লেখক : ইয়াসেফ মোহাঃ রিয়ান
বুকের ভেতর
চারা হয়ে জন্মিও।
ইনশাআল্লাহ,
আবার সকাল হবে—
প্লাস্টিকের পৃথিবীতে
মাটি হবে উর্বর।
কর্মহীন প্রৌঢ় সন্তুদা
আবার সম্মান ফিরে পাবে।
বাপ-মরা আহ্লাদী মেয়েটি
স্বামীর কাছে ফিরে পাবে বাবার মত সোহাগ।
আইসিইউর কাঁচের ওপাশে
বৃদ্ধ তাঁতি কবিরদাদু—
যার আঙুলগুলো এখনও নড়ে,
সুতো খোঁজে—
সে আবার ঘরে ফিরবে;
আর গামছা নয়, লুঙ্গি-শাড়ী নয়,
এবার শরীর বুনবে নিজের জন্য।
রাস্তার কুকুর
আর গলির দুষ্ট বিড়ালেরা
রোজ খাবার পাবে—
উচ্ছিষ্টই হোক না কেন।
মোবাইলফোনে নেশাগ্রস্ত কিশোর
শেষমেশ ইস্কুল যাবেই,
মাঠে খেলবে, ঘাম ঝরাবে—
ভেতরের ঘুটঘুটে অন্ধকার
ঠিক নিভিয়ে নেবে নিজেই।
তোমার রাগ, ঘেন্না, অভিমানও
একদিন ঝরে পড়বে শরতে।
বসন্তের নতুন কুঁড়িতে
আবার জন্ম নেবে ভালবাসা।
হোলিতে “ঈদ”-আনন্দ,
ঈদে “দুর্গোৎসব” হবে।
মানবদূষণ কাটিয়ে
কংক্রিট এই পৃথিবী
আবার সবুজ হয়ে উঠবে।
কেয়ামত পেরিয়ে
ইনশাআল্লাহ,
এভাবেই জন্ম নেবে, বেড়ে উঠবে—
বুকের গভীর ভেতর
‘তুমি’, চিরতরুণী উদ্ভিদ হয়ে।
ফুল দিও,
ফল দিও—
আমার কাছে অর্থ নেই, জানোই তো !
পরিবর্তে ভালবাসা নিও?
স্বপ্ন নিও?
অপ্রকাশিত লাজুক কিছু কবিতা নিও না হয় ?
ঝড় এলে
তোমার শিকড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে
জড়িয়ে ধরো আমায়, প্লিজ।
আমি পাহাড় দেব,
ঝর্ণা দেব।
আমার বুকের ভেতর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠো
এক পৃথিবী
অরণ্য হয়ে!
লেখক পরিচিতি : ইয়াসেফ মোহাঃ রিয়ান
ইয়াসেফ মোহাঃ রিয়ান একজন সাহিত্যঅনুরাগী। পেশাগতভাবে তিনি একজন স্থপতি এবং চীনের Xi’an Jiaotong-Liverpool University-এর স্থাপত্য বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

