কখনও দুপুর

কবি: রাজীব চক্রবর্ত্তী

কখনও দুপুর আসে
শিকারী বিড়ালের খিদে নিয়ে,
চুপিসাড়ে খেলার সাথী হয়।
অতৃপ্ত শরীরের খসে আঁচল,
অচেনা আনন্দের প্রতিশ্রুতি
ভাসায় সোহাগ ভেলায়।

দুপুরের বুকে লুকানো নিষিদ্ধ ফলের
বিষণ্ণ বিস্বাদে অবসন্ন দেহ,
ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে থাকে
খোলসহীন পুতুলের মতো।…

অবকাশ

কবি: সৌরভ চক্রবর্তী

অবকাশ চাইতাম প্রতিদিন একসময়,
আজ সেই অবকাশই যেন বাধা।
দিন দিন হাঁপিয়ে উঠছি।
রাতের অবকাশ এখন
সারাদিনের অবকাশে পরিণত।

তোমার আমার সারাদেশের ঘরে
শুধুই অসুস্থতা হাসে।

নিশ্চিত ঘুম সময় পায় না
ভাবে আবোলতাবোল সারারাত!
কোথা হতে আসলো…

সিদ্ধার্থ সিংহ-এর দুটি কবিতা

সিদ্ধার্থ সিংহ

আমার লোক

দুর্গতদের ত্রাণের মালপত্র মাঝপথে বেচে দিলেও
ছাড়া পেয়ে যাবেন
যদি আমার লোক হন।
যদি আমার লোক হন
দেড় বছরেই দ্বিগুণ টোপ দিয়ে
জনগণের কাছ থেকে
তুলুন না যত খুশি টাকা।
ফাঁকা বাড়ি পেয়ে দিনে-দুপুরে দল বেঁধে …

পনেরোই অগাস্ট ও স্বাধীনতা

কবি: শিখা চক্রবর্তী

(১)

বাংলায় আড্ডা,
বাংলায় লেখালেখি
সেইখানে গিয়ে আমি
ভাবি শুধু কী যে লিখি

স্বাধীনতা নিয়ে লেখা
কত আগে হল চাওয়া
লেখার সে ম্যুডটাকে
যায়নি-তো বাগে পাওয়া

আজ সকালেতে সেই
ম্যুড যেই‌ দিলো ধরা
স্বাধীনতা নিয়ে ভাবি
যদি …

একটা শরীর বড় হয়ে যায়

কবি: রাজীব চক্রবর্ত্তী

প্রসারিত দৃষ্টির সীমা ছাড়িয়ে
কখন যেন একটা শরীর অনেক বড় হয়ে যায়,
ছোট হয়ে পড়ে থাকে আলোয়ানের মাপ।
দেয়ালে ঝোলানো রঙচটা ফতুয়ায় লেগে থাকা ঘামের গন্ধ
সারা পৃথিবীর সোঁদা মাটির নেশা ছড়িয়ে,
ঘাসের বীজ হয়ে বন্ধ ঘরে …

শাঁখের করাত

কবি: শিখা চক্রবর্তী

কোভিড বিদায় নেবে যখন
সবাই বসে ভাববে তখন
কেমন ছিলাম আগের দিনে
সেখান থেকে হলাম কেমন

স্কুল, কলেজ আর অফিস ছিল
হাজির হবার তাগিদ ছিল
হপ্তা শেষে রেস্তোরাঁতে
নানান স্বাদের খাবার ছিল

শপিং হতো জিমও হতো
সিনেমা …

আমি

কবি: সৈকত নাগ

যা বিশ্বাস করি
তা লিখি না। যা লিখি
তা বলি না।

যা স্বততঃ বলি
তা বিশ্বাস করি না।

যা বিশ্বাস করি
তা পালন করি না।

দেখেছি,
নিন্দা করে যারা
তারা ক্ষমা করে না।

ক্ষমা করে যারা
তারা …

কোনো কোনো তারা থাকে

কবি: ঋষা ভট্টাচার্য

কোনো কোনো তারা থাকে
যারা গ্রহের ঘুম কেড়ে নেয়।
বাতাসে বিষাক্ত সুরে গোটা গোলার্ধ
গ্রাস করে।

এমন শক্তিশালী তারাদের দেশ
কাল সময় অনেক আগেই নির্ধারিত করে
মানুষ। পুঁথিতে লিখে রাখে আগন্তুকের নাম,
তার কার্যাবলী।
তাদের প্রাণদাতা পাপপুণ্য …

আর জন্মে গাছ হব

কবি: রাজদীপ নায়ক

তোমার মনোরঞ্জন করা ছাড়া, কী বা সামর্থ্য আছে তোমার প্রেমিকের?
কতটুকু ভালবাসা দেওয়া যায় একজীবনে, কে তার হিসাব করবে বিকৃত ভাবনার?
তোমার ঐশ্বর্য লুন্ঠন করে যে প্রেমিক
তাকে দেখিয়েছো কখনো তোমার যুগল চোখ।
সে কি অনুভব!
নগ্ন …

অমৃতস‍্য

কবি: শৈলেনকুমার দত্ত

যে কোনো পথ দিয়ে হেঁটে যায় ছেলেটি
খানাডোবা চোরাগলি রাজপথ রেস্তোরাঁ শ্মশান মসান
কত রাত কেটে যায় আনমনে দাগ কেটে নদীর গভীরে
অবিন‍্যস্ত চুলদাড়ি, চোয়ালে ফেনিয়ে ওঠা কুড়ি বছরের ক্রোধ
দেখে তবু বোঝা যায় আজও কোনো কবিবন্ধু

জোড়া পদ্য

কবি: শুভ জিত দত্ত

তুমি সেরা

তুমি সেরা

ব্যার্থতা সব দূরে ঠেলে
তুমি যাচ্ছ আপন মনে,
শত বাধা জয় করেছো
আপন মনের জোরে।
থামোনি তো পথের মাঝে
চলছো আপন ছন্দে,
ভয় পেয়ে যাওনি সরে
এগিয়েছো বারে বারে।
কাজ দেখে অবহেলা
তোমার মাঝে …

যখন সন্ধ্যা নামে….

কবি: গোবিন্দ মোদক

সন্ধ্যা নামছে দিনের শেষে গ্রাম-বাংলার বুকে,
নদীর ধারে চাঁদ উঠছে পূব আকাশে ঝুঁকে।

মাঠের থেকে ফিরছে রাখাল গোরু নিয়ে ঘরে,
রাখালিয়া বাঁশির সুরে মন যে কেমন করে।

পাখিরা সব ফিরছে বাসায় ফিরছে ঘরে চাষি,
ফুটছে তারা একটি-দু’টি …

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up