অবিদ্যার দেবী ও হিঙুল বর্ণের আলো

লেখক : পল্লব গোস্বামী

কাব্যগ্রন্থ: অবিদ্যা রঙের আলো
কবি: অমিতাভ দাস
প্রকাশনী: অবগুণ্ঠন

কবিতা লিখে কি পেটের দু’টো ভাত আসে?
জোগাড় করা যায় অসুখের ওষুধ?
তাহলে কেউ কবিতার সাথেই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে চান কেন?

এইসব প্রশ্ন যখন অবিরাম বুকে টোকা মারে, তখনই এক সাধক কবির কলমে খুলে যায় অন্য ও অনন্য আকাশ। বুনো পায়রার পালকের মত নরম, ধূসর একটি কলম নিয়ে বেদনার কালিতে কবি অক্ষর সাজান। দশদিক দিয়ে ঝরে পড়ে অপূর্ব বৌদ্ধিক আলো। সে আলোতে কবি ডুবে যান, ভেসে ওঠেন, আবার ডুবে যান। ভেসে থাকাটুকুর মুহূর্তে কবির শক্তির সাধনা। মুকুন্দের চণ্ডী, ভারতচন্দ্রের অন্নদা কিংবা রামপ্রসাদের শ্যামা – কবির সাধনভূমিতে সবাই যেন এক সূত্রে গাঁথা।

তাঁর কাছে যিনি শ্যামা, তিনিই অস্ত্র ছেড়ে বাঁশি হাতে শ্যাম হয়ে ওঠেন।‌ শ্রীকৃষ্ণের ব্যাকুল বাঁশিতে কবি শুধু ভালবাসা ভালবাসেন। পৃথিবীর সবকিছু ঘৃণা, হিংসা, জরার বিরুদ্ধে কবির কাছে একটি মাত্র অস্ত্র – “ভালবাসা”। সেই ভালবাসা তিনি বুকের কুসুমে গোপন করে রাখেন। আর তাঁর আজীবনের লেখার খাতায় ভরিয়ে দেন সেই আলো। সারাক্ষণ অবিদ্যা রঙের আলোয় ফুটে ওঠে কবির নিজস্ব পাখিযাপন। কবিতার প্রতিটি স্পন্দনে, কান পাতলে শোনা যায়, পুরনো মন্দির, রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ির ফিসফাস, শোনা যায় টপ্পা-খেয়াল, শ্যামাসংগীত। বেজে ওঠা স্মৃতি কবিকে ভাবায়। সারাক্ষণের সঙ্গী, একাকিত্ব ও বিষণ্ণতা। এই নিয়েই রচিত হয় কবির অলৌকিক সংসার।

বুঝতে পারি, কবি অমিতাভ দাস, শুধু কলমের কালি নয়; বরং বুকের রক্ত দিয়ে কবিতায় আঁচড় কাটেন। আর একারণেই কবিতার প্রতি, তাঁর এ সমর্পন, হাহাকার- পাঠকের জন্য দু’টো দানাপানি, আত্মার ওষুধ হয়ে ওঠে।


লেখক পরিচিতি : পল্লব গোস্বামী
বাড়ি-ঘর নয়, বুদ্ধই তার বন্ধু। চিকিৎসার কারণে কবির ভ্রাম্যমান জীবন। ভালোবাসতে ভালোবাসেন আর ভালোবাসেন ভালোবাসার কাছে আভুবন নত হয়ে থাকতে। "হরিণবাগান"- কবির তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up