লেখক : সানজিদা নওরীন ঝিনুক
রৌদ্রের নিচে হেঁটে যাচ্ছি, বেলা মধ্যাহ্ন।
পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে ঢাবির তিনটি লাল বাস চলে গেল!
আমার বাস অবশ্য তরঙ্গ, গন্তব্য সেদিকেই।
কিছুক্ষণ পূর্বে বৃষ্টি হয়েছে, ক্লাসে থাকায় তীব্রতা বুঝিনি,
ছাইরঙা আকাশটা কেমন পরিষ্কার, সাদা সাদা মেঘের ভেলা ভেসে চলেছে।
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল,
মন্দ নয় কিন্তু! আমারও ইচ্ছে করছে…
রৌদ্রের নিচে হেঁটে যেতে কষ্ট হলেও আনন্দ লাগছে।
মুনীর চৌধুরী সড়কে অসংখ্য বাগানবিলাস,
দেখলেই মন বেশ ভাল হয়ে যায়।
কফির স্বাদটা ঠিক মনমত হয়নি।
আজকাল কফির স্বাদ নিয়ে বেশ সচেতন আমি,
হয়ত জীবন নিয়েও হব,
ঠিক কখন হব তা বলা মুশকিল!
সময় দ্রুততার সাথে গড়িয়ে যাচ্ছে,
এক-একটি দিন মনে হচ্ছে এক একটি বিপদসীমা অতিক্রমের সংকেত!
আমি অবশ্য ঠিক করেছি কর্টিসালের মাত্রা বাড়তে দেব না, কে জানে কতদূর পারব!
অমলকান্তি বাগানবিলাস হতে চাইলে মন্দ হত না,
মানুষের মাথার ঠিক একটু উপর থেকে সব অনুভব করতে পারত,
প্রেমিকের হাত ধরে পৌঁছতে পারত প্রেমিকার কাছে,
শহরে বেশিরভাগ সময় জাগ্রত থাকতে পারত।
দূরে তরঙ্গ দেখলাম, গন্তব্য এখন পিতার গৃহ,
কর্টিসালের পারদ নামল কি নামল না, সেই হিসাব তোলা থাক।
এই শহরের ইঁট-কাঠের ভিড়ে একটু সতেজ বাগানবিলাস আর খানিকটা রোদের ছোঁয়া পাওয়া গেছে, আজ দুপুরের জন্য এতটুকু স্বস্তিই যথেষ্ট।
লেখক পরিচিতি : সানজিদা নওরীন ঝিনুক
ক্ষুদ্র লেখিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

