স্বাধীনতা

কবি: প্রীতিলতা রায় (হালদার)

স্বাধীনতা আমি তোমাকে ছুঁতে চেয়েছি ৪৭ এর আগে, ৪৭ এর পরে
এবং আজও।

তোমাকে ছুঁতে চেয়ে –
আমি হারিয়েছি, আমার সূর্য ওঠা ভোর, বৃষ্টি ভেজা বিকেল, আমার ইচ্ছে – অনিচ্ছে, এমনকি আমার অশ্রুও।

৪৭ এর আগে তিন রঙা পতাকা হাতে
রাজপথে বুক পেতে দিয়েছি, বুলেটের সামনে।

আর এখন স্বাধীনতা হারাই –
বিয়ের নামে, বিয়ের জন্য পণের নামে, গলা টিপে, মুখে বালিশ চাপা দিয়ে, পেট্রোল-কেরোসিনে জ্বালিয়ে স্বাধীনতাকে হত্যা করা হয় রোজ।

একটু ভালবাসার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে
হারিয়ে যেতে হয় অন্ধকার গলিতে, যেখানে স্বাধীনতার আলো তো দূরের কথা সূর্যের আলোও পৌঁছায় না!

ইচ্ছে হলেই একান্ত ব্যাক্তিগত সম্পত্তি মনে করে, ছোঁ দিয়ে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে পাওয়া যায় পরিত্যক্ত পুকুর ঘাটে কিংবা জলার ধারে,
আমার, আমাদের বাড়ির মিষ্টি মেয়েটির উলঙ্গ নিথর দেহ।
যার দু’চোখে স্বপ্ন উড়ে বেড়াতো,
জোনাকির মতো স্বাধীনতাকে মুঠোয় পুরে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে ছিল ওর…

স্বাধীনতা তুমি কোথায়?
তুমি কি কোন বিশেষ দিনে বাঁশের ডগায় তিনরঙা পতাকায় দুলতে থাকবে, অফিস-আদালত পার্লামেন্টের গায়ে?
নাকি নেমে আসবে আমার দেশের প্রতিটি শিশু-কিশোরী, মা-বোনেদের জীবনে?
প্রতিটি কবি-সাংবাদিকের কলমে?

খুনির তর্জন-গর্জন বুলেটের হুঙ্কার
থেমে যাবে তোমার উপস্থিতির ভারে।
স্বাধীনতা ভেসে বেড়াবে মুটে-মজুরের দাওয়ায়, চাষী লাঙ্গলের ফলায়,
মাঝির ভাটিয়ালি সুরে, শিশুর বই খাতার পাতায়, যুবকের স্বপ্ন ও গানে।

স্বাধীনতা আমি তোমার গায়ে বারব‍ার প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিতে চাই।


ছবি: কুন্তল


লেখকের কথা: প্রীতিলতা রায় (হালদার)
বহু বছর ধরে কবিতাকে ভালোবেসে কবিতার সঙ্গে বসবাস। বেশ কিছু পত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়। আমার রাজ্য, বাংলাদেশ ও ইউরোপের কিছু অনলাইন পত্রিকাতেও লেখালেখি চলছে। আমার কবিতাকে ভালোবেসে অনেক গুণী শিল্পী আমার লেখা আবৃত্তিও করেছেন। আর.জে রাজার কন্ঠে, ফ্রেন্ডস এফ.এম এ আমার কবিতার আবৃত্তি শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। কিছু পত্রিকা ভালোবেসে পুরস্কারও দিয়েছেন।
এছাড়া বই পড়ে, বাগান করে, সঙ্গে একটা সরকারি চাকরি করে দিন এগিয়ে চলেছে।

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন
  •  
  •  
  •  
  •  

6 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।