লেখক : অভিজিৎ হালদার
চেতনার রিংটোন বেজে ওঠে প্রাগৈতিহাসিক কোন গুহায়,
মস্তিষ্কের ল্যাবরেটরিতে কঙ্কালগুলো ঝোলায় মৃত্যুর নকশা।
আমরা সবাই একেকটি জীবন্ত লাশ, হাঁটি ছায়ার পিছে পিছে,
অস্তিত্বের শিকড় গিলে খেয়েছে নিখিল শূন্যতার প্রাগৈতিহাসিক মিছিলে।
রক্তের শিরায় শিরায় বয়ে চলে বিষাক্ত পলিমাটির দ্রোহ,
মানুষ নিজেই নিজের নিয়তি, নিজেই নিজের চরমদ্রোহ।
মহাবিশ্বের এই অনন্ত কুঠুরিতে বসে আছি খণ্ডিত আয়নায়,
যেখানে প্রতিবিম্বও আজ চিনে নিতে চায় না নিজের অবয়ব।
সভ্যতার পালিশ খসে পড়ে উন্মোচিত হয় চামড়ার নিচে জমে থাকা ঘুণ,
প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে ঝরে পড়ে বিশ্বাসের এক একটি মৃত ভ্রূণ।
কাউকে ভালবেসে বাঁচবার স্পৃহা এক পচা গলা বিকার,
এখানে নিঃসঙ্গতা ছাড়া কারও সাথে নেই কোন দীর্ঘস্থায়ী কারবার।
দর্শনশাস্ত্রের পাতা উল্টে দেখি কেবলই শূন্যতার মহা-ইস্তেহার,
কোথায় ঈশ্বর? কোথায় সান্ত্বনা? কোথায় মুক্তির অধিকার?
মানুষ কেবল লোভের আটা দিয়ে গড়ে তোলে মিথ্যে ইমারত,
তার পর নিজের হাতেই সেই মণ্ডপে চালায় বিধ্বংসী বজ্রপাত।
চোখের তারায় জমে ওঠে হিমশীতল মহাসমুদ্রের অতল গভীরতা,
যেখানে নিয়তি নিজে এসে সই করে যায় নির্বাক নীরবতা।
শহরের রাজপথে হেঁটে যায় অন্ধকারের একেকটি জল্লাদ বাহিনী,
তারা জানে না কে আপন, কে পর, কার বুকে কার রক্তকাহিনী।
টাকার থলে আর ক্ষমতার মসনদ দিয়ে মাপা হয় মানুষের প্রাণ,
নৈতিকতার লাশ কাঁধে নিয়ে বয়ে চলে এই আধুনিক শ্মশান।
প্রেম মানে এখানে স্বার্থের চুক্তি, বিচ্ছেদ মানে হিসাবের খাতা,
কান্নাগুলো সব কৃত্রিম মুদ্রায় কেনাবেচা করা পণ্য বা পাতা।
আমি দেখেছি গভীর রাতে নিজের বুকের ভেতর ভাঙতে পাঁজর,
যেখানে কোন ডাক্তার নেই, নেই কোন ওষুধপত্র বা সান্ত্বনার ঘর।
আত্মার কপাট খুলে দেখি ভেতরে জমে আছে নিকষ কালো ধোঁয়া,
সেখানে কান্নার কোন শব্দ নেই, আছে কেবল হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া।
মহাকালের বিশাল থাবায় গুঁড়ো হয়ে যায় সমস্ত অহংকার,
মানুষ কেবল ভুলের সাগরে ডুবতে থাকা এক অসহায় অধিকার।
এই পৃথিবী কোন ফুলবাগান নয়, এ’টি এক নিষ্ঠুর কসাইখানা,
যেখানে জন্ম হওয়াই সবচেয়ে বড় পাপ আর অপরাধের ছলনা।
মৃত্যু এসে কড়া নাড়লে সবাই তখন চেনে জীবনের আসল মানে,
তার আগে পর্যন্ত মত্ত থাকে মিথ্যে মায়াবী রঙিন উল্লাসে ও গানে।
আমার কলম আজ রক্তে চুবিয়ে লিখছে এই শেষ সংলাপ,
বাস্তবতার চেয়ে বড় কোন অভিশাপ নেই, নেই কোন পাপালাপ।
সব আলো নিভে গেলে জেগে ওঠে চেতনার নির্মম এক সত্য,
যেখানে আমি, তুমি আর মহাকাল—সবাই সমানভাবে পতনোন্মুখ ও রিক্ত।।
লেখক পরিচিতি : অভিজিৎ হালদার
লেখক পরিচিতি:- লেখক অভিজিৎ হালদার এর জন্ম নদীয়া জেলার অন্তর্গত মোবারকপুর গ্রামে ২০০১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর। পিতা কার্ত্তিক হালদার ও মাতা আরতি হালদার। প্রাথমিক শিক্ষা মোবারকপুর প্রাইমারী বিদ্যালয় , মাধ্যমিক শিক্ষা ভাজনঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় , সুধীরঞ্জন লাহিড়ী মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং বর্তমানে আই টি আই এর ছাত্র। লেখালেখির সূএপাত: স্কুল জীবন থেকে। লেখালেখি:- বিভিন্ন – পএ পত্রিকা, ম্যাগাজিন , ওয়েবজিন, ফেসবুক পেজ/ ফেসবুক গ্রুপ , ব্লগসাইট , ওয়েবসাইট , অনলাইন প্লাটফর্ম , এছাড়া বিভিন্ন ফোরামে। প্রথম বই: "প্রথম আলো " পেশা ও পরিচয়: তরুণ কবি, গল্পকার, উপন্যাসিক, গীতিকার, লেখক ও অন্যান্য। সাহিত্যিক ধারা: আধুনিক ও উত্তর-আধুনিক কবিতা, প্রেম ও বিরহ, অস্তিত্ববাদী ভাবনা, গ্রামীণ ও শহুরে জীবনচিত্র , বাস্তববাদী, দার্শনিক চিন্তাধারা, কল্পনাবিলাসী , রূপকথা , বাস্তব পেক্ষাপট ও সমসাময়িক। বিশেষ উক্তি: "এই শহরকে ভালো না বেসে যদি আমি চাঁদের মাটিকে ভালো বাসতাম তবে আমি নীল ডায়েরি না হয়ে নীল আর্মস্ট্রং হতাম।"

