হামরাও রাজা বঠি (আঞ্চলিক কবিতা)

লেখক : সৌরভ মাহাতো

তখন থেকে বলছি, তুই নাই শুনা পাছিস ন-কি রে! ফোনটা ইবার রাখবি নাকি কাচড়াই ভাঙে দিবো। দশ-দশ বারো হাজার টাকার ফোন লিবেক আর কাজের বেলাই ফাঁকি। বলেছিলি ন বরটাঁড়ে জাঞে এক হাল কাড়া ছেইলা কিনে দিব চল আর কিছু মেশাই ,সেদগে নাই খালি ওই এন্ড্রয়েড চাই Vivo, Oppo, ন Redmi. আর এখনো ফোনটাই টিপতে থাকবি সারাদিন ন ক্ষেত দিকেও যাবি?। বলছি ওই ফোনটাই কি তোর পেট ভরাবেক? এই বলতে বলতে বাপ চলে গেল ঘোহাইল ঘর দিকে কাড়াগুলা খুইলতে লাগে। আমরও তখন মোবাইলের মায়া কাটে গেইলছে। হামিও বুঝতে পারলি বাপে ঠিকেই বলছে। যদি ধান না হয় তাহলে সারা বছর পেটে গামছা বাঁইধে ভখেই ঘুমাতে হবেক। ইয়ার লে বাবা একটুকু যদি ক্ষেত দিকে জাঞে ধানে ওষৌধ দিই তাহলে ই-বছরের মতন বাঁচা যাবেক। বাপে কালকেই পুরুইলার লে ওষুধ আনে দিয়েছে আরো নকি ভখা খুড়াকেও বলে রাখেছে ওই স্প্রে করার মেশিন টা দিয়ার লাগে। তাইলে আর দেরি করাটাও ঠিক হবেক নাই যাই ভখা খুড়ার ঘরকেই যাই আর মিশিনটা নিয়ে ধানগুলাই ওষুধ দিঁয়ে দিবো টুকু।

-ভখা খুড়া আছো নকি ব ঘরে?  

-হঁ ব ঘরেই আছি। এইতো বাপ বাইসাম খাঁয়ে উঠলি। ইবার বলি খৈইনিটাই বানাবো তো তুমার রা পালি। লাও লাও টুকু খৈইনিটাই বানাও। 


: প্রতিটি লেখক ও পাঠকের নিকট আবেদন :

যেকোনও পত্রিকা বা ওয়েবজিনকে বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম উপায় তার প্রচার এবং প্রসার। 

তাই শুধু লেখা পাঠিয়ে বা পড়ে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলবেন না, লেখাগুলি বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে ও বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করে আমাদেরকে সাহায্য করুন।


-আমি যে খৈইনি নাই খাই বাপ। চল তবে দোকান দিকেই দু-টাকার পাত খৈনি কিনে দিবো। 

-নাই ব নাই, অত লাগবেক নাই, দেখি তুমার খুড়িকেই খুজেঁ দেখি খুঁটটাই যদি বাঁধা আছে। 

-হ তাই দেখো, তবে বলছিলি যে হামার বাপে তো মনে হয় বলেইছে তুমাকে টুকু মিশিনটা লিথি। বঁখি লাগে গেলছে ব সেই জন্যেই আরকি। 

-আচ্ছা বাবাধন তুমি! তুমাকে আর লারলি। ইটাও কি আর বলার জিনিস বঠে তুমার খুড়িকে বলে লেগলেই ত হৈথ্। হঁ ত যাও যাও তবে আর দেরি করো না আর। এই শালা পোকার গুষ্টির তিন খেদেছি; অল্প দয়া মায়া নাই ব! কত কষ্টই যে ধান লাগাঁইছি ইয়ারা কি বুঝবেক। হামিও কাইলকে ওই মরগাতলের আর পুয়াইনের খেতটাই ওষৌধ ছিটে আলি। তবে মনে হয় আর দু-তিন দিনের মাথায় টুকু পাতাগিলা টনকিবেক। তবে শুনে লে ব সৌরভ খুড়া যদি ই-বছর বঁখি লাগার থেকে ধানগুলা বাঁচে যাই তবে তো মাইরি গাইদে ধান হবেক। ইয়ার লে আর খুশির খবর কি হতে পারে। শালা ধান নাই ধান নাই করেই লকগিলা আধমরা হয়ে গেইলছিল তবে লে ইবার যদি একটুকু যত্ন করে দিস তবেই রাজাই বঠি হামরা। 


লেখক পরিচিতি : সৌরভ মাহাতো
জন্ম ১৯৯৯ সালের ১লা জুন পুরুলিয়া জেলার শেষ প্রান্তভূমির 'লালবাজার' গ্রামে। পিতা শ্রীযুক্ত সুধীর মাহাতো, মাতা শ্রীমতী গায়ত্রী মাহাতো। শিক্ষাজীবন জওহর নবোদয় বিদ্যালয় পুরুলিয়া থেকে মাধ্যমিক ও জওহর নবোদয় বিদ্যালয় দুর্গাপুর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বর্তমানে রাঁচি ইউনিভার্সিটির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চা, খেলাধুলা, গাছ লাগানোর একটা চরম নেশা আছে। এবং সময় পেলেই সমাজ সেবার কাজেও যুক্ত হয়ে যাই। ইতিমধ্যে বহু পত্রিকায় লেখা ছাপানো হয়েছে এবং লেখালেখি মাধ্যমে চরম সুখের অনুভূতি হয়।

শেয়ার করে বন্ধুদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

বিভিন্ন লেখকের কবিতা গল্প পাঠ শুনতে এখানে ক্লিক করুন

লেখালিখি লোগো

আপনি কি আমাদের সাইটে লিখতে ইচ্ছুক?

তাহলে এখানে ক্লিক করে লেখা জমা দিন।