লেখক : হেমন্ত লোহার
যুগের নাম তখন দ্বাপর যুগ। ধর্ম ও অধর্মের সংঘাত তখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। হস্তিনাপুরের রাজনীতি, পাণ্ডব ও কৌরবদের বিরোধ এবং আসন্ন কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধের অশনি সংকেত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্য থেকে রাজ্য, নগর থেকে অরণ্য—সবখানেই যেন মানুষ অপেক্ষা করছিল এক মহাপ্রলয়ের জন্য। কিন্তু সেই ভয়ংকর সময়ের মাঝেও কোথাও কোথাও জন্ম নিচ্ছিল এমন কিছু ভালবাসার গল্প, যেগুলো যুদ্ধের ইতিহাসে লেখা হয়নি—কিন্তু মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে আছে।
এমনই এক গল্প ছিল রাজকুমার ঘটোৎকচ এবং নাগকুমারী অহিলাবতীর।
অরণ্যের সরোবরের ধারে প্রথম দেখা
ঘন অরণ্য, চারদিকে বিশাল বিশাল গাছ, লতাপাতা আর পাখিদের ডাক। সূর্যের আলোও যেন অরণ্যের গভীরে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারত না। সেই অরণ্যের মাঝখানে ছিল একটি শান্ত সরোবর। সরোবরের জল ছিল স্বচ্ছ, যেন নীল আকাশ তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে সেখানে নেমে এসেছে। একদিন সেই সরোবরের কাছে এসে দাঁড়ালেন এক পরাক্রমশালী যুবক। তিনি ছিলেন ঘটোৎকচ—ভীম ও হিড়িম্বার সন্তান। তাঁর শরীরে ছিল অসীম শক্তি, চোখে ছিল বীরত্বের দীপ্তি, কিন্তু তাঁর হৃদয় ছিল শিশুর মত কোমল।
হঠাৎ তাঁর চোখ আটকে গেল সরোবরের অপর পারে। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী। নাগলোকের রাজকুমারী অহিলাবতী। সরোবরের জলে তাঁর প্রতিবিম্ব যেন আরেকটি চাঁদ হয়ে ভেসে উঠেছিল। তাঁর চোখে ছিল অদ্ভুত শান্তি, আর মুখে এমন এক সরলতা, যা মুহূর্তের জন্য ঘটোৎকচের মত বীর যোদ্ধাকেও নির্বাক করে দিল। ঘটোৎকচ বহু যুদ্ধ দেখেছেন। অসংখ্য রাক্ষস, দানব ও যোদ্ধার সঙ্গে লড়াই করেছেন। কিন্তু সেদিন তিনি এমন এক শক্তির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, যার বিরুদ্ধে কোন অস্ত্র কাজ করে না। সেটি ছিল ভালবাসা। অহিলাবতীও প্রথমে তাঁকে দেখে ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটোৎকচের চোখে কোন অহংকার ছিল না। ছিল এক অদ্ভুত মায়া ও আন্তরিকতা। দু’জনের চোখ একবার মিলল। তারপর দু’জনেই চোখ নামিয়ে নিলেন।
কিন্তু সেই এক মুহূর্তেই যেন তাদের ভাগ্যের গল্প লেখা হয়ে গেল।
ভালবাসার শুরু
এরপর অরণ্যের সেই সরোবর তাদের গোপন সাক্ষাতের জায়গা হয়ে উঠল। কখনও ঘটোৎকচ দূর থেকে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন, শুধু অহিলাবতীকে একবার দেখবেন বলে। কখনও অহিলাবতী সরোবরের ধারে এসে অপেক্ষা করতেন। তাদের কথাও ছিল খুব সাধারণ। ঘটোৎকচ বলতেন, “তুমি নাগলোকের রাজকুমারী হয়েও এত সাধারণভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলো কীভাবে?”
অহিলাবতী মৃদু হেসে বলতেন, “রাজকুমারী হওয়ার আগে তো আমি একজন মানুষ। আর তুমি? তোমাকে দেখে সবাই ভয় পায়, অথচ তোমার মনটা এত কোমল কেন?”
ঘটোৎকচ হাসতেন। “যাকে ভালবাসা যায়, তার সামনে বীরত্ব দেখিয়ে কী লাভ?”
