লেখক : জয়তী মুখার্জি
চল্লিশটা বসন্ত, শীত পেরিয়ে আজ প্রান্তিক।
দশটা শৈশব, তিরিশটা যৌবনও গত ।
দিনের শুরুটা বেশ অন্য নতুন লাগে
একেক ডাক একেকটি শাড়ির মত।
চল্লিশটা বসন্তের হলদে পাতায় খেলত রামধনু।
শীতের কোল্ড ক্রিম, মোজার উষ্ণতার আরাম,
লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাঁদাদের হাসি;
আর অবসরে গোলাপদের জুটতো নাম।
সেই তেতলার মাথার উপরের ঝুলন্ত ছাদটা।
মনে হয় হেলে দাঁড়ানো কোন প্রহরী।
নিচের সানসেটটার কোল ফাটানো বট,
সময় রাখছে হিসেব, বলছে দেওয়াল ঘড়ি।
হুল্লোড়ে শীতমাখা বেলাগুলো শুধুই পাতায় লেখা।
পোষ মেলার মাঠজোড়া আনন্দের বাস ।
বট অশ্বত্থের শুকনো পাতায় নীরব পরিত্রাণ,
উড়ন্ত পরিযায়ীরা কি এখনও পড়ায় যাস?
প্রথমে স্কুল, তার লম্বা টানা করিডোর;
মাঠ ঝোঁকা জানলাগুলোর গায়ে হুমড়ি খাওয়া রোদ্দুর,
আর উত্তেজনায় ভরপুর ঢং ঢং করে বাজা বেল!
আজও কানের কোল ঘেঁষা আনমনা সুর।
চল্লিশের পরে আরও দুই, আরো তিন, আরও-
তবু গাঢ় সবুজের নেশায় আগ্রাসী মন কেমন।
মাঝনদীতে পালতোলা নৌকোদের ঘর বাঁধা।
আর ছটফটে শৈশবের হাত ছাড়িয়ে চল্লিশের উঠোন।
একটা মোড়ের রাস্তা, ঘুরপথে গেলেই ডেসটিনি।
চেনা মানুষ, চেনা রাস্তা, চেনা মাঠ সব তেমনই-
শুধু বদলে যাওয়া আমিটার অন্য রূপ।
চল্লিশের মেঘ ধূসর। বাতাসের শব্দে জমাট গ্লানি।।
লেখক পরিচিতি : জয়তী মুখার্জি
মধ্য কলকাতার যৌথ পরিবারে জন্ম, পড়াশুনো ও বেড়ে ওঠা। কলমকে আজীবনের সঙ্গী করে বাঁচা। বিবাহ পরবর্তী জীবনে দক্ষিণ কলকাতায় বাস স্বামী ও দুই কন্যাকে সঙ্গে করে। আর আছে পায়ের তলার নির্মল মাটি ও জল আর মাথার ওপরের উদাত্ত আকাশ।

