লেখক : আজাহার রাজা
জীবন, কেবল শ্বাসপ্রশ্বাসের জৈবিক অনুক্রম নয়,
মহাকালের অন্তঃশিলায় উৎকীর্ণ
অনির্বচনীয় কিংবদন্তির নাম,
যেখানে জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী ক্ষণকাল
অমরত্বের অনুশীলনে রূপান্তরিত হয়।
প্রেম, সেই কিংবদন্তির অবিনশ্বর বাহন,
সময়ের নির্দেশে ঘোরে না যার চক্র,
ঘোরে চৈতন্যের অন্তঃসূর্য থেকে উৎসারিত
অনাহত অনুরাগের মহাজাগতিক আবর্তনে।
মানুষ অন্নে বাঁচে, অন্ন তাকে ইতিহাস দেয় না;
মানুষ জ্ঞানে সমৃদ্ধ, জ্ঞান তাকে অনন্ত করে না;
মানুষ ক্ষমতায় উচ্চাসনে আরোহণ করে,
ক্ষমতার প্রাসাদ একদিন ধূলিতে বিলীন হয়।
শুধুমাত্র প্রেম ক্ষয় অতিক্রম করে অর্থ নির্মাণ করে,
বিস্মৃতিকে পরাজিত করে স্মৃতির চিরন্তন স্থাপত্য গড়ে;
এবং মৃত্যুর শীতল সমাধিক্ষেত্রেও জ্বালিয়ে রাখে
উষ্ণ মানবিকতার অম্লান প্রদীপ।
প্রেম আবেগ নয়, অস্তিত্বের সর্বোচ্চ নন্দনতত্ত্ব,
আত্মা ও আত্মার মধ্যবর্তী অদৃশ্য সেতুবন্ধনের মহাশাস্ত্র।
প্রেম পরাজয়ও গৌরবময়, দারিদ্র্যও দীপ্তিমান,
অশ্রুও হয়ে ওঠে অন্তর্লোকের পবিত্রতম অভিষেক।
প্রেমহীন প্রজ্ঞা শীতল নক্ষত্রের মত আলোকিত, অনুর্বর;
প্রেমহীন শক্তি মরুভূমির ঝড়, প্রচণ্ড জীবনবিরোধী।
জীবন সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কিংবদন্তি হয়,
অন্তঃস্থলে অনিবার্যভাবে জ্বলতে থাকে প্রেম;
প্রেমই একমাত্র অগ্নি যা দহন করেও ধ্বংস করে না,
ভস্মের অন্তরাল থেকে নবজন্মের সম্ভাবনা জাগায়।
প্রেম, কিংবদন্তির চিরচলমান রথ, মানবতার অন্তহীন অভিযাত্রা;
অশ্বসমূহ টানে না কোন রাজ্যলোভ,
মানুষের হৃদয় আশ্রয় পায় অন্য হৃদয়ে,
ক্ষণস্থায়ী জীবন চিরন্তনের স্পর্শে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে।
লেখক পরিচিতি : আজাহার রাজা
আজাহার রাজা: শুদ্ধতার কবি আজাহার রাজা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন স্বতন্ত্র কাব্যশিল্পী, যাঁর কবিতা শুদ্ধতা, মানবিকতা ও আত্মোপলব্ধির অনন্য দৃষ্টান্ত। শৈশবে প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির প্রতি অনুরাগ তাঁকে সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অনিশ্চিত যাত্রা। আজাহার রাজার কবিতায় জাগতিক সীমা ছাড়িয়ে দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের মেলবন্ধন ঘটে। শব্দের নিপুণ ব্যবহারে তাঁর রচনাগুলো গভীর জীবনবোধের বহিঃপ্রকাশ। তিনি সমাজের ভণ্ডামি ও মানবতার সংকটকে তীক্ষ্ণভাবে উপস্থাপন করেন, যা পাঠককে আত্মজিজ্ঞাসায় উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃতি, প্রেম ও সমাজবোধে পরিপূর্ণ তাঁর কবিতা এক মহাজাগতিক অনুরণন সৃষ্টি করে। শুদ্ধতার কবি হিসেবে আজাহার রাজা বাংলা সাহিত্যে বিরাজমান, যাঁর সৃষ্টিশীলতা যুগ যুগ ধরে পাঠকের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করবে।