এই কথার উত্তর অহিলাবতী দিতে পারতেন না। শুধু তাঁর চোখে তখন ভালবাসার আলো জ্বলে উঠত।
দিনের পর দিন তাঁদের সম্পর্ক গভীর হতে লাগল। কিন্তু তাঁরা জানতেন না—এই ভালবাসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আসতে চলেছে তাঁদের নিজেদের পরিবার এবং বংশপরিচয় থেকে।
নাগরাজের অস্বীকৃতি
অহিলাবতী ছিলেন নাগরাজ বাসুকীর কন্যা। অন্যদিকে ঘটোৎকচ ছিলেন ভীম ও হিড়িম্বার সন্তান। তাঁর জন্মের সঙ্গে মানব ও রাক্ষস—দুই বংশেরই সম্পর্ক ছিল। যখন নাগরাজ জানতে পারলেন তাঁর কন্যা ঘটোৎকচকে ভালবাসেন, তখন তিনি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলেন। “অসম্ভব!” নাগরাজের কণ্ঠে বজ্রের মত গর্জন উঠল। “আমার কন্যার সঙ্গে একজন রাক্ষসবংশীয় যুবকের বিবাহ কখনও হতে পারে না।”
অহিলাবতী চোখের জল ধরে বললেন, “পিতা, তিনি শুধু তাঁর বংশ নন। তিনি একজন মহান যোদ্ধা। তাঁর হৃদয় পবিত্র।”
কিন্তু রাজা তখন মেয়ের কথা শুনতে প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি ঘটোৎকচকে ডেকে পাঠালেন।
“যদি সত্যিই আমার কন্যাকে ভালবাসো,” নাগরাজ বললেন, “তবে শুধু মুখের কথায় নয়—তোমার কর্ম দিয়ে তা প্রমাণ করো।”
ঘটোৎকচ মাথা নত করলেন। “আমি প্রস্তুত।”
তারপর শুরু হ’ল তাঁর কঠিন পরীক্ষা। কখনও তাঁকে ভয়ংকর অরণ্যের বিপদ মোকাবিলা করতে হ’ল, কখনও নাগরাজ্যের শত্রুদের প্রতিহত করতে হ’ল। প্রতিটি পরীক্ষায় তাঁর সামনে ছিল মৃত্যুর ভয়। কিন্তু ঘটোৎকচ পিছিয়ে গেলেন না। কারণ তাঁর কাছে জয় মানে শুধু যুদ্ধ জেতা ছিল না। তাঁর কাছে জয় মানে ছিল—অহিলাবতীর হাত পাওয়া।
অবশেষে নাগরাজ বুঝলেন, এই যুবকের ভালবাসা সাময়িক আবেগ নয়। এ ভালবাসার মধ্যে ছিল সম্মান, ত্যাগ এবং প্রতিশ্রুতি। নাগরাজের কঠিন হৃদয়ও একসময় নরম হয়ে গেল। তিনি কন্যার হাত ঘটোৎকচের হাতে তুলে দিলেন।
ভালবাসার বিবাহ
নাগলোক সেজে উঠল উৎসবের আলোয়। চারদিকে আনন্দ, সঙ্গীত আর ফুলের সাজ। ঘটোৎকচ ও অহিলাবতীর বিবাহ সম্পন্ন হ’ল। সেদিন অহিলাবতীর মুখে ছিল লজ্জার হাসি। আর ঘটোৎকচের চোখে ছিল এমন এক আনন্দ, যা কোন যুদ্ধজয়ের আনন্দের থেকেও বড়। তাঁরা ভেবেছিলেন—এবার হয়ত তাঁদের জীবন সুখে কেটে যাবে।
কিন্তু মানুষ ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না। কারণ ভবিষ্যৎ লেখা থাকে নিয়তির হাতে।
সুখের দিন
বিবাহের পর কিছুদিন তাঁদের জীবন ভালবাসায় ভরে উঠেছিল। ঘটোৎকচ যখন যুদ্ধ বা কোন কাজে বাইরে যেতেন, অহিলাবতী তাঁর ফেরার অপেক্ষা করতেন। আর যখন তিনি ফিরে আসতেন, অহিলাবতীর মুখের হাসিই ছিল তাঁর সমস্ত ক্লান্তির ওষুধ। একদিন অহিলাবতী বলেছিলেন, “তুমি কি আমাকে কখনও ছেড়ে যাবে?”
