লেখক : আত্রেয়ী সরকার
আজকের মঙ্গল গ্রহকে আমরা দেখি ধুলোময়, শীতল এবং শুষ্ক এক পৃথিবী হিসেবে। কিন্তু কোটি কোটি বছর আগে এই গ্রহটি হয়ত সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেই সময় মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে একটি বিশাল মহাসাগর ছিল, যার গভীরতা ও বিস্তৃতি পৃথিবীর অনেক সমুদ্রের সঙ্গে তুলনীয়। মঙ্গলের পৃষ্ঠে পাওয়া শুকিয়ে যাওয়া নদীর খাত, ডেল্টা, উপত্যকা এবং পলি জমার নিদর্শন ইঙ্গিত দেয় যে সেখানে একসময় প্রচুর তরল পানি প্রবাহিত হত। এই নদীগুলো শেষ পর্যন্ত একটি বিশাল মহাসাগরে গিয়ে মিলিত হত।
গবেষণায় আরও জানা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গল তার শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র হারিয়ে ফেলে। ফলে সৌর মাধ্যাকর্ষণ ধীরে ধীরে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলকে মহাশূন্যে উড়িয়ে নিয়ে যায়। বায়ুমণ্ডল পাতলা হয়ে গেলে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং তরল পানি আর স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারে না। একসময়ের বিশাল মহাসাগর হয় বরফে পরিণত হয়, নয়ত মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। কিছু পানি আজও মঙ্গলের মেরু অঞ্চলের বরফে এবং ভূগর্ভে জমে থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।
মঙ্গলের এই হারিয়ে যাওয়া মহাসাগরের ইতিহাস শুধু একটি গ্রহের অতীত জানার জন্য নয়, বরং এটি আমাদের একটি বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করে—কখনও কি মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল? যদি সেই প্রাচীন মহাসাগরে দীর্ঘ সময় ধরে তরল পানি থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীবের মত প্রাথমিক জীবনের উদ্ভবের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মঙ্গলের অতীতের সেই মহাসাগর আজ আর দৃশ্যমান নয়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া ভূতাত্ত্বিক চিহ্ন বিজ্ঞানীদের সামনে এখনও এক বিশাল রহস্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই রহস্য উন্মোচনের জন্য ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
লেখক পরিচিতি : আত্রেয়ী সরকার
রাইটার

