উপকূলীয় জীবন
লেখক : ইউসুফ জামিল
ঘূর্ণিতে গুঁড়িয়ে স্বপ্ন
বিধ্বস্ত হয়ে লোকালয়,
বানে প্লাবিত চারপাশ
শুধু ক্ষুধা আর হাহাকার।
বিলীন সব গৃহ
মলিন সব মুখ,
নেই আর ঠাঁই
নেই আর বাসস্থানের অধিকার।
ভাঙ্গনে ভেঙ্গেছে বুক
দুঃখ কেড়েছে সুখ,
বিলীন শেষ চিহ্ন
নেই …
ঘূর্ণিতে গুঁড়িয়ে স্বপ্ন
বিধ্বস্ত হয়ে লোকালয়,
বানে প্লাবিত চারপাশ
শুধু ক্ষুধা আর হাহাকার।
বিলীন সব গৃহ
মলিন সব মুখ,
নেই আর ঠাঁই
নেই আর বাসস্থানের অধিকার।
ভাঙ্গনে ভেঙ্গেছে বুক
দুঃখ কেড়েছে সুখ,
বিলীন শেষ চিহ্ন
নেই …
এদের সাথে ঘুরতে গিয়ে
হেথায় ঘোরা যায় থেমে
যেথায় থাকে দোয়েল-টিয়া
ঝিঁঝিপোকা নি:ঝুমে।
যেথায় আমার নিত্য ঘোরা
পদ্মদীঘির ফুলবনে
যেথায় সবুজ কচি ঘাসের
আসন পাতা সবখানে।
যেথায় নদীর বালুচরে
কাঁকড়া- ঝিনুক- বকপাখি
কাদাখোঁচার নৃত্য দেখে
অবাক …
দ্বিতীয় তরঙ্গেও উঠে যাবে চাঁদ…
মাঙ্গলিক উচ্চারণে ঘরের কাছে বেঁধে দেওয়া বাঁধ
‘গ্রহণ করো, গ্রহণ করো… ‘ আক্ষরিক অর্থেই প্রণতি
তবু, বধির যে জন, সে জন দিবসেই পোড়ায় দেবারতি
শূন্যমার্গ, অনেক দুরেই মায়াজাল
ভোরের কাজলে মেঘ …
সৃষ্টি আমার সহজ সরল যত
বৃষ্টি হয়ে ঝরছে অবিরত
অসহ্য অভিমানী ঘামে
বিকিয়েছি জীবন অল্প দামে।
সৃষ্টি আমার মাটির খামার জুড়ে
দিনরাত্তির নিত্য বেড়ায় ঘুরে
কলকাতায় মিথ্যে কায়া থাকে
নিশুত রাতে স্বপ্ন সাথে জন্মভূমি ডাকে।
সৃষ্টি …
পড়ে নিও লেখা গুলো মোর
যখন যাবো চলে দূর বহুদূর
যেও না তখনও আমায় ভুলে,
খাতাটি রেখো না শুধু ফেলে।
সকালে কিংবা সাঁঝে
সবুজ পাতার ভাঁজে,
জমানো মমতাগুলো নিও তুলে,
সবুজে ভালবাসা দিয়েছি ঢেলে।
দেখবে যখনই …
মানুষ ভালো নেই
“আহা! ঈশ্বর মানুষগুলো রক্ষা করো, ইস! উফ্!”
এ সব শুনে শুনে নিজেকেও দোষী করেছি।
এ ধরা শুধু আমার নয়, আমাদেরও নয়;
এ অব্দি যত্ত প্রাণী হত্যা হয়েছে
এ ধরিত্রী ওদেরও।
মানুষ নাকি সব পারে! …
অতীত –
বিকৃত, অর্ধদগ্ধ,বেওয়ারিশ অতীত-
ভেসে চলেছে গঙ্গা যমুনার জলে।
উন্নাও হয়ে পাটনা, মালদা হয়ে
সে ভেসে চলেছে মোহনার পানে।
অতীত প্রশ্ন করেনা,বিক্ষোভ দেখায় না,
শুধুই ভেসে যায়,আর বালুচরে আটকে যায়।
বর্তমান –
ব্যাংক থেকে শুরু …
এতটা সম্মান ভালো নয়
ভালো নয় এতই সম্ভ্রম।
আসুন একটু অ-ভদ্র হই-
অন্যথায়, পথ তোমায় করবে বন্দি
অন্যথায়, অফিস দেবে টিপ্পনী;
অন্যথায়, রাস্তার শ্বাপদগুলো
উরুত আঁচড়ে
করে দেয় রুগি!-
আসুন নিজেরাই একটু বন্য হই।
আসুন সহাস্য, …
শৈশবের সেই দিনগুলি
আজও মনে পড়ে
স্মৃতির পাতায় থাকবে
সারাজীবন ধরে।
পাঠশালায় যাওয়া-আসা
পথিমধ্যে মারামারি-দুষ্টুমি
শরৎ স্যারের কানমলা আর
বিপদ স্যারের বেতের পিটুনি।
তাইরে নাইরে ঘুরে বেড়ানো
যখন তখন দৌড়-ছুটাছুটি
উজলা নদীতে লাফ-ঝাপ
ডুবাডুবি-কাদা মাখামাখি।
একসাথে …
ওপার জুড়ে সন্ধ্যা নামার বিরাট আয়োজন
বাউলীয় চুম্বনে রক্তিম তার উল্লাস
এপারে আমি বহুজন্ম সাঁতার দিয়ে,
দিগন্ত মাঠ পেরিয়ে,
অপেক্ষা করছি মধ্যরাতের।
যখন মরমি কচুপাতাও শুনবে শিশিরের গান,
দিনমনির ক্লান্ত পরশে তরণীবক্ষে পশরা সাজিয়ে বসবে মোহময় …
দূরবীনে আর খুঁজি না তাকে
অচেনা মানুষের ভিড়ে
আধো আঁচলে বসে আছে
আমার হৃদয় দ্বারে।।
আলতো ঠোঁটে মুক্ত হাসি
দেয় না ধরা মায়াবিনী
আলো আঁধারি লুকোচুরি
আমি তার প্রেমে ঋণী।।
প্রভাতী বেলা কিরণ মেলায়
শ্যামলা মেয়ে কমলা …
‘তোর হবে, তোর হবে..’ বলে
দুরন্ত দোলনার দিকে ছুটে গেলো ফন্দিবাজ
ধড়িবাজ মূর্খ বিন্দু বিসর্গ কিছু না বুঝে
শুধু কিছু একটা হবে
কিছু একটা করতে হবে
আগাম ভাঙনের নোটিশ পেয়ে
পায়ের ওপর ছুঁড়ে দেয় হাতুড়ির প্রথম …
ঝম ঝম করে নামুক বৃষ্টি
ভাইরাস হোক ধ্বংস
ধুয়ে মুছে সব বয়ে চলে যাক
দূরে বহুদূরে-
যেথা নাই মানুষের বংশ |
জ্যৈষ্ঠের রোদ উঠুক সতেজে
দেখাক নিজের অহংকার
গনগনে আঁচে পুড়িয়ে মারুক
ধ্বংস করুক –…