লেখক : স্বর্ণালী পাল
ভীষণ ক্লান্ত অর্ণব। মনের শরীর বেশ কিছুদিন ধরে খারাপ। পাহাড়ের শীতল ঝর্ণার জলের স্পর্শে নিমিষেই সব বিদ্বেষ নিরুদ্দেশে মিলিয়ে গেল।
অন্ধবিশ্বাস কিংবা চোখ বুজে বিশ্বাস করা আমি পাহাড়ের কাছ থেকে শিখেছি। প্রতিটি পাহাড় অন্ধকারে আলোর খোঁজে বাঁচে। প্রতিটা পাহাড়ের গল্প আলাদা, আলো আলাদা, অন্ধকারও আলাদা… ঠিক আমাদের জীবনের মত। পাহাড় আমাদের গল্প অনায়াসে বুকে টেনে নেয়। বুকচাপা গল্পগুলোকে একসাথে বয়ে নিয়ে যায় নিরুদ্দেশে। আমরা ভাবি তা নিখোঁজ হয়েছে… কিন্তু সব জিনিস নিখোঁজ হয় না। হয়ত তা মাটিতে চাপা পড়ে আছে, একসময় তাতে জল পড়বে, চারাগাছ জন্মাবে, আবার হয়ত গভীর জঙ্গলের আকার নেবে। সেখানে একসময় মানুষগুলো নিখোঁজ হয়ে যাবে, কিন্তু সেই গল্পগুলো বেঁচে থাকবে মাটির বুকে। আচ্ছা! প্রতিটা বুকচাপা গল্পেরা কি দাবানলের রূপ নেয়?
আমি সেসব জানি না, তবে যখন খুব ক্লান্ত লাগে আমি পাহাড়ে চলে আসি ইচ্ছেদের বাঁচাতে। আর যদি কখনও, কোন কারণে পরেরবার না আসা হয় ভেবে মনটাকে ওখানেই রেখে আসি। ‘আমার মন’ পাহাড় তার কাছে যত্নে রেখে দেয়। বুকবাঁধা গল্পদের সাথে সেও শামিল হয় একসময়। তারা এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়ায় পাহাড়ের কোলে। ক্লান্ত হলে পাইন গাছের তলায় আশ্রয় নেয়। শীত লাগলে দূরের আলোগুলোর দিকে চেয়ে থাকে। কখনও কখনও একা লাগলে খোলা আকাশে অগণিত তারাদের সাথে নীরবে কথা বলে। তারা একসময় গান ধরে। আমি ওসবে মাথা ঘামাই না। আমি শুধু বুক ভরে নিঃশ্বাস নিই। যতটা শ্বাস ভেতরে পুরলে একেবারে গোটা পাহাড়কে ভরে নেওয়া যায় ঠিক ততটা। কিন্তু আমি প্রতিবার ব্যর্থ হই। আর যেহেতু তা পারি না, তাই পাইনের গন্ধ গায়ে মেখে নিই। এই ব্যস্ত জীবনের দৌড়, সংসারে তীব্র গন্ধে সে গন্ধ চাপা পড়ে যায় একসময়।
তারাও কি দাবানলের স্বপ্ন দেখেছিল?
লেখক পরিচিতি : স্বর্ণালী পাল
জন্ম ২০০০, কলকাতা। জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠাও এই মহানগরীতেই। বেসরকারি কর্মস্থানে পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও সাহিত্যচর্চাই মন ও মননের মূল ঠিকানা। বিশেষত ছোটগল্প ও নানা স্বাদের মননশীল লেখালিখির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় নিয়মিত ও সক্রিয় বিচরণ রয়েছে।

