দাঁত দিয়ে যায় চেনা
লেখক : দীপালী ভট্টাচার্য
কাল থেকে কাজের মেয়েটিকে ফোন করছি, ফোন সে ধরলে তো! আজ সক্কাল সক্কাল ফোন করলাম তাও ধরে না! আজ অন্নপূর্ণা পুজো। ঘরের পুজো সেরে মন্দিরে যাব পুজো দিতে!
সকাল আটটায় সে এলো। “কিরে কাল থেকে ফোন করছি, ধরছিস না …
কাল থেকে কাজের মেয়েটিকে ফোন করছি, ফোন সে ধরলে তো! আজ সক্কাল সক্কাল ফোন করলাম তাও ধরে না! আজ অন্নপূর্ণা পুজো। ঘরের পুজো সেরে মন্দিরে যাব পুজো দিতে!
সকাল আটটায় সে এলো। “কিরে কাল থেকে ফোন করছি, ধরছিস না …
ঘুমাও নি… কবি
কেন পোড়াও… নিষুপ্ত রজনী
কোন সুখে?
আর কত জাগবে বিষন্ন প্রহরী,
নিজেকে একা রেখে!..
কিসের এতো হাহাকার বুকে
নিরাকার পাথর চেপে
সইছ ব্যথা ধূকে ধুকে!..
যাও এবার… ঘুমাও
শ্রাবণের নিশিযাপনে
মিলন হোক দুচোখের …
আলো ছড়িয়ে আছে
পাশাপাশি রং
পরস্পর মিশ্রিত হয়ে
কোথাও পান্না, কোথাও পোখরাজ
প্রবাল-নীলা-চুনি …
তোমার কাছে কি?
রং ছড়িয়ে আছে
পাশাপাশি ঢ্যালা
পরস্পর মিশ্রিত হয়ে
সোনা-রুপো-লোহা
কোথাও টিন, কোথাও সীসে
নিকেল-তামা-প্লাটিনাম …
তোমার কাছে কি?
জল …
প্রতিদিন নিয়ম করে, জেগে উঠি খুব ভোরে,
দলবেঁধে হাঁটতে যাবার তাগিদে,
এক ঘন্টা হাঁটা শেষে, চা দোকানে জনাদশে,
আড্ডা দিয়ে মিটাই যত খিদে।
চিনি ছাড়া চা খাই, সাথে বিস্কুট …
লাল লাল কাকড়াগুলো ওই নাগরে বিমোহিত।
সাম্রাজ্যের উপদ্রবে অহেতুক ছুটি-বিনি-ওড়ে অবিরত।
মৃতকাক তবু রাজখুঁটি ধরে ধরে নক্ষত্র পাদুকায় পথ চলে।
আর কানামাছি সর্বভুক কপটতায় কেবলি দীর্ঘায়ু পায়।
লীনার হাত ধরার মতলব বুঝে গেছে কবি।
বুনো গোখরার …
ছত্রিশ বছর দৌঁড়িয়েছি রঙিনের পিছে
ছত্রিশ বছর পর বুঝতে পেরেছি সব মিছে!
ধুসর ছবির মতো ধূসর জীবন
চশমার রঙিন গ্লাসে রঙিন ভুবন।
ছত্রিশ বছর পর মেনে নিয়েছি বাস্তবিকতা
দেখেছি খালি চোখে পৃথিবীর ধূসরতা!
রাষ্ট্র দূর করতে …
তুমি বললে না ভালবাসি।
তাই কত পূর্ণিমার রাত এমনিই মিছে গেল,
জাগা হলো না।
তুমি বললে না ভালবাসি।
তাই বিশ্বের সব গোলাপ শাখাতেই ঝরে গেল,
তোমার হাতে এলো না।
তুমি বললে না ভালবাসি।
তাই রাত জেগে …
জীবনে অনেক পথ পেড়িয়ে এসেছি।
মন ভাঙাভাঙির পর্ব জিতে
ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করে
সান্ত্বনার আকাশে বেড়িয়ে
লড়াইয়ের সূর্যকে হারিয়ে
কষ্টের নদী ঝরিয়ে
দুঃখের সাগরে ভেসে
এখন আমি ক্লান্ত। আমার বিশ্রামের প্রয়োজন,
আমায় ঘুমোতে দাও।
কেউ ডেকো …
শেষ পর্যন্ত এই জন্ম-মৃত্যু, এই মাতৃত্বকে দোষ দেয়নি সে।
অথচ সেসব মনে করে আজো খুব হাসি পায় তার।
সে কী নারী? সে কী সমকামী? নাকি নারীবাদী?
কেন এসব আজ রাষ্ট্রকে এভাবে ভাবায়? কেন?
পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক পরাভবে …
পাতা ঝরা দিন চাক্ষুষ দেখা কয় জনের জোটে,
অনাবিল সেই আনন্দ ঢেউ নিজ কে ঠেকায়,
আম্র বনের ফুলে বিপ্লব দেখা শ্রেণী হলরেখা
কুড়ি বর্ধন তরুণ মুকুল উঠেছে রেখায়।
সরিষা বর্ণ ধূসর হয়েছে বুড়ো হয় ক্ষণস্থায়ী
বিদায় নিয়েছে …
আমি হারিয়ে গেছি একেবারে
তাই আর খুঁজে পেতে চাই না কোনোমতে।
আমি মিলিয়ে গেছি অস্ত আকাশে
তাই আর উদয় হতে চাই না নতুন ভোরে।
আমি ডুবে গেছি অকূল সাগরে
তাই আর ভেসে উঠতে চাই না কোনো …
কিছু উত্থান ঐতিহাসিক। কিছু দ্বান্দ্বিক।
এই উপাখ্যান আমাদের সহ্য হয়ে গেছে।
মানুষের মৌনতায় সবকিছু যখন
অনর্থক হয়ে ওঠে, তখনো তুমি নড়ো।
আর তুমি ভোরের সাথে তর্কে মাতো
আর তুমি সূর্যের কুকীর্তি ফাঁস করো।
আর তুমি আগুন …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