ঘটোৎকচ হেসে বলেছিলেন, “যুদ্ধ আমাকে অনেকবার মৃত্যুর সামনে নিয়ে গেছে। কিন্তু তোমার কাছ থেকে দূরে যাওয়ার কথা ভাবলেই আমার ভয় হয়।”
অহিলাবতী তাঁর হাত শক্ত করে ধরে বলেছিলেন, “তাহলে প্রতিশ্রুতি দাও, যত দূরেই যাও, ফিরে আসবে।”
ঘটোৎকচ বলেছিলেন, “প্রতিশ্রুতি রইল।”
কিন্তু তিনি জানতেন না—কখনও কখনও মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতির থেকেও শক্তিশালী হয়ে ওঠে নিয়তি।
কুরুক্ষেত্রের ডাক
এরপর শুরু হ’ল কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ। পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে যুদ্ধ ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠল। পাণ্ডবদের সাহায্যের প্রয়োজন হ’ল। ভীমের পুত্র ঘটোৎকচকে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হবে—এ খবর যখন অহিলাবতীর কাছে পৌঁছাল, তখন তাঁর বুক কেঁপে উঠল। তিনি জানতেন, তাঁর স্বামী একজন অসাধারণ যোদ্ধা। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অর্থ কী, সেটিও তিনি জানতেন।
যুদ্ধের আগের রাতে দুজন পাশাপাশি বসেছিলেন। চারদিকে ছিল নীরবতা। অহিলাবতীর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি ঘটোৎকচের হাত ধরে বললেন, “যেও না।”
ঘটোৎকচ কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। তারপর তাঁর চোখের জল মুছে দিয়ে বললেন, “আমাকে যেতেই হবে।”
“যুদ্ধ কি তোমার কাছে আমার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ?”
ঘটোৎকচ মৃদুস্বরে বললেন, “না। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ। কিন্তু আজ যদি আমি পিতার পাশে না দাঁড়াই, যদি ধর্মের পক্ষে যুদ্ধ না করি, তাহলে সারাজীবন নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকব।”
অহিলাবতী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “তুমি ফিরে আসবে তো?”
ঘটোৎকচ তাঁর কপালে হাত রেখে বললেন, “আমি ফিরে আসব। এ আমার কথা।”
অহিলাবতী তাঁর বুকে মুখ লুকিয়ে দিলেন।
তিনি জানতেন না—এটাই ছিল তাঁদের শেষ রাত।
কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গন
যুদ্ধের চতুর্দশ দিন। কুরুক্ষেত্রের আকাশ তখন ধুলো আর অস্ত্রের শব্দে অন্ধকার হয়ে উঠেছে। ঘটোৎকচ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন। তাঁর বিশাল দেহ, অসীম শক্তি এবং ভয়ংকর যুদ্ধকৌশলে কৌরব সেনার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। তিনি একের পর এক শত্রুসেনাকে পরাস্ত করতে লাগলেন। রাত যত গভীর হ’ল, ঘটোৎকচের শক্তি যেন আরও বাড়তে লাগল। কৌরব সেনার মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়ল।
অবশেষে তাঁকে থামানোর জন্য মহাবীর কর্ণকে এগিয়ে আসতে হ’ল। কর্ণের কাছে ছিল দেবরাজ ইন্দ্রপ্রদত্ত এক অমোঘ অস্ত্র—একঘ্নী। সেই অস্ত্র একবার প্রয়োগ করলে তার লক্ষ্যকে পরাস্ত করবেই, কিন্তু অস্ত্রটি একবারই ব্যবহার করা যাবে। কর্ণ সেই অস্ত্র অর্জুনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু সেদিন ঘটোৎকচের তাণ্ডবে কৌরব সেনা যখন বিপর্যস্ত, তখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাল যে কর্ণ বাধ্য হলেন সেই অমোঘ অস্ত্র প্রয়োগ করতে।
অস্ত্র ছুটে গেল। মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্র কেঁপে উঠল। মহাবীর ঘটোৎকচ মাটিতে পতিত হলেন। কুরুক্ষেত্রের আকাশ যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। যে বীর অসংখ্য শত্রুর সামনে দাঁড়িয়ে ভয় পাননি, তাঁর চোখের সামনে তখন ভেসে উঠল একটিই মুখ—অহিলাবতী। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে তাঁর ঠোঁটে উচ্চারিত হয়েছিল প্রিয়তমার নাম—“অহিলাবতী…”
তারপর সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
নাগলোকে সেই মুহূর্ত
