লেখক : অভিজিৎ সুর
মন্ত্রীমশাই একবার আসুন,
আসুন আমাদের এখানে,
ওই যেখানে স্তূপিকৃত জঞ্জাল পড়ে আছে, তার পাশ দিয়ে ভাঙা পিচ উঠে যাওয়া এবড়ো খেবড়ো রাস্তা ধরে
হেঁটে আসুন, উপভোগ করুন পার্থিব মখমল।
আসুন আমাদের স্কুলে,
ওই যে, যেখানে একটা টিনের চালা রয়েছে জং ধরা
যার এক দিকটা হেলে গেছে
আর চার দেওয়ালে কোন পলেস্তারা নেই,
না না, ওটা আস্তাবল নয়, ওটাই স্কুল।
একটু বসে যান
মাফ করবেন, পাখার হাওয়া খাওয়াতে পারলাম না
ওটা তো কখনও চোখেই দেখিনি।
আর ওই দেখুন ওইদিকে রান্না হচ্ছে
দুপুরের খাওয়া, চালে একটু কাঁকর আছে,
নিন্দুকের অবশ্য বলে কাঁকরে একটু চাল আছে।
না না, ওটা হলুদগোলা জল নয়, ওটাই ডাল।
আর যদি বাথরুমের কথা বলেন,
ওই যে নর্দমা রয়েছে, আশেপাশে একটু ঝোপঝাড়, ওটাই।
না না, ব্যস্ত হবেন না, আপনাকে বিশেষ কিছুই করতে হবে না
শুধু আপনার সন্তানকে এই স্কুলে ভর্তি করিয়ে যান।
এবার কষ্ট করে একবার হাসপাতালে আসুন,
ওই যে রঙচটা মোটামুটি দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটাই।
আজ্ঞে হ্যাঁ, ওখানে কুকুর, বিড়াল, এমনকি শুয়োরও
মানুষের সাথে অবাধে মেলামেশা করে।
ডাক্তার আছেন কয়েকজন,
তবে কে কোন কী বিষয়ে সেটা ঠিক বলা যায় না।
আসলে যখন যা কিছু হয়
ওনারাই তো দেখেন মিলিয়ে মিশিয়ে।
অপারেশন থিয়েটার বলে কিছু আছে কী না
ঠিক জানা নেই, তবে কাটাকাটি যা কিছু
ওই একটা ঘর আছে, ওখানেই হয়।
বেড কয়েকখানা আছে, ছোবড়া বেরিয়ে যাওয়া,
চাদর ঢেকে দিলে আর দেখা যাবে না।
শুধু একটা অনুরোধ, আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ অসুস্থ হ’লে এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করাবেন,
কথা দিচ্ছি, আপনাদের সেবাযত্নের কোন ত্রুটি হবে না।
লেখক পরিচিতি : অভিজিৎ সুর
একক জীবন, পরিচিতিহীন

