দম-পথ্য
লেখক : অঞ্জনা চক্রবর্তী
‘সকাল থেকে দম ফেলার সময় নেই।’
তেলচিটে কাপড়ে ঘাম মুছতে মুছতে কর্কশ গলায় বলেন শিখাদেবী। ‘তার উপর একশোবার চা — এর এটা দাও রে, ওর ওটা চাই …ফিরিস্তি দিতে দিতেই গোটা জীবন গেল…’
সমরেশ চশমার ফাঁক …
‘সকাল থেকে দম ফেলার সময় নেই।’
তেলচিটে কাপড়ে ঘাম মুছতে মুছতে কর্কশ গলায় বলেন শিখাদেবী। ‘তার উপর একশোবার চা — এর এটা দাও রে, ওর ওটা চাই …ফিরিস্তি দিতে দিতেই গোটা জীবন গেল…’
সমরেশ চশমার ফাঁক …
গ্রামীন বাংলার সৌন্দর্য যে সুমধুর-
কুয়াশাচ্ছন্ন থেকে ফুটে নিমিষেই রোদ্দুর।
উড়ে যায় পাখিদের ঝাঁক –
শুনতে ভালো লাগে,সেই কিচিরমিচি ডাক।
শিশির ভেজা সকাল –
কি সুন্দর!সেই রৌদ্রজ্জ্বল পড়ন্ত বিকেল।
চারিদিকে শুধু গাছ-পালা আর নদী –…
অজানাপুর পশ্চিমবঙ্গের এক ছোট তবে বেশ প্রাণোচ্ছল গঞ্জ । ছোট হলেও ক্ষুদ্রবৎ ভারতবর্ষের বৈসাদৃশ্য এখানে খুব প্রকাশমান। এর উচ্ছল শ্যামলিমা ধীরে ধীরে পরিবেশ দূষণের প্রকোপে পড়ে বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘ বটের ছায়ায়, রাস্তায়, খোলা বাজারে, পাকা বাড়িতে, …
পকেটে হাত ঢুকিয়ে কামসূত্রের প্যাকেটটার কলার চেপে ধরে কোনমতে ওটাকে টেনে হিঁচড়ে বার করল উদ্দালক। প্রাণপণ দলামোচা করে সেটাকে যতদূর ছুঁড়ে ফেলা যায়, ফেলে দিল আদিগঙ্গার জলে। একটানা কিছুক্ষণ অপলক চেয়ে রইল এককালের ওই একটা অপরিহার্য …
চলছে গুলি, উড়ছে ধোঁয়া, ক্ষমতার এই মিথ্যে শোষণ;
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শেষে, ক্লান্ত সবাই এখন ভীষণ।
ঝান্ডা ধ’রে মোড়ের মাথায়, উঠছে কথা কথার ফাঁকে;
কোরান, গীতা এক হয়ে যাক বিভেদ ভুলে বইয়ের তাকে।
রহিম-রামের দ্বন্দ্ব আজও, …
“হরিণখুড়ি ধানের গন্ধ পাও ঠাকুমা?”
শোভাদেবী বড় করে নিশ্বাস নিয়ে বললেন, “না। কই? আর সে ধানের গন্ধ তোকে বলে দিতে হবে না। ঘরে থাকলে আপনিই টের পাব।”
বাপ্পাই ওরফে ডঃ সায়ক মিত্র শোভাদেবীর চোখের সামনে মেলে …
সবুজে সবুজ ‘স্নেহনীড়’এ পা রেখেই আপ্লুত হয়ে গেলেন বাসন্তী রুদ্র। তাঁর নজর কাড়লো রঙ-বিরঙ্গী ফুলে ভরা বাগানটা। শীতের রোদ পোয়াতে সেখানে জমায়েত আশ্রমের আবাসিকবৃন্দ। পার্কের সীমানা ঘেরা ঝাঁপালো বৃক্ষরাজির ফাঁকে-ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে দুধসাদা একতলা কটেজের সারি।…
দ্বারটি সবসময় বন্ধ থাকত বোসবাড়ির। তিনতলা বাড়ি, লাল রঙের। জানলা দরজা সব সবুজ রঙের। তাতে বাড়িটার আকর্ষণ যেন আরও বেড়েছে। লোহার মোটা মোটা গরাদ। কোনও দুর্গের প্রবেশপথের মতো দু’পাশে মোটা দেওয়াল, একটু উঁচুতে জানলা। দোতলায় ওঠার …
এক জন্মে কত সম্পর্কের কবর
খোঁড়ে মানুষ, বুকের ভেতরে ?
এক জন্মে কতবার নিজেকে ভেঙে
গড়ে মানু্ষ, ভালোবাসা পেতে ?
এক জন্মে কতবার নতুন জন্ম
নেয় মানুষ, বাঁচার তাগিদে ?
হিসেব রাখে কে ? হিসেব রাখে …
(এক)
বাইরে একটানা হিম ঝরছে। রাস্তা ড্রেন ছাদ গাছ সবাই বরফের শ্বেত শুভ্র সাজে সেজেছে ও মেতে উঠেছে। সেই রাগে সূর্য ও দেখা দেয়নি কয়েক দিন। তার উত্তাপ হীন জীবনের সাথে টেনসির সাম্প্রতিক আবহাওয়ার অদ্ভুত মিল …
শহরের বাইরে, পাহাড়ের গা ঘেঁষে একটি ছোট্ট গ্রাম ছিল। গ্রামের নাম ছিল ভাষা — একটি শান্ত, নির্জন গ্রাম, যেখানে আকাশে মেঘেরা মিষ্টি কথা বলত, আর নদী তার সঙ্গীত বাজাতো। কিন্তু এই শান্তির মাঝেও এক …
পথ চলতে চলতে একদিন শেষ হয় সাময়িক পথ চলা, কিন্তু যেখানে শেষ হয় সেখান থেকে শুরু হয় নতুন করে চলা, আবার নুতন রাস্তা,নুতন নুতন মানুষ, এ এক অদ্ভুত চলার নেশা, কত রকম মানুষ, কত রকম অভিজ্ঞতা জমা হয় ঝুলিতে, তাদের মধ্যেই কেউ কেউ মনে দাগ কেটে যায়। আমার মধ্যে নিজস্বতা বলে কিছু নেই, যা আছে তা এই রাস্তায় চলতে চলতে মানুষের কাছে পাওয়া, প্রকৃতির কাছে পাওয়া।গত কালকেই মুরি তে এসেছি, সন্ধার পর পৌছে কিছুই বুঝতে পারিনি। গেস্টহাউস এর চারদিকে সবুজের সমারোহ, সকালে উঠে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছি, নঈম বলল স্যার গাড়ি ডেকে দিচ্ছি, আমিই বললাম না থাক হেঁটেই যাব।সূবর্ণরেখা নদীর ধার দিয়ে পাকা রাস্তা, এপাশে মুরি ওপাশে তুলিন, পশ্চিমবাংলা আর ঝাড়খণ্ডের সীমানা।
এখন আগস্ট মাস, মাঝে মাঝেই বৃষ্টি হচ্ছে, সুবর্ণরেখা কানায় কানায় পূর্ণ। হিন্ডালকো কারখানা এবং কলোনি কে ইউ আকৃতিতে বেষ্টন করে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা। শুনেছি একসময় সুবর্ণরেখার বালি থেকে সোনা পাওয়া যেত। রাস্তা থেকে একটু নামলেই নদীর ঘাট, ওপাশে একটা মন্দির আর নদীর তীরে শ্মশান। বড় বড় পাথর জলের উপর পর্যন্ত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এ নদী যে আমার অনেক দিনের চেনা, জামশেদপুরএ দোমোহানিতে সুবর্ণরেখা আর করকাই একসাথে মিলে সুবর্ণরেখা এগিয়ে গেছে, আবার ঘাটশিলার কাছে ঘালুডি তে অতি মনোরম সুবর্ণরেখা।নদীর ধার পর্যন্ত নেমে যাই, জলে হাত দিয়ে ফিরে আসি।ছটায় অফিস থেকে ফেরার সময় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখি বয়ে যাওয়া জলের দিকে, পাখিরা ফিরে যাচ্ছে যে যার আপন ঘরে। ওরা জানে না মাটির বিভাজন। ওই দূরে বানসা পাহাড়ের ওপাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে জলের উপর হামাগুড়ি দিয়ে সন্ধ্যা নামছে। এ ভাবেই শেষ হয় দিন, মাস ও বছর।
হঠাৎ মহামারী গ্রাস করে পৃথিবীকে, কোভিড এর ভয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ বিভ্রান্ত, মানুষ যে কত অসহায় তখন বুজলাম। সারা পৃথিবী যেন হঠাৎ থমকে গেল। প্রকৃতির কাছে বিজ্ঞান কত অসহায়।
বয়ে যায় সুবর্ণরেখার ধারা একই ছন্দে, মানুষ ছাড়া এই গ্রহের সবকিছু স্বাভাবিক। মানুষেরই সবসময় কিছু হারানোর ভয়।আমি মাঝে মাঝেই গিয়ে বসি জলের ধারে, এখন বুজলাম মৌনতার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি সরব থাকে আমাদের অন্তরতা। ওপারে আজও শশ্বানে জ্বলছে চিতা, স্বচ্ছ জলের মধ্যে আকাশের জলছবি, পাখিরা ফিরে গেছে যে যার আপন ঘরে।হঠাৎ মোহভঙ্গ হয়, পিছন থেকে কেউ যেন বলে একটা বিড়ি দিবি। আমি পিছন ফিরে দেখি একজন লোক, মুখে খোঁচা দাড়ি, খালি গায়ে কংকালসার শরীর, মাথায় রুখু চুল। আমি প্রথমে হতবম্ব, তারপর ওর দিকে সিগারেট এর প্যাকেট বাড়িয়ে দিলাম, …
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
