অবুঝ অতলে
লেখক : অর্পিতা পাল সাহা
আসলে কি বল তো কক্ষনও বুঝিসনি তুই,
যার নামে একদিন ভোরবেলায় মুঠো ভর্তি করে শিশির কুড়িয়েছিলিস,
তোর ব্যথার পাশে তো শুধু তাকেই লাগবে।
বৃষ্টির দিনে দক্ষিণের জানলা খুলে যার জন্য স্নিগ্ধ হয়েছিলিস,
দুপুরের মনখারাপে তো …
আসলে কি বল তো কক্ষনও বুঝিসনি তুই,
যার নামে একদিন ভোরবেলায় মুঠো ভর্তি করে শিশির কুড়িয়েছিলিস,
তোর ব্যথার পাশে তো শুধু তাকেই লাগবে।
বৃষ্টির দিনে দক্ষিণের জানলা খুলে যার জন্য স্নিগ্ধ হয়েছিলিস,
দুপুরের মনখারাপে তো …
মাঝে মাঝে একটি তারা উঁকি মারে জানলায়,
টলোমলো পায়ে আঁধার পেরিয়ে সারারাত।
ভোরের কাকনিদ্রায় দেখি তারে মনে হয় যেন দু’হাত দূরে,
হঠাৎ মিলিয়ে যায় ঘুমপাড়ানির দেশে,
নিস্তব্ধ চারিদিক
শব্দগুলো সব শুষে নিয়ে নিঃসঙ্গ রাজপথ ,
শুয়ে …
সুধানিশির মেঘপাতায় তোমার নাম লেখা,
চন্দ্রদীপ জ্বেলে রাখে আমার অন্তরের গোপন বারান্দা।
শিউলিবেলা ঘুরে এসে ছুঁয়ে যায় তোমার পদচিহ্ন,
আমার বুকের কাব্যবনে জেগে ওঠে রঙফুলের ঢেউ।
তোমার কণ্ঠে ঝরে পড়ে নদীস্বরের মধুবৃষ্টি,
যা ধুয়ে দেয় সব …
কে তুমি লুকিয়ে গেলে আমায় দেখে
রাস্তাধারে গাছের আড়ালে,
চেনো নাকি আমায় তুমি আগে থেকে
কিংবা অচেনা ভেবে লুকালে।
আমি দেখেছি বলে মনে পড়ছে না,
কোথায় তুমি থাক;
আচ্ছা আমি ডাকছি তোমায় মা বলে…
নিরক্ষরের স্বরলিপি ফোটে কথার তালে বেতালে
জ্ঞানাঞ্জন শলকায় সে সব ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যথাতুর জনের হৃদয়গাথা কাব্য কাহিনি
ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রান্তীয় দেশের সীমানা এড়িয়ে
ভিন্ন কোন স্বর্গীয় দেশের মহাকাব্যে
প্রক্ষিপ্ত অধ্যায় যোজনায় আকুলিবিকুলি শুধু।
স্থবির মৃত্যুর ডাক …
যখন আমাদের আর দেখা হবে না
জেনো আমি চলে গেছি দূর
আমাদের বোনা কথাগুলোয় তুমি দিও সুর
লিখো তুমি গান, লিখো গল্প
লিখো প্রতিবাদ, হলেও অল্প
লিখো কীভাবে হারিয়ে গেলাম আমি বহুদূর
হারিয়ে গেল আমার …
অনেকদিন পর এসে ঝাঁপি খুলে দেখি-
ভেতরে আমার ঘরে ভগ্নদশা।
পলেস্তরা সেও খসে রঙের দেওয়ালে,
মাঝে মাঝে ফাটলের বিন্যাস খুঁজি!
সিঁধ কেটে যেন কেউ চুরি করে নেয়
তছনছ করে দেয় সঞ্চিত সম্পদ।
অপারগ সম্পর্ক দাগ কেটে …
অতশত আমি জানি না বাপু
ভয় ঠিক কারে কয়,
এইটুকু জানি, মনে মনে মানি,
আমি নির্ভীক অতিশয়।
ডাল ভাত খাই দুপুরে ঘুমাই
দেখি সন্ধ্যায় টক শো,
রবিবাসরীয় মাংসটি প্রিয়,
মাত্র কেজিতে আটশো।
ধৈর্য্য আমার পর্বতপ্রায়
সূর্যের …
কাল বিকেল থেকে প্রচুর বরফ পড়েছে।
যে লোকটা হাত সেঁকা আগুন জ্বালিয়েছিল,
আজ সকালে, বাসি বরফ সরাতে গিয়ে
কুড়িয়ে পেয়েছে দু’জোড়া ঠোঁট।
হাতের মুঠোয় নিতেই,
সেগুলো রঙিন প্রজাপতি হয়ে
উড়ে গিয়ে বসেছে পাহাড়ি ফুলের গায়ে।
আরেকটু …
শিউলি ছড়ানো শিশির ভোরে
হিমের পরশ মাখা,
স্নিগ্ধ বাতাসে মৃদুমন্দে দোলে
কাশফুলেরা একা।
শুভ্র শারদপ্রাতে
মর্ত্যে আসেন উমা,
মুখরিত আকাশ বাতাস
তার নেইকো উপমা।
ত্রিভুবনে সাজো সাজো রব
আনন্দময়ীর শুভ আগমনে,
পদধ্বনিত হয় বিশ্বভূবন
পটমণ্ডপদ্বারে মায়ের …
শূন্যতার শূন্যতম গর্ভে
আমি এক জন্মহীন ভাস্কর
নিজের ছায়াকেই খনন করে চলি
গাঁইতি আর কোদাল দিয়ে।
রক্ত ঝরে না
জেগে ওঠে শব্দহীন এক প্রত্নপ্রশ্ন
যার ব্যুৎপত্তি আজও অনাম্না।
ছেনি নয়
ব্যবহার করি বিস্মৃতির আলোকছায়া
হাতুড়ি নয়…
দমক হাওয়া চমক দিয়ে ছুটে বেড়ায় কাঁপিয়ে ভূমি-
গাছে পাতায় ঘরের চালে ডাক দিয়ে যায়
‘আমার তুমি’।
কানের পাশে ফিসফিসানি লোকের মুখে কানাকানি-
বাসের স্টপে পাড়ায় পাড়ায় রোদে ছায়ায়
জানাজানি-
নদীর বাঁকে আটকে থাকে সোহাগ ভরে…
মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা
