লেখক : হাসিম রেজা
ভূমিকা: মরুভূমির বালির নিচে লুকিয়ে থাকা এক পৃথিবী
মিশরের বিস্তীর্ণ মরুভূমি। চারদিকে পাথুরে পাহাড়, উত্তপ্ত বাতাস আর বালির স্তূপ। দিনের পর দিন খননকাজ চলছে। শ্রমিকেরা মাটি সরাচ্ছেন, প্রত্নতত্ত্ববিদেরা অনুসন্ধান করছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত আবিষ্কারের কোন নিশ্চয়তা নেই। এমন কী একসময় মনে হচ্ছিল, এই অনুসন্ধান হয়ত ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই শেষ হবে। তারপর ১৯২২ সালের ৪ নভেম্বর। মিশরের রাজাদের উপত্যকায় মাটির নিচে পাওয়া গেল একটি সিঁড়ির প্রথম ধাপ। সেই ধাপ ধরে এগোতে এগোতে অনুসন্ধানকারীরা পৌঁছে গেলেন এমন এক সমাধির দরজায়, যা হাজার হাজার বছর ধরে ইতিহাসের কাছে প্রায় অজানা ছিল।
এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন সমাধির সন্ধান ছিল না। এটি ছিল এমন এক দরজা, যার ওপারে অপেক্ষা করছিল প্রাচীন মিশরের রাজকীয় জীবন, শিল্পকলা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মৃত্যুকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক সমৃদ্ধ জগতের অসংখ্য নিদর্শন। সেই সমাধির মালিক ছিলেন তরুণ ফারাও তুতানখামুন। আর এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে যায় প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টারের নাম। তবে এই সাফল্যের পিছনে ছিলেন মিশরীয় শ্রমিক ও স্থানীয় কর্মীদের একটি দল, যাঁদের শ্রম ছাড়া আবিষ্কারটি সম্ভব হত না।
১. কে ছিলেন তুতানখামুন?
তুতানখামুন ছিলেন প্রাচীন মিশরের অষ্টাদশ রাজবংশের একজন ফারাও। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩৬ থেকে ১৩২৭ অব্দের মধ্যে তিনি রাজত্ব করেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি সিংহাসনে বসেন এবং তরুণ বয়সেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর রাজত্বকাল দীর্ঘ ছিল না। প্রাচীন মিশরের অনেক শক্তিশালী শাসকের মত তিনি বিশাল সামরিক অভিযান বা দীর্ঘ রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য পরিচিত ছিলেন না। ইতিহাসের বৃহত্তর পরিসরে তাঁর নামও দীর্ঘদিন খুব বেশি আলোচিত হয়নি। কিন্তু মৃত্যুর তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় পরে তাঁর সমাধি আবিষ্কৃত হলে পৃথিবী তাঁকে নতুন করে চিনতে শুরু করে।
তুতানখামুনের সমাধি থেকে পাওয়া নিদর্শনগুলো শুধু একজন রাজার সম্পদের পরিচয় দেয়নি। সেগুলো প্রাচীন মিশরের মানুষের শিল্পবোধ, কারুশিল্প, রাজকীয় আচার এবং পরকাল সম্পর্কে তাঁদের ধারণা বুঝতেও সাহায্য করেছে। এভাবেই তুলনামূলকভাবে স্বল্পপরিচিত এক তরুণ শাসক বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
২. হাওয়ার্ড কার্টারের দীর্ঘ অনুসন্ধান
হাওয়ার্ড কার্টার ছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ও মিশরবিদ। প্রাচীন মিশরের নিদর্শন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি বহু বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে খননকার্য পরিচালনা করেন। তাঁর প্রধান আগ্রহের একটি ক্ষেত্র ছিল রাজাদের উপত্যকা—মিশরের প্রাচীন রাজাদের সমাধিক্ষেত্র। এই উপত্যকায় আগে থেকেই অনেক সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছিল। ফলে একসময় ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় সমাধিগুলোর অধিকাংশই হয়ত ইতিমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে। কিন্তু কার্টার বিশ্বাস করতেন, তুতানখামুনের সমাধি এখনও সেখানে কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে। তাঁর অনুসন্ধানে অর্থায়ন করতেন ব্রিটিশ অভিজাত লর্ড কার্নারভন। বহু বছরের চেষ্টা, সীমিত সময় এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অনুসন্ধান চলতে থাকে। ১৯২২ সালে খননের একটি নতুন মৌসুম শুরু হয়। তখনও কেউ নিশ্চিত ছিলেন না যে, এই প্রচেষ্টা ইতিহাসের গতিপথে এত বড় প্রভাব ফেলবে।
৩. ৪ নভেম্বর ১৯২২: ইতিহাসের নতুন দরজা
রাজাদের উপত্যকায় খননকাজের সময় প্রাচীন শ্রমিকদের ব্যবহৃত কুঁড়েঘরের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হচ্ছিল। সেই কাজের মধ্যেই মাটির নিচে পাথরে কাটা একটি সিঁড়ির ধাপ আবিষ্কৃত হয়। ধীরে ধীরে আরও ধাপ উন্মোচিত হয়। অনুসন্ধানকারীরা একটি বন্ধ প্রবেশপথের সন্ধান পান। দরজার ওপর প্রাচীন সিলমোহরের চিহ্ন ছিল, যা সমাধিটির পরিচয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিচ্ছিল।
কার্টার বুঝতে পারলেন, এটি সাধারণ কোন গর্ত বা পরিত্যক্ত কক্ষ নয়। এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বহু প্রতীক্ষিত রাজকীয় সমাধি। তিনি তাঁর পৃষ্ঠপোষক লর্ড কার্নারভনকে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে আবিষ্কারের খবর জানান। কার্নারভন মিশরে পৌঁছনোর পর অনুসন্ধানকারীরা সমাধির ভিতরে প্রবেশের প্রস্তুতি নেন। এরপর ২৬ নভেম্বর ১৯২২ সালে কার্টার একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ভিতরে আলো ফেলেন। তাঁর সামনে উন্মোচিত হয় এমন এক দৃশ্য, যা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। কার্টারের অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্নতাত্ত্বিক মুহূর্ত হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
৪. সমাধির ভিতরে কী পাওয়া গিয়েছিল?