দূর নাগলোকে তখন অহিলাবতী প্রাসাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর বুকের মধ্যে অজানা এক ব্যথা শুরু হ’ল। কেন জানেন না, তাঁর মনে হচ্ছিল কিছু একটা ভয়ংকর ঘটেছে। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর হাতের শাঁখা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেল। অহিলাবতীর বুক কেঁপে উঠল। তিনি ফিসফিস করে বললেন, “না…”
কেউ তাঁকে কিছু বলেনি। কেউ কোন সংবাদও দেয়নি। তবুও তাঁর হৃদয় যেন সব বুঝে গিয়েছিল। তিনি ছুটে গেলেন। কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটি কথাই বলছিলেন—“আমার ঘটোৎকচ… তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে… তুমি তো ফিরে আসবে বলেছিলে…”
কিন্তু কোন উত্তর এল না। কারণ যিনি উত্তর দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন, তিনি তখন কুরুক্ষেত্রের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত।
মাতৃত্বের ত্যাগ
অহিলাবতী স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়লেন। তাঁর মনে হ’ল, ঘটোৎকচকে ছাড়া তাঁর বেঁচে থাকার আর কোন অর্থ নেই। কিন্তু তখন তাঁর গর্ভে ছিল তাঁদের সন্তান। একটি ছোট্ট প্রাণ, যার মধ্যে বেঁচে ছিল ঘটোৎকচের রক্ত, তাঁর বংশ এবং তাঁর ভালবাসার শেষ স্মৃতি। অহিলাবতী তখন বুঝলেন—তিনি শুধু একজন স্ত্রী নন। তিনি একজন মা। তিনি যদি ভেঙে পড়েন, তবে ঘটোৎকচের শেষ স্মৃতিটুকুও পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। তাই নিজের সমস্ত কষ্ট বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে তিনি সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
সেই সন্তানই পরবর্তীকালে মহান বীর বর্বরীক নামে পরিচিত হন; পরবর্তী ভক্তি-পরম্পরায় যাঁকে খাটুশ্যামজি নামেও পূজা করা হয়। অহিলাবতীর জীবনের তখন একমাত্র লক্ষ্য—“ঘটোৎকচ নেই, কিন্তু তাঁর ভালবাসা আমার সন্তানের মধ্যে বেঁচে থাকবে।”
একাকী জীবন
সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হ’ল। পাণ্ডবরা জয়ী হলেন। রাজ্য ফিরে পেলেন। ইতিহাসে বিজয়ীদের নাম লেখা হ’ল।
কিন্তু অহিলাবতীর জীবনে কোন বিজয় এল না। প্রাসাদে ছিল ঐশ্বর্য, ছিল সম্মান, ছিল অসংখ্য মানুষ। কিন্তু তাঁর হৃদয়ে ছিল এক গভীর শূন্যতা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি আকাশের দিকে তাকাতেন। মনে মনে বলতেন, “তুমি বলেছিলে ফিরে আসবে। তুমি আসোনি। কিন্তু আমি আজও তোমার অপেক্ষায় আছি।” কখনও সরোবরের ধারে গিয়ে বসতেন। জলের দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে পড়ত সেই প্রথম দেখা। সেই চোখে চোখ রাখা। সেই লাজুক হাসি। সেই প্রতিশ্রুতি। আর সেই শেষ রাত—“আমি ফিরে আসব।”
কিন্তু ঘটোৎকচ আর কোনদিন ফিরে আসেননি।
নিয়তির কাছে পরাজিত প্রেম
তাদের ভালবাসায় কোন বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না। ছিল না কোন মিথ্যা। ছিল না কোন স্বার্থ। ছিল শুধু ভালবাসা। একজন বীর যোদ্ধা তাঁর কর্তব্যের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছিলেন। আর একজন স্ত্রী সারাজীবন তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের ভালবাসা বিবাহের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সুখের জীবন পাওয়ার আগেই নিয়তি তাঁদের আলাদা করে দিয়েছিল। ঘটোৎকচ চলে গেলেন ইতিহাসের পাতায়। অহিলাবতী রয়ে গেলেন স্মৃতির মধ্যে। আর তাঁদের সন্তান হয়ে বেঁচে রইল সেই ভালবাসার শেষ চিহ্ন।
কখনও কখনও প্রেমের সবচেয়ে করুণ গল্পগুলোতে মিলনই শেষ কথা নয়। কিছু প্রেমের গল্পের শেষ হয় অপেক্ষায়। কিছু গল্পের শেষ হয় অশ্রুতে। আর কিছু গল্প—মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে। ঘটোৎকচ ও অহিলাবতীর প্রেমও তেমনই এক গল্প। যেখানে ভালবাসা জয়ী হয়েছিল—কিন্তু ভালবাসার মানুষ দু’জন নিয়তির কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেই কারণেই হয়ত আজও তাঁদের কাহিনী মনে করিয়ে দেয়—“সত্যিকারের ভালবাসা সবসময় মানুষকে কাছে পায় না, কিন্তু সত্যিকারের ভালবাসা কখনও হারিয়েও যায় না।”
লেখক পরিচিতি : হেমন্ত লোহার
Student

