লেখক : মলয় সরকার
ময়দানে একা বসে থাকতে থাকতে
তাকাই আকাশের দিকে,
খুঁজে বেড়াই আমার প্রার্থিত নক্ষত্রটিকে-
হঠাৎ ব্রহ্মতালু জ্বলে ওঠে রাগে;
কাউকে হাতের কাছে না পেয়ে
একমুঠি তৃণই ছুঁড়ে মারি আকাশের দিকে,
উচ্চারণ করি অমোঘ অভিশাপ,
ছুঁড়ে দিই প্রশ্নের তীর-
আমার মুখ আর বুক এক হয়ে যায়
শরীর হয়ে ওঠে গাণ্ডীব,
ছুটে যায় অজস্র একাঘ্নীবাণ
লক্ষ্য হয়ে ওঠে পৃথিবীর অতীত থেকে
জন্ম নেওয়া সব ধর্মগুরুরা-
অর্জুনের মত হাত জোড় করে প্রত্যেককে বলি,
হে গুরুদেব, তুমি ব্রহ্মা, তুমি বিষ্ণু—
কিন্তু আজ তুমিই আমার লক্ষ্য-
কি প্রয়োজন ছিল ধর্মের
যা জন্ম দেয় ভ্রাতৃবিরোধের,
কিংবা বঞ্চনা-বিদ্বেষ-ভেদাভেদ আর রক্তলোলুপতার?
ধর্ম নাকি ধারণ করে-
কী ধারণ করে?
বলুন সব ধর্মগুরুরা—
তা কি শুধু ভেদাভেদ?
কখনও তো বলেননি কেউ,
সবার এক ধর্ম – মানবধর্ম,
কারণ সবার শরীরে এক রক্ত
আর তার রংও একটাই – লাল;
সবারই এক হাসি-কান্না-দুঃখ-কষ্ট
মায়া মমতা স্নেহ ভালবাসা
এমন কি ক্ষুধাতৃষ্ণাও-
সবই যদি এক, তাহলে কি
প্রয়োজন এত ধর্মের?
আলাদা হতেই শিক্ষা দান
এই ভেদের শিক্ষাই কি ধর্মের কথা?
কি প্রয়োজন সে ধর্মের,
যা সকলকে মিলতে শেখায় না
শেখায় না ভালবাসতে?
তাই আজ আমার উদ্যত শরের লক্ষ্য
তোমরাই, হে সমস্ত গুরুকুল-
আমি আজ হব অন্য পরশুরাম
গুরুশূন্য করে যাব এই ধরাধাম।
লেখক পরিচিতি : মলয় সরকার
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক। কবিতা, ভ্রমণকাহিনী, অনুবাদ গল্পে স্বচ্ছন্দ, লেখালিখি বহুদিন, দেশে বিদেশে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিতপ্রকাশিত বই তিনটি, অনুবাদের জন্য সোনালী ঘোষাল স্মৃতিপুরস্কার প্রাপ্ত, নেশে বিভিন্ন দেশে বিদেশে ভ্রমণ ও সমাজসেবা,

