দুটি কবিতা (যত বলি ও প্রত্নতাত্ত্বিক মন)
লেখক : প্রভঞ্জন ঘোষ
যত বলি
যত বলি আয়
হাত নেড়ে নটবর
বলে ওঠে- হায়।
যত বলি নে
অনুপম্ বলে ওঠে
নীচে ফেলে দে।
যত বলি দ্যাখ
ডাঁয়ে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়ে
তিন-দুই-এক।
যত বলি ধর
অপলক চেয়ে থাকে
দাঁড়িয়ে দোসর।
যত …
যত বলি আয়
হাত নেড়ে নটবর
বলে ওঠে- হায়।
যত বলি নে
অনুপম্ বলে ওঠে
নীচে ফেলে দে।
যত বলি দ্যাখ
ডাঁয়ে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়ে
তিন-দুই-এক।
যত বলি ধর
অপলক চেয়ে থাকে
দাঁড়িয়ে দোসর।
যত …
আজ পৃথিবীটা উত্তাল, সাগরের ভয়ঙ্কর টেউয়ের মত,
যোদ্ধ ছাড়াই বিশ্ববাসী ঘরে বন্দী,
কারনটা কি?
কারন একটাই
করোনা নামক মরণ ভাইরাসের জন্য।
তার সুবাদে,
বিশ্বে চলছে লকডাউন
বাংলাদেশ এর বিকল্প নহে।
এমতাবস্থায়,
বিশ্বের অর্থনীতিতে দেখা
এখনি যেও না চলে
একটু দাঁড়াও হে রমনী,
ভালোবেসে হাতে দেব তুলে
এক গুচ্ছ কামিনী।
এখনি যেও না ফেলে
নামবে হৃদয়ে যামিনী,
মাত্র সবে তো এলে
প্রিয়া অমার সজনী।
তুমি পাশে আছো বলে
মুখরিত লাগে এই …
সবকিছুকে বাদ দিয়ে
হাঁটিয়ে, ঝেড়ে
দূরে হটাও,
ঠেল্ দিয়ে আর চাপ্ দিয়ে।
সরিয়ে ঘাটের পানাগুলো
তলতা বাঁশের ঘের দিয়ে
শক্ত দড়ির গিঁট্ দিয়ে
সূর্যেরে রোজ ফুটিয়ে তোল
সূর্যমুখীর ছোপ্ দিয়ে।
হর্ষে খেলুক শালিক-ঘুঘু
সরাও চাঙড় …
দস্তানা খুলে রেখে বিতণ্ডা
ঢাউস এক জলাশয়ের কাছে
নাকচ হয়ে যাওয়া এক আশ্রয়ে
জল দেয় হাতে পতঙ্গ মিত্রতা
স্তব্ধতার খোলা পরিচয়ে
পরিশুদ্ধ এই সব অবলোকন
যদি না জনান্তিকে এক উন্নয়ন
পবিত্র অপবিত্র আধেক জোছনায়
রাতের শেষ …
চারিদিকে দুঃখের ছড়াছড়ি
বিষাদ করিয়াছে ভর
মানুষ সব লয়ে আছে ঘর,
কেহ আপন কে করিয়াছে পর।
ভয়তে করিয়া ভর
পুত্র করিয়াছে পর জননী,
অরণ্যে ফেলিয়া তাহারে
ঘরেতে কাটাইছে রজনী।
অবাধ এ মিছিলের তরে
কফিনে কফিনে প্রান্তর …
এই লেখা বুকের গাঢ় ভাঁজ থেকে আসে
আমি লিখি হিবিজিবি কত কি!
তোমার মেধার রুগ্নতা,তা বুঝবে না
কোনদিন,
ব্যাঙের ছাতার মত তুমি ও খুঁজবে
মাথা গোঁজার ঠাঁই
এভাবে কতদিন চলবে যে যার মত?
তুমি …
রক্তধারা বয়ে যায়
অশেষ রক্তবীজ
নিক্কন্ ধ্বনি গুঞ্জায়,
স্বর্গীয় সুরতান।
সম্পূর্ণ দু’খানা হাত
হাতকে বয়ে নিয়ে স্কন্ধ
স্কন্ধকে বয়ে নিয়ে বক্ষ
বক্ষকে উদর
উদরকে কোমর
কোমরকে চরণ
আদ্যপান্ত একটি শরীর
শরীরে চর্মের সম্ভার,
চর্মাচর্মবৃত জনৈক মানব…
হয়ত কয়েক দশক পর
এ শতাব্দী আধবুড়ো হলে,
একদিন মিশে যাব
মাটির গভীরে, অনন্ত জলে।
মিলিয়ে যাওয়ার আগে
শেষ অস্থি চিহ্নখানি হয়ত দেখবে চেয়ে
তখনও নিদারুণ ক্ষোভে,
ফুঁসছে জন্মভুমি বন্দিনী হয়ে।
ভুখা পেটে চিরজাগ্রত চিতা,
ছিন্ন …
স্বীকারোক্তি প্রদানে
জলের কাছে সম্প্রদানে
মেঘ করে সারাবেলা
বিকল্প অধিপতি
বিষণ্ণ দেবারতি
এক শব্দ না বলা
ক্ষণিক বহতা নদ
অস্ফুট ছায়াপথ
আবছা স্খলনে পাপ
পুণ্য ততোধিক নয়
তবু তো সঞ্চয়
থিতু হোক পরিতাপ
সামান্য হলেও অবশেষে…
শরীরের গাঢ় ভাঁজ থেকে আসে, প্রেমের ছন্দ
আমি শুধু বসে বসে সাজিয়ে দিই, কবিতা
ঝাঁকে ঝাঁকে আসে, স্মৃতির পাড়ের পাখি
টনক নড়ে, মাথা হতে পা অবদি বিচ্ছেদের।
সবুজ লোকালয়, ছুঁয়েছে পাহাড়, মেঘময়
আমি ছুঁতে …
তুমি ঘুমিয়ে আছো সবুজ ঘাসে,
আমি জেগে আছি ধূসর পাথরে।
তুমি কি জানো না
ঘাসেরা কীভাবে হলুদ হয়ে ওঠে,
আরও সূচালো হয় ধূসর পাথর ?
লেখক পরিচিতি : মিজানুর রহমান
মিজানুর রহমান, গ্রাম দেবপুর, থানা বেলডাঙ্গা, …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
