আমার স্বাধীনতা

কবি: সুখেন্দু দাস

শোণিত তরণী সাজিয়াছে আজ, রক্তকরবী ফুলে
ধারালো অসি স্বাধীনতা চাই বেজাতের ঘর ভুলে।
বহুদিন ধরে কাঁদিছে মাতা বন্দীশালার মাঝে
         দেশের মাটি রক্ত খোঁজে উন্মাদিনীর সাজে।
লাল আবিরের রঙ্গালয়ে খেপেছে ভক্তকবি
স্বাধীনতা চাই, স্বাধীনতা চাই, বলছে রক্ত রবি।
শহীদের দেহ মুক্তি দহনে চাইছে চিতার আগুন
আজ বিনাশের তান্ডবসুরে লেগেছে সুখের ফাগুন
বীরের হাতের শক্তহাড়ে উঠেছে ধ্বংসবান
         বিদ্রোহ-মাঝে প্রলয় আনে মায়ের জয়গান।
মহাভারতের অগ্নিযজ্ঞে সকল যোদ্ধারথে
নব উনিশের পতাকা ওড়ে যুদ্ধ জয়ের সাথে।
নীরব ভাইয়ের শত শত দেহ আনিয়াছে স্বাধীনতা,
বিদ্ধ হৃদয়ে ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনি বলেছে বাস্তবতা
ইতিহাস ঢাকা সেই যুবতীও পঞ্চদশী অব্দে,
সাতচল্লিশ তারার মাঝে ভাসছে জয়ের শব্দে
সুভাষ থেকে কাজির বাণীতে বাদলের ঝরা-পাতা
নবীনালোকে উপহার দিল আমার স্বাধীনতা।


ছবি: কুন্তল


লেখকের কথা: সুখেন্দু দাস
জীবনকে কখনও বিষাদ আবার কখনও গোধূলি বেলার স্নিগ্ধ বাতাস বলে মনে হয়। ঠাকুরদার দেওয়া এই ‘সুখেন্দু’ নামটা জানি না কতটা বাস্তব তবে হৃদয়ের এই ছোট্টো কুটিরে রাতের আকাশে শত শত নক্ষত্র মণ্ডলীর মাঝে আমার একাকীত্বের ইন্দুকে দেখে আমি প্রায়শই হতবাক হই আর বলি, হে কবির একাকীত্বের সঙ্গী তুমি অমর হয়েও সবার মতোই এই ভুবন হইতে  হারিয়ে যাও কুয়াশা ঢাকা মেঘের আড়ালে কিংবা নব প্রভাতের অচেনা পথে। আমার সকল পূজনীয়  এবং স্নেহপূর্ণ পাঠকই আমার হারিয়ে যাওয়া অতীত এবং অদৃষ্টের আড়ালে থাকা ভবিষ্যতের অমূল্য রতন। তাই আমার লেখক জীবনের প্রথম সোপানে তাদের নিকট রইল আমার অন্তরের প্রণাম ও ভালোবাসা। আগামী দিনে আমার হৃদয়ের সকল অভিমান, ব্যথার অনুসন্ধানকারী আমার পাঠক। আমার হৃদয়ের আরো অনেক বেদনার থলি উপহার স্বরূপ আমি দিয়ে যেতে চাই নবাগত পথিকের কাছে – এ আমার অভিমানী বাগিচা।

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।