লেখক : আজাহার রাজা
প্ল্যাটফর্ম সময়ের সমান্তরাল শিরায় স্থাপিত
আগমন-প্রস্থানের অনির্ণেয় অন্তর্বর্তী ভূগোল;
প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত, বিদায় চূড়ান্ত নয়,
অপেক্ষা, নিজের পরবর্তী মুহূর্তটির দিকে
মানুষের অবিরাম নতজানু দৃষ্টি।
বগির জানালায় জমে থাকা মুখগুলো অর্ধলিখিত আত্মজীবনী,
যাদের গন্তব্য জানা, ফিরে আসার ইতিহাস অজ্ঞাত।
ট্রেন থামলে কেউ ফিরে পায় আলিঙ্গন,
কেউ হারায় সম্বোধনের শেষ অধিকার।
লাল সংকেত জ্বলে অপেক্ষার রক্তিম ব্যাকরণ
সবুজ আলো প্রস্থানের অনুমোদন
মানুষ ভাবে সিদ্ধান্ত নিজের,
সিদ্ধান্ত সংকেতের রঙ অনুসরণ করে অন্ধকারের দিকে চলে যায়।
রেললাইন দু’টি পাশাপাশি সমান্তরাল অস্তিত্বের প্রাচীনতম উপমা
শত মাইল পাশাপাশি নেই কোন আলিঙ্গন
মানুষের কত সম্পর্ক এই লৌহদ্বৈততার চেয়েও নির্মম।
হুইসেল আগমনের সংবাদ, বিচ্ছেদের শঙ্খধ্বনি, স্মৃতির পুনরুত্থান
শব্দ একই থাকে, শ্রোতার জীবন বদলে যায়।
রাত গভীর হলে প্ল্যাটফর্মের আলোয় ছায়াগুলো দীর্ঘতর হয়
দেহ ক্ষুদ্র, ছায়া বিশাল, অস্তিত্বের প্রকৃত পরিমাপ শরীর নয়,
বহন করে অনুপস্থিতির ভার।
লোহা ও কংক্রিটের স্থাপত্য অসমাপ্ত জীবনের ক্ষণস্থায়ী উপকূল
প্রত্যেক আগমন সম্ভাব্য বিদায়ের পূর্বকথা,
প্রত্যেক বিদায় অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তনের মিথ।
শেষ ট্রেন চলে গেলে রেললাইনের ওপর কেবল বাতাস থাকে
সিগন্যালের আলো দূর অন্ধকারে ক্ষীণ হয়ে আসে
প্ল্যাটফর্ম নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকে প্রত্যেকের অপেক্ষায়।
নির্দিষ্ট গন্তব্যের ভ্রমে টিকিট কেটে বসে থাকে মানুষ,
স্টেশনে নামিয়ে দেবে সময়, কোন মুখটি শেষবার জানালায় ভেসে উঠবে,
বিদায়ের পর ফিরে আসার সমস্ত রেলপথ চিরতরে অদৃশ্য।
লেখক পরিচিতি : আজাহার রাজা
আজাহার রাজা—জন্ম ১৯৮৪ সালে পঞ্চগড়, বাংলাদেশে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পঞ্চগড়ের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে। পেশায় লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। কবিতা, প্রবন্ধ, সাহিত্য-গবেষণা ও সৃজনশীল লেখালেখির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত। তাঁর লেখায় মানবতা, জীবনদর্শন, প্রকৃতি, সমাজ ও সংস্কৃতির অন্তর্লীন প্রশ্ন প্রতিফলিত হয় এবং মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সৌন্দর্য তাঁর সৃষ্টির অন্যতম অনুষঙ্গ।

