লেখক : অর্দ্ধেন্দু গায়েন
গভীর রাতের সমুদ্রের মত তুমি কখনও উত্তাল।
আবার কখনও ভোরের নদী, খেলতে থাক
দিগন্তে মিলিয়ে যাওয়া নীল-সাদা মেঘের আড়ালে।
আমি শুধু আমার মাঝে হারিয়ে গেছি বারবার।
তোমার পায়ের শব্দে কতবার ঘুম ভেঙেছে।
বিকেলের পড়ন্ত আলোয় অনেক ভিজেছি আমরা।
তবু ছুঁয়েও দেখিনি একবারও।
সুখ কুড়িয়েছি তোমায় চোখের দেখা দেখে।
তুমি তো কিনারাহীন আগুনের নদী।
তীব্র গভীর উল্লাসে ছুটেছ এপার হতে ওপার।
ক্লান্তি তখনও ছুঁতেও পারেনি তোমায়।
ছায়াপথ পেরিয়ে আবারও মুখোমুখি আমরা।
কয়েকটি আলোকবর্ষ পেরিয়ে গিয়েও,
আমরা ফিরেছি ছায়াশীতল বিরাট অশ্বত্থের নিচে।
শুধু চেয়ে রয়েছ আগের মত করে।
এত কথারা কেমন করে হারিয়ে যেতে পারে?
আমরা দু’জনে কেঁদেছি কেবল দূরত্বের যন্ত্রণায়।
ইচ্ছে করে বসেই থাকি তোমার পাশে আমি।
এখন পৃথিবীর প্রায় সব লোক
আত্মহত্যার উৎসবে মুখর। তোমার কণ্ঠস্বর না পেলে,
একদিন মনে হত সমস্ত পৃথিবীটা বড় বেশি নিঃসঙ্গ।
তোমার অস্পষ্ট পদধ্বনি চাঁদহীন আকাশের নিচে।
আমিও বোধহয় হাঁটছিলাম সেই পথে—
ফুটপাতে দেখি হঠাৎ চমকে, এ কী দীপা তুমি!
লেখক পরিচিতি : অর্দ্ধেন্দু গায়েন
জন্ম উত্তর চব্বিশ পরগনার যোগেশগঞ্জের মাধবকাটী গ্রামে।পেশায় সরকারী চাকুরী হলেও নেশা পড়াশোনা , ইচ্ছে হলেই লেখা-সে কবিতা, ছোটগল্প, অণুগল্প, প্রবন্ধ যা কিছু হতে পারে, অবসরে বাগান করা,ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা ইত্যাদি।তবে সব পরিচয়ের সমাপ্তি ঘটে সৃষ্টিতে --পাঠক যেভাবে চিনবেন আমি সেভাবেই থেকে যাবো।

