গ্রীষ্মকালীন লেখা

লেখক : ড. বিশ্বজিৎ বাউনা

১.

আলো থেকে আজ যেন ভেঙে ভেঙে নামছে তীর –
আমাকে পোড়াচ্ছে খালি। দেহ-মন অস্থির।
তীব্র বিঁধে দেয় পলক ভেদ করে প্রেম-ফলা –
হৃদয়ে দাউদাউ জ্বলে তোমাকে না বলা…
অক্ষরে, পংক্তিতে নিজে নিজে হয়ে আছি ছাই।
বুঝি আমি বিপরীতে পুড়ি, যত তোমাকে চাই…
প্রেম সেই পরাগের নাম যাতে আগুন থাকে –
চুমু তার ভবিতব্য দগ্ধ ভ্রমরের বৈশাখে।
তাই গ্রীষ্মে ঘেমে যাই, মনে আমি গ্রীষ্মকালীন –
ছায়ার মুকুটে মাথা রেখে আমি পোড়া দিন।

২.

মনে মনে চেয়েছি শ্রাবণের ধারা এ দাহ্য প্রহরে,
উপেক্ষায় আদরের বৈঠা ভেঙে পড়ে থাকে স্বকীয় ঘরে
এই চেয়ে থাকা অপারগ ইঙ্গিতে কামনা দ্বিগুণ –
রোদের শরীরে সমুদ্রের পোশাক, ভেতরে নুন।
পুড়িয়ে দেয় সে প্রতীক্ষার উঁকি আজীবন একা রাখা,
ঘুমের মতো ঝরে মৃত নক্ষত্রের পলকে ঝরোকা।
পানশি চেতনার গায়ে চিকচিক করে অলীক রেখা,
বুকের সাঁইসাঁই শূন্যে উড়ে যায় সব কাটাকুটি লেখা
দৃশ্যের গন্ধ নেই, ফুল ভেঙে দেয় কালবৈশাখী –
প্রেম যত ভেতরে ভাঙে তাকে আগলে আগলে রাখি।

৩.

এনেছ তছনছ, ভেতর পুড়িয়ে পুড়িয়ে থাকো–
ঘোলাটে ছায়ায় ডুবে আছে আমাদের মনের যৌথ সাঁকো
আজীবন দোষারোপ ছাড়া কিছু নেই সে অক্ষমতার –
হলুদ ধানের বাড়ি ছিল… ছিল পাখির সংসার…
সার্থক বাতাসের আয়ু থেকে খসে গেছে সে পলাশ –
করতল জুড়ে ক্রমশ উঠে আসে পোড়া দীর্ঘশ্বাস।
স্মৃতির সিন্দুকে গুমরে যায় গুমোট ফিসফিস –
খর রোদ আজ গহীন আগুনের মত ত্বকে ঢালে বিষ।
হালখাতা জুড়ে নতুন প্রস্তুতি, তুমি এলে গ্রীষ্ম হয়ে –
সে বর্ষার শীতলতা পেতে আজ সবকিছু নিই সয়ে।

৪.

পাখির বিরহ আঁকতে পারি না আর সব –
মৃত গাছের থেকে বাতাস উঠে আসে নীরব।
হতোদ্যম ভানে আড়ালে মৃতপ্রায় বসে থাকে একা,
প্রতিটি প্রেমের মৃত্যুতে নিরাশ্রয় আজ লেখা।
কাম্য স্বপ্নের নিষেকহীন সংঘাতে ডুবে খেদ –
চোখে বুঝি পড়ছে না চক্রবাল ঘিরে প্রভেদ!
বিলুপ্তির ভিতর শুয়ে আছে অনাগত তট –
প্রকৃতি ধীরে ফিরিয়ে দেয় বুমেরাং প্রকট।
যার প্রতি ক্ষমাহীন, বুকে হইনি পালনীয় পিতা,
সে চলে গিয়ে মন্থর সাজায় আগামীর চিতা।


লেখক পরিচিতি : ড. বিশ্বজিৎ বাউনা
জন্ম ১৯৮৬। পশ্চিম মেদিনীপুরে। পিংলায়। ২০১০-এ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ (ফার্স্ট ক্লাস/সিলভার মেডেলিস্ট), বি. এড., পিএইচডি। পেশা: শিক্ষকতা। মূলত কবিতা লেখেন। উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত বই: ডুলুং পাহাড়ে রহস্য, ঈশ্বরীকে হলুদ সনেট, আত্মক্ষরণের ফসিল, অক্ষরের কালকেতু, ধুনুরি তফাৎগুচ্ছ, লুণ্ঠন শেষের শূন্যতা, বেতাল রহস্য, বিরসা মুন্ডা: উলগুলানের সনেটগুচ্ছ, পীড়াপর্বে একলব্য ইত্যাদি। পেয়েছেন 'দ্বৈরথ সাহিত্য সম্মান', 'চূনী কোটাল স্মৃতি সম্মান','বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার' ও কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী স্মৃতি পুরস্কার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up