লেখক : অদিপ রায়
একটি মাল্টি-ন্যাশনাল ঔষধ কোম্পানির সারা ভারতের সেলসের প্রধান সনভ, ওদের কোম্পানির ব্যবসা আশাতীতভাবে বাড়িয়ে চলেছে বছরের পর বছর ধরে। এ’বছর, সংস্থায় তৃতীয়বার “হাণ্ড্রেড পারসেণ্ট”, অর্থাৎ বিক্রির ‘পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রায়’ পৌঁছনোর পুরস্কারস্বরূপ এক সপ্তাহের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছে।
সেই সুবাদে গতকালই মাদ্রিদ শহরে এসে পৌঁছেছে। এখন মাদ্রিদের বিখ্যাত রাজপ্রাসাদ আর তার পাশের গির্জা দেখতে গিয়ে ও একটু ক্লান্তই হয়ে পড়েছিল। তাই বেরিয়ে এসে প্রাসাদের লাগোয়া বাগানের একটা মূর্তির সিঁড়ির ধাপে বসে পড়েছিল। চোখে তখনও ভাসছিল সদ্য দেখা ৩৪১৮ কামরার বিলাসবহুল বিশাল রাজপ্রাসাদ আর তার পাশের জাঁকজমকপূর্ণ গির্জা।
সেই দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সনভের মনে হল, সামনে মাদ্রিদের দু’টি দ্রষ্টব্য স্থল। এ’দুটি প্রাচীন, কিন্তু সর্বকালের ক্ষমতার উৎস – সোজা কথায় ‘পাওয়ার সেণ্টার’। একটি রাজতন্ত্রের, অন্যটি ধর্মভিত্তিক। বর্তমানে হয়ত রাজতন্ত্রের জায়গা নিয়েছে গণতন্ত্র, আর সাথে যোগ হয়েছে তৃতীয় ক্ষমতার উৎস – মাল্টি-ন্যাশনাল সংস্থা। ঠিক যেমন তাদের মার্কিনী কোম্পানি সারা পৃথিবীতে তাদের বাণিজ্য বিস্তার করে চলেছে। এটা এক নতুন ধরণের সাম্রাজ্যবাদ। দুর্ভাগ্যবশত কাগজে কলমে যাই লেখা থাক, কার্যত এদের সবার লক্ষ্য একই – ব্যক্তিগত শ্রীবৃদ্ধি।
এদিকে সকাল গড়িয়ে দুপুরের রোদ, যা রাজপ্রাসাদকে উজ্জ্বল করে রেখেছিল, এখন একটা মেঘে ঢাকা পড়ে গেল। মেঘের ছায়া রাজপ্রাসাদের উজ্জ্বল্য একটু কমিয়েও দিল। রোদের তাপ না থাকায় প্রচণ্ড গরম একটু কমে গেল। সনভের বোধহয় একটু আরামই লাগল সেই মেঘের ছায়া।
লেখক পরিচিতি : অদিপ রায়
অদিপ রায় একজন কারিগরি স্নাতক, যিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আইবিএম (ভারত)-এ জেনারেল ম্যানেজার পদে অধিষ্ঠিত হওয়া। কর্পোরেট জীবনে অভিজ্ঞতার দীর্ঘসূত্রতা শেষে তিনি বর্তমানে একাধিক ম্যানেজমেন্ট স্কুলে শিক্ষকতা করছেন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত উচ্চপদস্থ পেশাজীবীদের এক্সিকিউটিভ কোচ হিসেবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আদিপ রায় ইংরেজিতে দুটি বাণিজ্যভিত্তিক উপন্যাস রচনা করেছেন, যা কর্পোরেট জগতের অন্তর্দৃষ্টি ও রূপান্তরশীল সময়কে তুলে ধরেছে। হালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর একটি বইও লিখছেন। পাশাপাশি, তাঁর লেখা কয়েকটি ছোটগল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠকসমাজে প্রশংসিত হয়েছে।

