লেখক : এ কে সরকার শাওন
আজও কেন বারে বারে
অন্তরের অন্তহীন স্রোতে
মনে পড়ে শুধু তারে;
যে গিয়েছে পিছু ফিরে
ধীরে ধীরে বহুদূরে
মহাকালের কৃষ্ণগহ্বরে!
ঘষে ঘষে অন্তর জ্বলে নিরন্তর
একাকী নিবিড়ে নিবিড়ে,
সকাল সাঁঝে নিরস দুপুরে
নিকষ কালো নিশীথের অন্ধকারে
অবসরে অনবসরে ঘুমের ঘোরে!
মন ছটফট করে
কিশোরবেলার মত করে
শুধু এক নজর তাঁকে দেখার তরে;
দূর থেকে এক পলকের তরে
কত ছল করে ঘুরে ফিরে
বাড়ির পাশ দিয়ে চলি বারে বারে;
অকারণে যদি সে ফেরে!
কান পেতে রই কান খাড়া করে
শুনিতে তাঁর কন্ঠস্বর বেড়ার ওপারে!
হি হি হাসি শুনলে পরে
তনুমনে ঝিলিক মারে!
যে কী অনুভুতি বাপ রে!
বোঝাই কেমন করে
সে যে চিত্ত বিকল করে!
তাঁর প্রিয় গান বারে বারে
গুনগুনিয়ে চলি বিড়বিড় করে;
কবিতাংশ আওড়াই মধুর স্বরে
দু’চোখ বন্ধ করে
ভেসে সুখের সাত সায়রে!
কিশোর অবেগ রেখেছি ধরে
অকারণে তা নিত্য পড়িছে ঝরে
অনাদরে অকাতরে!
পৌঢ়ের প্রান্ত ধরে
ভাবসমুদ্র টুইটুম্বরে
প্রেমরস টস টস করে
শুধু তাঁর তরে, তাঁরই তরে;
মন এমন কেন যে করে!
যৌবনের তাগড়া ঘোড়া টগবগ করে
ছুটে চলে তাঁর প্রান্তুিক প্রান্তরে।
শ্রাবণেও ফাগুন ভিড়ে;
শুধু তাঁরই তরে তাঁর তরে!
যে ইচ্ছে করে আমারে
জ্বেলে পুড়ে ভস্ম করে;
আবার নিজে নিজেই কাঁদে
অস্ফুট সুতীব্র চিৎকারে!
তাঁকে কথা মনে পড়ে
যেথায় যেমন থাকি সুরে-অসুরে
ধরণীর কোন প্রান্তরে
তাঁর স্মৃতি ভিড় করে
পালাবার পথ নাই রে!
লেখক পরিচিতি : এ কে সরকার শাওন
কবি ও কথাসাহিত্যিক এ কে সরকার শাওন বাংলাদেশের ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে ১৯৬৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। প্রকশিত একমাত্র উপন্যাস 'অতল জলে জলাঞ্জলি' ও কাব্যগ্রন্থ 'কথা-কাব্য', 'নীরব কথপোকথন, আপন-ছায়া।