সমাধির ভিতরে ছিল চারটি প্রধান কক্ষ এবং অসংখ্য মূল্যবান নিদর্শন। সোনার প্রলেপ দেওয়া রথ, অলংকৃত আসবাব, বাক্স, গয়না, মূর্তি, ধর্মীয় সামগ্রী, রাজকীয় কফিন এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু সেখানে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বিখ্যাত নিদর্শনগুলোর একটি হ’ল তুতানখামুনের মমির সঙ্গে যুক্ত স্বর্ণের মুখোশ। এর সূক্ষ্ম কারুকাজ, রাজকীয় প্রতীক এবং মূল্যবান উপাদান প্রাচীন মিশরের শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় বহন করে।
তবে আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল সোনা বা মূল্যবান সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাধিতে পাওয়া সাধারণ ব্যবহার্য বস্তুগুলোও ইতিহাসবিদদের কাছে অমূল্য। একটি আসবাবের নকশা, একটি পাত্রের গঠন কিংবা একটি অলংকারের নির্মাণপদ্ধতি থেকে জানা যায় সেই সময়ের মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, রুচি এবং সামাজিক জীবন সম্পর্কে। সমাধিটি অন্য অনেক রাজকীয় সমাধির তুলনায় অনেক বেশি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। যদিও প্রাচীনকালেই সেখানে অনুপ্রবেশ ও চুরির কিছু চিহ্ন ছিল, তবুও বিপুলসংখ্যক নিদর্শন টিকে ছিল। এই কারণেই আবিষ্কারটি প্রাচীন মিশরের ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. আবিষ্কারের পর শুরু হয় আরও কঠিন কাজ
অনেকের ধারণা, একটি সমাধি আবিষ্কার করলেই প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাজ শেষ হয়ে যায়। বাস্তবে ঠিক তখনই শুরু হয় সবচেয়ে জটিল দায়িত্বগুলোর একটি। সমাধির ভিতরে থাকা হাজার হাজার বস্তু বহু শতাব্দী ধরে অন্ধকার ও আবদ্ধ পরিবেশে ছিল। সেগুলোর কিছু ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। অসতর্কভাবে সরালে মূল্যবান নিদর্শন নষ্ট হয়ে যেতে পারত। তাই প্রতিটি বস্তু শনাক্ত করা, তার অবস্থান নথিভুক্ত করা, ছবি তোলা, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ করা এবং নিরাপদে স্থানান্তর করা জরুরি হয়ে পড়ে। কার্টার এই কাজে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সহযোগিতা নেন। ফটোগ্রাফার হ্যারি বার্টন সমাধির ভিতরকার দৃশ্য ও নিদর্শনের অসংখ্য ছবি তোলেন। এসব ছবি পরবর্তীকালে গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে ওঠে। সমাধির সব নিদর্শন উদ্ধার ও নথিভুক্ত করতে প্রায় এক দশক সময় লেগেছিল। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রত্নতত্ত্ব কেবল নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার নাম নয়; আবিষ্কৃত ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও এর সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৬. মিশরের মানুষের ভূমিকা
তুতানখামুনের সমাধি আবিষ্কারের গল্প বলতে গিয়ে শুধু কার্টারের নাম উল্লেখ করলেই ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না। খননকাজে বহু মিশরীয় শ্রমিক, স্থানীয় কর্মী, কারিগর ও তত্ত্বাবধায়ক অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের পরিশ্রমে মাটি সরানো, প্রবেশপথ উন্মোচন, বস্তু স্থানান্তর এবং বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়েছিল। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক বিবরণেও এই আবিষ্কারে অংশ নেওয়া স্থানীয় মিশরীয় কর্মীদের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইতিহাসের জনপ্রিয় বর্ণনায় অনেক সময় একজন বিখ্যাত ব্যক্তির নামই সবচেয়ে বেশি সামনে আসে। কিন্তু বড় আবিষ্কারের পিছনে সাধারণত থাকে বহু মানুষের সম্মিলিত শ্রম, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। তাই এই ঘটনা আমাদের শেখায়, ইতিহাসকে বুঝতে হ’লে শুধু পরিচিত নায়কদের নয়, তাঁদের সঙ্গে কাজ করা অগণিত মানুষের অবদানও স্মরণ করতে হয়।
৭. আবিষ্কারটি কেন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল?
তুতানখামুনের সমাধি আবিষ্কারের খবর দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাচীন মিশরের রাজকীয় নিদর্শন, বিশেষ করে স্বর্ণনির্মিত মুখোশ, মানুষের কল্পনাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। এই আবিষ্কার মিশরবিদ্যা এবং প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। জাদুঘর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ইতিহাসপ্রেমীরা মিশরের অতীত সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে আবিষ্কারটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে। প্রাচীন সম্পদ কোথায় রাখা হবে, কে সেগুলো গবেষণা করবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মানুষের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্ন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এভাবে একটি সমাধির সন্ধান শুধু অতীতকে জানার নতুন সুযোগই তৈরি করেনি; সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তার ওপর সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকারের বিষয়টিকেও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
৮. অভিশাপের গল্প, নাকি ইতিহাসের বাস্তবতা?
তুতানখামুনের সমাধির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তথাকথিত ‘ফারাওয়ের অভিশাপ’-এর গল্প। লর্ড কার্নারভনের মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যমে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, সমাধি খোলার কারণে কোন প্রাচীন অভিশাপ সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু এই গল্পকে প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করার ভিত্তি নেই। কার্নারভন অসুস্থতার পর মারা যান; তাঁর মৃত্যুকে অতিপ্রাকৃত অভিশাপের ফল বলে প্রতিষ্ঠা করার নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এই কাহিনী অবশ্য জনসাধারণের কৌতূহল বাড়িয়েছিল। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের প্রকৃত গুরুত্ব রহস্যময় অভিশাপে নয়, বরং সমাধির নিদর্শন এবং সেগুলো থেকে পাওয়া ঐতিহাসিক তথ্যের মধ্যে নিহিত। ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অর্থ হ’ল, আকর্ষণীয় গল্পকে উপভোগ করার পাশাপাশি প্রমাণিত তথ্য ও কল্পকাহিনীর পার্থক্যও বুঝতে শেখা।
৯. আজকের পৃথিবীর জন্য এই আবিষ্কারের শিক্ষা
তুতানখামুনের সমাধির আবিষ্কার আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রথমত, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ধৈর্য কখনও কখনও এমন ফল এনে দেয়, যা শুরুতে কল্পনাও করা যায় না। কার্টারের বহু বছরের প্রচেষ্টা তার একটি উদাহরণ। দ্বিতীয়ত, অতীতের নিদর্শন শুধু মূল্যবান বস্তু নয়; সেগুলো মানুষের স্মৃতি ও সভ্যতার সাক্ষ্য। তাই সেগুলোকে দায়িত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ইতিহাস একক ব্যক্তির কৃতিত্বের গল্প নয়। এর পিছনে থাকে অনেক পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের সম্মিলিত অবদান। সবশেষে, প্রমাণের গুরুত্ব কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। অতীতকে বুঝতে হলে কল্পনা, কিংবদন্তি এবং বাস্তব তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করতে হয়।
উপসংহার: বালির নিচে শুধু সোনা নয়, লুকিয়ে ছিল ইতিহাস
১৯২২ সালের সেই আবিষ্কার পৃথিবীকে দেখিয়েছিল, ইতিহাসের অনেক অধ্যায় এখনও আমাদের অজানা থাকতে পারে। একটি সমাধির দরজা খুলে গবেষকেরা শুধু স্বর্ণের মুখোশ বা রাজকীয় সম্পদ খুঁজে পাননি; তাঁরা পেয়েছেন এমন সব নিদর্শন, যেগুলো একটি প্রাচীন সভ্যতার জীবন ও বিশ্বাসকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। তুতানখামুনের সমাধি আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অতীত কখনই পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। কখনও তা মাটির নিচে, কখনও ভগ্নপ্রাচীরে, কখনও পুরনো নথির পাতায় অপেক্ষা করে থাকে—কেউ একদিন তাকে খুঁজে বের করবে বলে। কিন্তু সেই অতীতকে আবিষ্কার করার পাশাপাশি তাকে সম্মান করা, সংরক্ষণ করা এবং তার ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরাও আমাদের দায়িত্ব। কারণ ইতিহাস শুধু গতকালের গল্প নয়; ইতিহাস আমাদের পরিচয়, আমাদের শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া এক অমূল্য উত্তরাধিকার।
লেখক পরিচিতি : হাসিম রেজা
Hasim Reja

