু’টো ফ্ল্যাট নেব, আমার বহুদিনের শখ। কে?… কেউ এসেছে মনে হয়, আজ রাখি।”
ফোনটা রেখে দরজা খুলে পঞ্চাশোর্ধ রঙিন শাড়ি পরিহিতা মহিলাটি হতবাক হয়ে বলল, “কী ব্যাপার, তুই?”
“অসিত কোথায়?”
“আজ তো রবিবার, ঘরেই আছে।”
দ্রুত অসিতের ঘরে গেল নিখিল। দেরি না করে বলল, “দেখ, আমি ঘুরিয়ে বলা পছন্দ করি না। তুই কি এখনই জমি চাস?”
এভাবে হঠাৎ এই প্রসঙ্গের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না অসিত। তাই আমতা আমতা করে বলল, “নাহ… মানে… শুভ বলছিল…”
“ওর কথা বাদ দে। তুই কি চাস?”
“ও কী বলবে, আমি বলছি। আমার জমি চাই, এবং সেটা এখনই।”
বড়দির চাঁছাছোলা কথায় নিখিল হতভম্ব হয়ে গেল। বিমূঢ় ভাবটা কমতেই সে বলল, “পরশু রেজিষ্ট্রি অফিসে চলে আসিস। আর হ্যাঁ, আর একটা কথা, এটা জানি বলবি, তাও বলছি। তোর বোনকেও বলিস যেন হাজির থাকে। তোদের সব দিয়ে দেব।” বলেই সে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
বড়দি বলল, “আরে দুপুরবেলা গেরস্ত বাড়ি থেকে কেউ না খেয়ে যায় না। খেয়ে যা।”
“গেরস্ত বাড়ি” – শব্দবন্ধনটি নিখিলের মুক্ত মনে ঘুরপাক খেতে লাগল। একটা ছোট্ট হাসি উপহার দিয়ে সে চলে গেল। উন্মুক্ত দরজার এপাড়ে হাসির স্রোত – বাঁধভাঙ্গা হাসির সাথে মিশছে শরতের মিঠে রোদ। আর দরজার ওপাড়ে সাইকেলের টুংটাং আর্তনাদ – যেন নিখিলের অন্তরের কান্নার স্বর।
মাঠভরা ধানের খেত যেন সবুজের বুকে সোনালি আভা। বিকেলের সোনা রোদ খেয়ে কাঞ্চনতুল্য চিকচিক করছে। মুগ্ধচিত্তে তাকিয়ে আছে নিখিল। মাটির ফসল তার আদরযত্নে খুশি হয়ে দোল খাচ্ছে হাওয়ার তালে তালে। নাহ, এই দোল আর বেশিদিন খেলবে না। মাটির বুকের পাঁজর ভেঙে এখানে উঠবে কংক্রিটের ইমারত। ভালবাসার হাতের বদলে হিংসার যন্ত্রী ছিন্নভিন্ন করবে নাড়িভুড়ি। সে জানে, কর্ষণেও ব্যথা থাকে, কিন্তু তা প্রসব বেদনার মতো। অসহনীয় ব্যথার মধ্যেও সৃষ্টির আনন্দ থাকে, নবজন্মের কান্নার মধ্যেই লীন থাকে আনন্দের স্রোত। কিন্তু ইমারতের ভিত্তি গড়ে ওঠে শুধু কান্নার বুকে। উর্বর মৃত্তিকা নিমেষে হয়ে ওঠে বন্ধ্যা জননী।
নিখিল তার চারটি জমি থেকে একটু একটু করে সংগ্রহ করে মাটি, যেন তার মায়ের শেষ অস্থি। তারপর সঙ্গে আনা থলিতে ভরল সেই মাটি।
নিখিল তার মায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে। মা বলেছেন, “ওদের সব দিয়ে দে। নইলে আবার পরে ঝামেলা করবে। আমরা কোন আশ্রমে চলে যাই। এই শেষ বয়সে এসে আর অশান্তি ভাল লাগে না। একটু নির্বিঘ্নে ঠাকুরের নাম করে বাকি দিনগুলো কাটিয়ে দিই।”
মায়ের অমত করেনি নিখিল। তাই সে এখানে শেষবারের মত এসেছে। সঙ্গে নিয়ে যাবে তার মাতৃভূমির মাটি, একান্ত ভালবাসার মাটি। এই মাটি তো ওর আরেক মা। হাঁটু গেড়ে প্রণাম করল এই মাটিকে। ঊর্ধ্বপানে চেয়ে বলল, “বাবা, আমি পারলাম না রক্ষা করতে, পারলাম না। আমি পারতাম না মায়ের ছিন্নভিন্ন দেহ দেখতে। এই দু’চোখ সহ্য করতে পারত না মায়ের কষ্ট। আমি চললাম। এখান থেকে দূরে, দূরে, যেখানে পৌঁছাবে না মায়ের আর্তনাদ। আমায় ক্ষমা করো বাবা, ক্ষমা করো।”
আকাশের বুকে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কালো মেঘটা ক্রমশ বিস্তার করছে পক্ষ – বিরাট পক্ষ। আর তার বিরাট কালো ছায়া পড়ছে মমতাময়ী মাটির বুকে।
লেখক পরিচিতি : বিপ্লব নসিপুরী
গ্রাম পোস্ট শীতলগ্রাম,জেলা বীরভূম,পিন ৭৩১২৩৭,পেশা শিক্ষক শখ বই পড়া ও ক্রিকেট

