প্রথম দেখা

লেখক : ইচ্ছেমৃত্যু

 

‘পিঠে সেই চাপ্পড়ের ব্যথাটা এখনও আছে… জানিস!’
‘কোন ব্যথাটা?’
‘সেই আট বছর আগে আজকের দিনে যে চাপ্পড়টা মেরেছিলি…’
‘কই দেখি কোনখানটা?’
‘এই তো এইখানে’ বলে ডান কাঁধের নিচের জায়গাটা দেখায় ঋতম।
হৃতিতা একটা দুম করে কিল বসিয়ে দেয় সেখানে!
‘উফফ… আবার?’ যেন বিশাল লেগেছে এরকম ভাণ করে ঋতম।
‘হ্যাঁ, দেখছিলাম প্রথম দেখার ব্যথাটা বেশি না আজকেরটা’
‘এই আট বছরে তোর কিল-চাপ্পড় খেয়ে অভ্যেস হয়ে গেছে। সেটা প্রথম ছিল, তাও আচমকা – হজম হতে তো সময় লাগবেই। ওটা যদি আমি না হয়ে অন্য কেউ হত তাহলে কি কেলেঙ্কারি হত বল দেখি?’
‘তা আর বলতে! বাই দ্য ওয়ে, আমি তোমাকে খুব মারি, তাই না?’ বলে ছদ্ম অভিমান দেখায় হৃতিতা।
‘মারিস তো… এমন মারকুটে দজ্জাল মেয়ে আমি জীবনে দুটো দেখিনি’ হাসতে হাসতে বলে ঋতম।
‘ও তাই! তাহলে একটা শান্ত, মিষ্টি দেখে মেয়ের সাথেই তো কাটাতে পারো বাকি জীবন…’ বলে ঠোঁট ফোলায়।
‘নাহ আমার এরকমই চলবে…’ বলে হৃতিতার থুতনিটা ধরে নেড়ে দেয় ঋতম।
হঠাৎ উৎসাহ নিয়ে হৃতিতা বলে, ‘এই বলছি, যাবে এখন নন্দন চত্বরে?’
‘ব্যাস… মেয়ের উঠল বাই তো কটক যাই’
‘চলোই না…’
‘আচ্ছা চল… রেডি হয়ে নে…’
‘আমি সেই মেরুন শাড়িটা পরি… আর তুমি নীল ডেনিম জ্যাকেটটা’
‘হা হা… সেই জ্যাকেট কি আর আছে! না এতদিন পর ফিট হবে!’
‘তুমি প্রথম দেখার জ্যাকেটটা নষ্ট করে ফেললে! খুব বাজে। যাই হোক আমি কিন্তু শাড়ি পরেই যাব’
‘আচ্ছা তুই রেডি হ… আমি ওলা-উবের কিছু একটা বুক করি’

এর কিছুক্ষণ পর, হৃতিতা আর ঋতম পৌঁছে যায় নন্দন চত্বরে… ঠিক সাড়ে পাঁচটায়। ডিসেম্বরের বিকেল… অন্ধকার হয়ে আসছে দ্রুত। ঋতম নন্দন চত্বর পেরিয়ে অ্যাকাডেমির পাশের রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ায়। প্রথম দিন এই ফুটপাথটা দিয়ে অনেকটা পথ একসঙ্গে হেঁটেছিল। হৃতিতা বলে, ‘সামনে দেখো – দূরে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হাঁটছে… ছেলেটা নীল ডেনিম জ্যাকেট… আর মেয়েটা মেরুন শাড়িতে…’ ঋতম ফুটপাথের দিকে তাকায়…সোজা ফুটপাথটা অনেকটা দূর অব্দি চোখে পড়ে… গাছগাছালি-আলো আঁধারিতে সে দূর অব্দি কোন ছেলেমেয়েকে দেখতে পায় না… তার চোখে পড়ে একটা মেয়ে আবছায়ায় গাছ তলায় হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে – একা! ঘুরে হৃতিতার দিকে তাকায় – পাশে হৃতিতা নেই; শুধু সম্বিত ফিরে পেলে নিজেকে আবিষ্কার করে সে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাকাডেমির পাশের ফুটপাথে – একা এক্কেবারে একা!


লেখকের কথা: ইচ্ছেমৃত্যু
জন্ম বর্ধমানের বর্ধিষ্ণু গ্রামে। পেশায় নরম তারের কারিগর আর নেশায় – রীতিমত নেশাড়ু, কী যে নেই তাতে – টুকটাক পড়াশোনা, ইচ্ছে হলে লেখা – সে কবিতা, গল্প, রম্যরচনা, নিবন্ধ যা কিছু হতে পারে, ছবি তোলা, বাগান করা এবং ইত্যাদি। তবে সব পরিচয় এসে শেষ হয় সৃষ্টিতে – পাঠক যেভাবে চিনবেন চিনে নেবেন।

4 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

রুচিশীল ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনার জন্য ক্লিক করুন এখানে

sobbanglay forum