লেখক : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী
বই দেখলেই মনে হয় থেকে যাই
একটু দেখি, একটু পড়ি, পাশে রাখি
গন্ধ নিই নাকের কাছে এনে।
ঝির্ঝিরে বৃষ্টিতে কাচের ওপারে
আবছা এক ধান জমি ভিজছে
নিবিড় এক সোঁদা গন্ধে
এক বুক বাতাস টেনে নিয়ে
ঈশ্বরকে হাতে তুলে নিই।
ভগবান দেখা দেন না
বইই আমার ইশ্বর।
ঈশ্বর ছাড়া বাঁচা যায়?
লেখক পরিচিতি : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী
লেখিকা মৈত্রেয়ী ব্যানার্জীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার নিকটবর্তী বানীনাথপুর গ্রামে। শৈশবেই হাওড়া জেলার বালীতে চলে আসেন। কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর। লেখিকা একজন বাচিক শিল্পী। দুটি একক গল্প সংকলন ও বহু পত্র পত্রিকায় (প্রিন্ট মিডিয়া) গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গল্প সংকলনেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে। গল্প


বইই ঈশ্বর কেননা একমাত্র তারই ক্ষমতা রয়েছে চিন্তার স্রোতের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাবার । অন্যদিকে বইয়ের পাতায় যে গন্ধ পাই আমরা তা কিন্তু মৃতদেহের। একসঙ্গে অনেক গাছের মৃত্যুতে তাদের অকুণ্ঠ দেহদানে তৈরি মণ্ড থেকে তৈরি হয় ছাপা বইয়ের এক একটি পাতা । তবে এই যে ই বুক এটিতে সেই গন্ধ এই জন্য নেই । ছাপা সব কিছু বন্ধ হলে অরণ্যের গাছগুলো অনেক দিন থাকবে । আমাদের মত লোক যাদের পেশা অরণ্যে ঘুরে পাথরের মানচিত্র তৈরি করা তারা নির্ভয়ে তাদের সার্ভের পেগ মার্ক গাছের গুঁড়িতে দিতে পারবে যাতে পরবর্তী কালে মানুষ এসে সেই পাথরগুলি দেখতে পায় ।