সম্পাদক : সম্বিত শুক্লা
সকলকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
দুঃখিত, ভুল হয়ে গেছে, বলা উচিত ছিল “শুভনন্দন”। মুখ বাঁকাচ্ছেন? আরে, আমাদের তো ওটুকুই সম্বল – বাংলায় নতুন শব্দ। এর বাইরে, বাংলা ভাষায় আর কীই বা পাচ্ছি! বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়গুলির দুরবস্থা ক্রমেই বাড়ছে – আর বাড়বে নাই বা কেন – বাংলা ভাষার জন্য ব্যতিক্রমছাড়া চাকরি ক্ষেত্রে কোন রকম সংরক্ষণ নেই যে এই বাংলায় পিতামাতা তাঁদের সন্তানকে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা দেবেন! যেখানে ইংরাজি ও হিন্দি মাধ্যমের ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি সেখানে চাকরি ক্ষেত্রে বাংলার ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাই “শুভনন্দন” – বাংলাভাষার শিক্ষাক্ষেত্রকে কোমায় পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।
বাংলাভাষায় শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, বরং বাংলাভাষাকেও এই বাংলায় ক্রমাগত কোণঠাসা করা হচ্ছে। হিন্দির দাপটে কোণঠাসা বাংলা উচ্চারণ, বাংলা বাক্য গঠন,বাংলা ব্যাকরণ। তাই “শুভনন্দন”।
পাশাপাশি, বাংলা সংস্কৃতি – “জয় শ্রীরাম”-এর গর্জনে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে শান্তিপ্রিয় বাঙালির মিলে মিশে থাকার চিরকালীন সংস্কৃতি। গত এক দশকে, ক্রমেই ধর্ম হয়ে উঠছে এই বাংলায় মেরুকরণের প্রধান বিষয়। হাজার বছরের যে সংস্কৃতিতে বাঙালি তার দৈনন্দিন যাপনে ধর্মীয় পরিচয় খোঁজেনি হাটবাজারে মিলিত হওয়া মানুষটির – সেই বাঙালি এখন ধর্মীয় মেরুকরণের মুখে। তাই “শুভনন্দন”।
এবং ভোট! আসন্ন নির্বাচনে কাকে ভোট দেব, কেন ভোট দেব এই সব প্রশ্নের থেকেও অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে “ভোট দিতে পারব তো” প্রশ্নটি! এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েও আপনার দরজায় ভোটপ্রার্থী প্রতিটি রাজনৈতিক দলই। লোকদেখানো রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেও একটিও রাজনৈতিক দল একথা বলতে পারল না যে “একজন বৈধ ভোটারও ভোটাধিকার হারালে আমরা সম্পূর্ণভাবে ভোট বয়কট করব”। না, আপনার পাশে কেউ নেই, শুধু ভোট চাইতে আপনার দরজায় ঠকঠক – তাই “শুভনন্দন”।
নববর্ষের মতো নতুন শুরুর দিনে এমন তিতো মুখে শুরু করার ইচ্ছে না থাকলেও পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করছে এই বাস্তবতা তুলে ধরতে। তবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে একটাই হাতিয়ার হতে পারে, তা হল শিক্ষা – তাই আমরা আবারও বলছি, “নববর্ষ দিচ্ছে ডাক, সবার রক্তে শিক্ষা থাক”।


চমৎকার, চাবুক লেখা!