শ্রীগৌর-গদাধর যুগল বন্দনা

লেখক : অজয় কুমার দে

রাধাভাবদ্যুতিযুক্তং, কৃষ্ণং গৌরকলেবরম্।
রাধাং স্বয়ং গদাধরং, বন্দে যুগলরূপকম্।।

 rādhā-bhāva-dyuti-yuktaṁ kṛṣṇaṁ gaura-kalevaram,
rādhāṁ svayaṁ gadādharaṁ vande yugala-rūpakam.

সরলার্থ:

যিনি শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তি দ্বারা সুশোভিত, সেই গৌরবর্ণ শরীরধারী শ্রীকৃষ্ণকে (শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে) এবং স্বয়ং শ্রীরাধা যিনি গদাধর পণ্ডিত রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন—এই পরম মধুর অপ্রাকৃত যুগল রূপকে আমি বন্দনা করি।

ছন্দ ও ব্যাকরণগত পরিমার্জন (বিশ্লেষণ):

১. রা-ধা-ভা-ব-দ্যু-তি-যুক-তং = ৮টি অক্ষর

২. কৃষ্-ণং গৌ-র-ক-লে-ব-রম্ = ৮টি অক্ষর

৩. রা-ধাং স্ব-য়ং গ-দা-ধ-রম্ = ৮টি অক্ষর

৪. বন্-দে যু-গ-ল-রূ-প-কম্ = ৮টি অক্ষর

প্রথম চরণ: রা-ধা-ভা-ব-দ্যু-তি-যুক-তং (৮টি অক্ষর)

এখানে পূর্বের ‘সুপ্তং’ শব্দের চেয়ে ‘যুক্তং’ (যুক্ত বা দীপ্ত) শব্দটি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর তত্ত্বকে (রাধাভাব ও কান্তি যুক্ত কৃষ্ণ) ব্যাকরণগত ও ভাবগতভাবে নিখুঁত প্রকাশ করে।

দ্বিতীয় চরণ: কৃষ্-ণং গৌ-র-ক-লে-ব-রম্ (৮টি অক্ষর)

তৃতীয় চরণ: রা-ধাং স্ব-য়ং গ-দা-ধ-রম্ (৮টি অক্ষর)

ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘বন্দে’ (আমি বন্দনা করি—উত্তম পুরুষ, একবচন) ক্রিয়াপদের কর্ম হিসেবে ‘রাধা’ ও ‘গদাধর’ শব্দ দুটিতে দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘রাধাং’ এবং ‘গদাধরং’ হয়েছে।

চতুর্থ চরণ: বন্-দে যু-গ-ল-রূ-প-কম্ (৮টি অক্ষর)

পূর্বের ‘বন্দং’ শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ ছিল, এখানে শুদ্ধ রূপ হবে ‘বন্দে’

চরণভিত্তিক তাত্ত্বিক ও ব্যাকরণগত পরিমার্জন:

প্রথম চরণ: এখানে ‘সুপ্তং’ শব্দের চেয়ে ‘যুক্তং’ (যুক্ত বা দীপ্ত) শব্দটি ব্যবহারের ফলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পরম তত্ত্বটি (শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি সুবলিত কৃষ্ণস্বরূপ) ব্যাকরণ ও গৌড়ীয় দর্শন—উভয় দিক থেকেই নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

দ্বিতীয় চরণ: মহাপ্রভুর শ্রীবিগ্রহের পরিচয়কে অক্ষুন্ন রেখে ৮ অক্ষরের মাত্রা পূর্ণ করেছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ চরণ: ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী ‘বন্দে’ (আমি বন্দনা করি—উত্তম পুরুষ, একবচন) ক্রিয়াপদের কর্ম হিসেবে ‘রাধা’ ও ‘গদাধর’ শব্দ দুটিতে দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়ে যথাক্রমে ‘রাধাং’ এবং ‘গদাধরং’ হয়েছে। পূর্বের অপ্রয়োগ ‘বন্দং’ শব্দটিকে শুদ্ধ করে ‘বন্দে’ করায় ছন্দের পরিমাপ এবং ব্যাকরণের শুদ্ধতা—দুই-ই একই বিন্দুতে পরম রূপ লাভ করেছে।

ব্যাকরণগত শুদ্ধতা: শেষ চরণে যেহেতু ‘বন্দে’ (আমি বন্দনা করি) ক্রিয়াপদ রয়েছে, তাই ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী তার কর্মপদগুলোতে দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘রাধা’ থেকে ‘রাধাং’ এবং ‘গদাধর’ থেকে ‘গদাধরং’ হয়েছে। এর ফলে ছন্দের মাপ এবং ব্যাকরণ—দুটিই একবিন্দুতে নিখুঁত হয়েছে।


লেখক পরিচিতি : অজয় কুমার দে
সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি : অজয় কুমার দে (প্রণবানন্দন) গবেষক, কবি ও রসায়নবিদ ORCID iD: 0009-0009-1046-3555 শ্রী অজয় কুমার দে (সাহিত্যিক নাম 'প্রণবনন্দন') মুর্শিদাবাদের সন্তান , অধিকারী গবেষক ও সাহিত্যিক। । রসায়ন বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও বাংলার বৈষ্ণব ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তাঁকে একজন নিরলস গবেষকে পরিণত করেছে। দীর্ঘ ১২ বছরের পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি ডিজিটাল এবং মুদ্রিত উভয় মাধ্যমেই বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় ব্রতী।ব্যক্তিজীবনে তিনি সাইবার অপরাধ তদন্ত এবং সাংবাদিকতায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে প্রাচীন ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন করাই তাঁর লক্ষ্য। 'প্রণবানন্দন' ছদ্মনামে তিনি নিয়মিত লোকসংস্কৃতি, ধর্মদর্শন এবং সামাজিক বিবর্তন নিয়ে লিখে চলেছেন। তাঁর লেখায় যেমন বিজ্ঞানের যুক্তিগ্রাহ্যতা থাকে, তেমনি থাকে আধ্যাত্মিক চেতনার গভীরতা। গৌড়ীয় বৈষ্ণব তত্ত্ব, বিশেষ করে শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামী এবং বৈষ্ণব পদাবলীর বিবর্তন নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য সুপরিচিত। তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যিক কর্মধারার স্বীকৃতিস্বরূপ 'নজরুল পুরস্কার' লাভ করেন। তিনি উইকিপিডিয়ার একজন সক্রিয় সম্পাদক এবং 'সাধ্য-স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up